ঢাকা, শনিবার 03 June 2017, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ৭ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রমযান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ

আসাদুজ্জামান আসাদ : রমজান মাস, তাকওয়ার মাস। খোদা ভীতির মাস। আত্মশুদ্ধির মাস। কোরআন নাজিলের মাস। এই মাস, সম্মান ও মর্যাদার মাস। এ মাসের গুরুত্ব ও মর্যাদা অপরিসীম। রমজান মাস ইবাদতের মাস। এ মাসে ইবাদত বন্দেগী করলে  অন্যান্য মাসের তুলনায় কয়েকগুণ বেশী সওয়াব লাভ করা যায়। মুসলমানদের মধ্যে যারা অন্য মাসে ইবাদত-বন্দেগী করতে অলসতা বা অবহেলা করে, তারা এ মাসে ইবাদত বন্দেগী করার জন্য অনেকটা সক্রিয় হয়ে উঠে। সব ইবাদত মন-প্রাণে যথাযথ ভাবে করার চেষ্টা করে। ১২ মাসে এক বছর।
যাক সে সব কথা। আজকে আমার আলোচ্য বিষয় হলো ‘রমজান মাসে বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণ’। রমজান মাস আসলে আমাদের মাঝে একটা আনন্দের ঢেউ উঠে। আমরা সবাই অধিক মুনাফা লাভের কোন না কোন ব্যবসা বানিজ্য করার জন্য উঠে পরে বসি। বাজারে সব দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি করি। যা কিনতে সাধারণ ক্রেতাদের ক্ষমতা নাগালের বাইরে চলে যায়। আমাদের সমাজে যেমন নিত্যদিনে খুন,হত্যা,গুম ইত্যাদি ঘটনা ঘটছে। যারা এ সব কর্ম করে তাদেরকে আমরা অপরাধী বলি। আসলে তারা অপরাধী। অপর দিকে আমরা মানুষ আল্লাহ্র সৃষ্টি সেরা জীব। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী অতি মুনাফার জন্য সাধারন মানুষ কে ন্যয্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছি। তারা চাল,মাছ মাংস, ছোলা, ডাল, তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যম্যল্যের দাম বুদ্ধি করছি। দাম বৃদ্ধি করা বড় অপরাধ। এ অপরাধ ছোট খাটো কোন অপরাধ নয়। চলমান সমাজে বা বাজারে মানুষের খাদ্য সংকট সৃষ্টি করা বা মানবতাকে খাদ্য সংকটে ফেলা কবিরা গুনাহের  মধ্যে পরে। ব্যক্তি বা ব্যবসায়ী যারা কবীরাহ গুনাহ করে  ইসলামী বিধি মোতাবেক  তাদেরকে তওবা করতে হয়। মহান আল্লাহ্ তাআলা তওবা ছাড়া কবীরাহ গুনাহ ক্ষমাহ করেন না।  
মহান আল্লাহ্ তাআলা বান্দার কল্যাণের জন্য রমজান মাস কে  তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন। যথা রহমাত, মাগফিরাত এবং নাজাত। যারা রমজানের রহমত, মাগফিরাত এবং নাজাতের আশা করেন, সে সব মুসলমান ব্যক্তি বা ব্যবসায়ী  দ্রব্যে মূল্য বৃদ্ধি করে কৃত্রিম সংকট তৈরী করতে পারেন না।  কৃত্রিম সংকট তৈরী করা মারাত্মক গুনাহ। রমজান মাস। পুণ্যের মাস। এ মাসে সারা পৃথিবীতে দ্রব্যে মূল্য স্থিতি রাখা হয়। রোজাদার ব্যক্তির প্রয়োজনী দ্রব্যে যেমন ছোলা, চিনি, মাছ, মাংস এবং অন্যান্য দ্রব্যের মূল্য নাগালের মধ্যে রাখা হয়ে থাকে। অথচ আমাদের দেশে সম্পূর্ণ তার  বিপরীত। অথচ আমাদের দেশ মুসলিম দেশ। রমজান মাসে এ দেশে কোটি কোটি মুসলমান ভাই বোন রোজা, নামাজ এবং তারাবিহ আদায় করেন। রাত জেগে তাহাজ্জুদ নামাজ এবং কোরআন তেলাওয়াত করেন। রোজাদার ব্যক্তিকে পানাহার করারন। প্রতিদিন প্রত্যেক ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, অফিসার, কর্মচারী এবং সব শ্রেণীর সাধারণ মানুষ সমানভাবে  রমজান মাসকে সম্মান করে সিয়াম পালন করে। হাটে বাজারে দেখি এক শ্রেণীর মুসলমান ব্যক্তি, ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা লাভের জন্য হঠাৎ করে রাতারাতি দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি করে রাতা রাতি কোটিপতি শিল্পপতি হয়ে উঠেন। যারা সামান্য লাভের জন্য খাদ্য দ্রব্যে সংকট সৃষ্টি করে, মানব জাতির আহার ও ভোগের বিরোধিতা করে বাজারে সংকট সৃষ্টি করে কোটিপতি বা শিল্পপতি হয়ে যায়, তাদের জন্য এ ধরনের আয় সম্পূর্ণ হারাম।  বাজারে খাদ্য ও ভোগের  দ্রব্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে আয় করা ইসলামী শরীয়তে তারা অপরাধী। এ অপরাধে যারা নিয়োজিত তাদের শাস্তি দেশের আইনে এবং ধর্মে আছে।
ইসলাম শান্তির ধর্ম। এ ধর্মে সবার অধিকার সমান। ইসলাম ধর্মে ব্যবসাকে হালাল এবং  দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি ও গোডাউন জাত করাকে হারাম করেছেন। ধর্ম, বর্ণ গোত্র নির্বিশেষে ব্যবসায়ে অনৈতিক আচরণ ও সমাজকে অস্থির করা অবৈধ। যারা এ সব অপরাধ করে  তারা আমাদের সমাজে এবং বাজারে বড় ধরনের অপরাধী। ব্যবসা, বাণিজ্য, কারখানা এবং শিল্প প্রতিষ্ঠান এসব কিছু মানুষের কল্যাণের জন্য নিধারিত। কোন ব্যবসা, কারখানা বা শিল্প প্রতিষ্ঠান নিজের স্বার্থকে ঠিক রেখে মানুষ বিরোধী প্রতিষ্ঠান হতে পারে না। বাজারের প্রত্যেক ব্যক্তি বা ব্যবসায়ীদের উচিৎ ব্যবসাকে ব্যবসার যথাযথ নিয়মে পরিচালিত করা। ব্যবসা যেন কোন ক্রমে হারাম এবং অবৈধ পন্থায় না হয়। ব্যবসায়ীরা অবশ্যই লাভ করবে। তবে সীমা রেখা অতিক্রম করে নয়। মুসলমানদের ব্যবসা হবে বিশ্ব নবী (সাঃ) এর সাহাবীদের মত। আমরা শুধুমাত্র দুনিয়াকে প্রধান্য না দিয়ে ইসলাম ও মানবতার কল্যানে রোজাদারদের সহযোগিতার জন্য সব সময় এগিয়ে আসি। তবে  অন্য কোন ধর্মের মানুষকে সংকটে ফেলা যাবে না। কেননা ইসলাম ইনসাবের ধর্ম। এখানে সবার অধিকার সমান। আমাদের সমাজে ব্যবসায়ীরা সম্মানের পাত্র।
তারা বাজার,সমাজ এবং রাষ্ট্রকে স্খির ও অস্থির দু’টোই রাখতে পারে। তারা দেশ প্রেম, মানব প্রেম এবং জাতির প্রতি মায়া-মমতা দেখাতে পারে আবার এর বিরোধিতা করতে পারে। ব্যবসায়ীরা যদি সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবসা করে তবুও তারা প্রচুর মুনাফার মালিক হচ্ছে। কথায় বলে, হারামে বরকত নেই। অপর দিকে হালাল ও ন্যয্য ব্যবসার শান্তি ও সুখ অন্য রকম।
পরিশেষে বলতে চাই যে অধিক মুনাফার লোভটা চেড়ে দিয়ে বাজার স্বাভাবিক রেখে ব্যবসা-বানিজ্য সঠিক ভাবে পরিচালনা করি। রোজাদার ব্যক্তির জন্য সহযোগিতার দু’হাত সম্প্রসারণ করি। মানুষ ও মানবতার কল্যাণে নিজেকে তুলে ধরার চেষ্টা করি। বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করি।
-গ্রন্থকার ও সাংবাদিক

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ