ঢাকা, রবিবার 04 June 2017, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ৮ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সুন্দরবনের পাঁচটি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে একটি ব্যবহার অনুপযোগী

খুলনা অফিস : সুন্দরবন এলাকার পাঁচটি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে একটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অন্য চারটিতে দুর্যোগকালীন প্রায় তিন হাজার লোকের ঠাঁই হলেও বাকি জেলে ও বাওয়ালিদের আশ্রয় নিতে হয় ট্রলার, নৌকা ও সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছে।
জাতীয় মৎস্য সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন বলেন, বঙ্গোপসাগরে জলোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় জেলে ও বনজীবীদের একমাত্র আশ্রয়স্থল ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র। অথচ সুন্দরবনে আশ্রয়কেন্দ্র মাত্র পাঁচটি। তাও একটি ব্যবহার অনুপযোগী। আর গত ৮ বছরেও কোনও আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ বা সংস্কারও করা হয়নি। এতে সেখানকার জেলে, বনজীবী ও পর্যটকরা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। সুন্দরবনের কাছে মংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের মৎস্য ব্যবসায়ী মো. কাজল জানান, জেলেদের জন্য কমপক্ষে ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা প্রয়োজন।
৯০’ দশকে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কারিতাসের সহায়তায় সুন্দরবনে নির্মিত আশ্রয়কেন্দ্রগুলো হলো পূর্ব সুন্দরবনের দুবলারচর, শেলার চর, মাঝের চর, মেহেরআলীর চর ও আলোরকোল আশ্রয়কেন্দ্র।
বনবিভাগ ও জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বছরের প্রায় ছয় থেকে সাত মাস বনজ সম্পদ, মৎস্য আহরণ ও শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ কাজে সাগরে নিয়োজিত থাকে অধিকাংশ জেলেরা। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সুন্দরবন ও সমুদ্রে মৎস্য আহরণের কাজে আসা হাজার-হাজার জেলে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মৎস্য আহরণ করেন।
জাতীয় মৎস্য সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন বলেন, সুপার সাইক্লোন সিডর, আইলা, মহাসেনের মত ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মধ্যে তাদের জীবন-জীবিকার জন্য লড়তে হয়েছে। সিডর পরবর্তী গত ৮ বছরেও কোনও আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও সংস্কার না করায় দু-একটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
পশুর নদীর ওয়াটার কিপার নুর আলম শেখ জানান, প্রতি বছর বনের খালগুলোতে মাছ ধরতে এবং শুঁটকি মওসুমে সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগর এলাকায় লক্ষাধিক জেলে জীবিকার জন্য নিয়োজিত হয়। প্রতি মওসুমে সরকার জেলেদের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করলেও দুর্গম ওইসব চরাঞ্চলে জেলে-বনজীবীদের জন্য নেই আশ্রয়কেন্দ্র।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) সাইদুল ইসলাম জানান, বেসরকারি সংস্থা কারিতাসের উদ্যোগে যে আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছিল সেগুলো সে অবস্থাতেই রয়েছে। পাঁচটি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে একটি অনেক আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি চারটি আশ্রয়কেন্দ্ররও অবস্থাও নাজুক। সেখানে আশ্রয় নিলে ঝুঁকির মধ্যেই থাকতে হয়। তবে নতুন আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও পুরাতনগুলো সংস্কার করতে বনবিভাগের পক্ষ থেকে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঝিনাইদহে সেপটিক ট্যাংক থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার
খুলনা বিভাগের ঝিনাইদহে নিখোঁজের তিনদিন পর মনোয়ারা বেগম (৫০) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার সকালে শহরের উপশহর পাড়ার খায়রুল আলমের বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি একই পাড়ার দলিল লেখক আব্দুর রহিমের স্ত্রী। এ ঘটনায় এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ।
ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হরেন্দ্রনাথ সরকার জানান, মনোয়ারা বেগম মঙ্গলবার সকাল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর শুক্রবার সকালে পাশের বাড়ির খায়রুল আলমের সেপটিক ট্যাংক থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রতিবেশী আদিলুদ্দিনের স্ত্রী পারুল বেগমকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, পারুল বেগমরে সঙ্গে মনোয়ারা বেগমরে সমিতির কিস্তির টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এর জের ধরে এ হত্যাকান্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ