ঢাকা, রবিবার 04 June 2017, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ৮ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জম্মু-কাশ্মীরে সেনাবাহিনীর কনভয়ে স্বাধীনতাকামীদের হামলায় ৬ ভারতীয় সৈন্য হতাহত

৩ জুন, পার্সটুডে : জম্মু-কাশ্মিরে সেনাবাহিনীর গাড়িবহরে স্বাধীনতাকামী হামলায় এক সেনা জওয়ান নিহত এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার সেনাবাহিনীর কনভয় জম্মু থেকে শ্রীনগরের দিকে যাওয়ার সময় ওই হামলা হয়। জম্মু-শ্রীনগর মহাসড়কে কাজিগুন্ড এলাকায় স্বাধীনতাকামীরা সেনাবাহিনীর গাড়িবহরকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলীবর্ষণ করলে সেনাবাহিনীর ছয় জওয়ান গুরুতর আহত হন। পরে আহতদের মধ্যে দু’জন মারা যান। ওই ঘটনার পরে সেনাবাহিনী গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে হামলাকারীদের ধরার জন্য ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেছে। সম্প্রতি কাশ্মিরে হামলা বাড়ার পাশাপাশি সেনাবাহিনীও পাল্টা অপারেশন জোরদার করেছে। গত সপ্তাহেই জম্মু কাশিরের ত্রালে হিজবুল মুজাহিদীন কমান্ডার সাবজার আহমেদ ভাট নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন। সেনাবাহিনী কাশ্মির উপত্যাকায় সক্রিয় 'দুর্ধর্ষ ১২ স্বাধীনতাকামীর তালিকা তৈরি করেছে। সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত জম্মু-কাশ্মিরের গভর্নর এন এন ভোরার সঙ্গে রাজ্যের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে তাকে অবগত করান। তার সঙ্গে সেনাবাহিনীর তিন শীর্ষ কমান্ডার এবং কয়েকজন সিনিয়র লে. কর্নেল উপস্থিত ছিলেন। জেনারেল রাওয়াত দুই দিনের জম্মু-কাশ্মির সফরে করছেন। তিনি এখানে নিরাপত্তা পর্যালোচনাসহ অপারেশনাল প্রস্তুতি খতিয়ে দেখছেন। রাজ্যে সেনাবাহিনীর প্রধানের সফরের সময়ে স্বাধীনতাকামীদের ওই হামলা চালানোর ঘটনা তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এদিকে জম্মু-কাশ্মিরে গত শুক্রবার জুমা নামায শেষে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখিয়েছে প্রতিবাদকারীরা। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটায়। শ্রীনগরের নৌহাট্টা এলাকায় জুমা নামায শেষে তরুণরা ‘স্বাধীনতা’র দাবিসহ ভারত বিরোধী স্লোগান দেয়। নৌহাট্টা চকে তরুণরা জড়ো হয়ে স্বাধীনতাকামীদের সমর্থনে স্লোগান দেয়াসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হিজবুল মুজাহিদীন কমান্ডার সাবজার আহমেদ ভাটের সমর্থনে স্লোগান দেন। এসময় বিক্ষোভকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়লে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটানোসহ স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে।
সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে দৈনিক সংবাদত্রের এক চিত্রগ্রাহক আহত হলে তাকে স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। বারামুল্লার সোপরেও জুমা নামায শেষে প্রতিবাদকারীরা ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান। এখানেও বিক্ষোভকারীরা ‘আজাদি’র দাবিতে স্লোগান দেয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে পাথর ছোঁড়ে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটিয়ে পরিস্থিতি আয়ত্তে আনার চেষ্টা করে। বিক্ষোভকারীরা সম্প্রতি নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত দুই গেরিলা আইয়াজ আহমেদ মীর এবং বাশারাত আহমেদ শেখের সমর্থনে স্লোগান দেন। কুপওয়াড়ার ত্রেহগামে মার্কাজি জামিয়া মসজিদ চত্বরে জড়ো হয়ে ‘আজাদি’র দাবিতে স্লোগান দেয়াসহ নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এসময় সড়কে যান চলাচল থেমে যায় এবং দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ