ঢাকা, শনিবার 03 June 2017, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ৭ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বাজারে ভেজাল খাদ্যের ছড়াছড়ি

আবু মুনীর : রমযানে দ্রব্যমূল্য ইংরেজি হলো Merchandise Price in Ramadan. রমযান হিজরী সনের নবম চন্দ্র মাস। এই মাসে মহানবী (সাঃ) জীবন্ত মোজিযা আল-কোরআন প্রাপ্ত  হন। শবেকদর এ মাসে রয়েছে। বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠানের মূলে যেমন বর-কনে ঠিক তেমনি মাহে রমজান অনুষ্ঠানের মূলে আল  কোরআন ও শবেকদর । বিয়ে অনুষ্ঠান উপলক্ষে যেমন বর কনে ও তাদের বাড়ি ঘর সাজানো হয় ঠিক তেমনি রমযান আগমন উপলক্ষ্যে শয়তানকে শিকল বন্দি করা হয় ও সংযমের ঘোষণা দেওয়া হয় এবং জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় ও জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। রময়ান মাসে রোযা মহান আল্লাহ্ নিয়ামত।
নৈতিক ও আধ্যনিত্মক শক্তি অর্জনের পাশাপাশি পরিপূর্ণ মানুষ হিসাবে গড়ে উঠার মানবিক গুনাবলী সিয়াম সাধনার মাধ্যমে বিকশিত হয়। স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির গভীর সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
শুরু হয়েছে রোযা। সামনেই বাজেট। এর প্রভাব পড়েছে বাজারে। ভোগ্য পন্যের দাম বাড়াচ্ছে অসাধু ব্যবসায়িরা। এটা সিন্ডিকেটের কারসাজি। গত ছয় বছরের মধ্যে এবার সর্বোচ্চ পরিমাণ ভোগ্যপণ্য আমদানী করা হয়েছে। রমযানে ভোগ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার গ্যারান্টিও দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। কিন্তু কই? খোলা বাজারে TCB (Trading Corporation of Bangladesh) এর পণ্য বিক্রি শুরু হওয়ার আগেই বাজারে দাম  বেড়ে গেছে হু হু করে।  TCB-এর পণ্যের রয়েছে সীমাবদ্ধতা।
 দৈনিক সংবাদের ২৭/০৫/২০১৭ তারিখের সংখ্যার ১ম পৃষ্ঠায় গৌতম ঘোষ এর লিখা একটি প্রতিবেদনে শিরোনাম করা হয়েছে “রমজান শুরু কাল, ভোক্তাদের জন্য সুখবর নেই, নির্ধারিত মূল্য মানছেন না ব্যবসায়িরা” উক্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে “দেশের ৫ থেকে ৭টি বড় কোম্পানি এক চেটিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে,................” তাহলে কি আমরা আবার কোম্পানির শাসনের দিকে ধাবিত হচ্ছি? না কি বর্তমান অগণতান্ত্রিক সরকারের বিলাসী বাজেট আমাদের কে চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে?
বাণিজ্যমন্ত্রী, শিল্পমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পণ্যবাহী ট্রাকে পথে পথে চাঁদাবাজির খবর কি রাখেন না? এভাবে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় পবিত্র রমযান মাসে স্বল্প ও সীমিত আয়ের মানুষের তো দফা রফা শেষ। বাজারে ভেজাল খাদ্য দ্রব্যের ছড়াছড়ি তো রয়েছেই। খাবার মানেই যেন আতঙ্ক।
কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে রমযানের খাদ্যে ভেজাল মিশানো প্রতিরোধ করা দরকার। এবারের রোযায় হাওর এলাকায় প্রায় অর্ধকোটি মুসলিম নর-নারী তাদের ফসল হারিয়ে অসহায় অবস্থায় রোযা পালন করছে। তাদের কে বিশেষ ছাড় মূল্যে রমযানের দ্রব্য সামগ্রী সরবরাহ করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে আহ্বান জানাচ্ছি। আয়লা পীড়িত উপকূলবাসী সুপেয় পানীয় জলের অভাবে ইফতারির সময় খুবই কষ্ট পাচ্ছেন।
তাদের সুপেয় পানীয় জলের আধার গুলো ৭ বছর পরও সঠিকভাবে পানীয় জলের যোগান দিচ্ছেনা বিধায় মাইলকে মাইল পথ পাড়ি দিয়ে তাদের সুপেয় পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এটি পবিত্র রমযান মাসে আয়লা পীড়িত এলাকার রোযাদাদের জন্য খুবই কষ্টের বিষয়। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া খুবই জরুরী।
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলের করিম  (সাঃ) ঘোষণা করেছেন, যে লোক রমযান মাসের রোযা রাখবে ঈমান ও চেতনা সহকারে
(সওয়াবের আশায়) তার পূর্ববর্তী গুনাহগুলো মাফ হয়ে যায়। (বুখারী ও মুসলিম)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ