ঢাকা, রবিবার 04 June 2017, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ৮ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আমতলীতে দুই লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় ৫ ডাক্তার!

আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা : বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স ও ট্রমা সেন্টারটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। দুই লক্ষাধিক মানুষের জন্য রয়েছেন মাত্র ৫ জন ডাক্তার। এ অঞ্চলের অসহায়, হতদরিদ্র পরিবাররা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এক তথ্যে জানা গেছে, আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ২১ জন এমবিবিএস ডাক্তারের পদ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে ১৬ টি পদই শূন্য রয়েছে । বর্তমানে ৫ জন ডাক্তার দিয়ে ২ লক্ষাধিক মানুষের নাম মাত্র চিকিৎসাসেবা চলছে। ফার্মাসিস্টের ২টি পদের ১টি শূন্য, মেডিক্যাল টেকঃ ল্যাবের ৩টি পদের ২টিই শূন্য, ফিজিওথেরাপি ১টি পদের ১টিই শূন্য, অফিস সহকারী কামঃ টাইপিস্টের ৩টি পদের ২টিই শূন্য, একাউন্ট্যান্টের ১টি পদের ১টিই শূন্য, জুনিয়র মেকানিকের ১টি পদের ১টিই শূন্য, কমপাউন্ডারের ১টি পদের ১টিই শূন্য, কারডিওগ্রাফারের ১টি পদের ১টিই শূন্য, পিয়নের ৪টি পদের ১ জন প্রেষণে সিএস অফিসে, সুইপারের ৫টি পদের ২ জনই প্রেষণে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে।
এমপি, ভিজাল, সিআরপি, এইসসিভি, কোলেস্টারল, এইচডিএল, এলপিএল, টিজি, ইউরিয়া, ক্রিটিনিয়া, গ্লুকোজ, এসজিপিটি, এসজিওটি ও ক্যালসিয়াম রি-এজেন্ট টেস্ট করার জন্য ক্লোরিমিটার মেশিন বা অ্যানালাইজার মেশিন না থাকায় এসব রোগীদের ভোগান্তি হচ্ছে এবং রি-এজেন্টগুলো সংরক্ষণের জন্য একান্ত প্রয়োজন প্যাথলজিক্যাল । আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন না থাকায় রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালে গাইনী বিশেষজ্ঞ মহিলা ডাক্তার না থাকায় মহিলাদের অনেক জটিল রোগের চিকিৎসা হচ্ছে না। কান, গলা, নাক, অর্থপেডিক্স, হার্ট, চক্ষু ডাক্তার ও যন্ত্রপাতি না থাকায় এসব রোগীর অনেকেই অর্থের অভাবে বাইরে থেকে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে উপকূলীয় অঞ্চলে হতদরিদ্র ও জেলে পরিবাররা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। হাসপাতালটি পটুয়াখালী ও বরগুনা দুই জেলার মধ্যস্থানে অবস্থিত। অপরদিকে প্রসূতিরোগীরা আমতলী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হলে তাদের কৌশলে প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে এবং তাদের কাছে থেকে মোটা অংকের টাকার মাধ্যমে প্রাইভেট ক্লিনিকে ডেলিভারী করানো হয়। এ কাজে হাসপাতালের একটি গ্রুপ জড়িত বলে তথ্যসূত্রে জানা যায়। টয়লেট-পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবহারের অবস্থা নেই। রোগীদের খাবারসহ সেবারও কোনো মান নেই।বিদ্যুতের লো-ভেল্টেজে হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কাজের নিশ্চয়তা নেই। নিজস্ব জেনারেটরের ব্যবস্থা নেই। জরুরি বিভাগে টাকা দাবি করেন কর্তব্যরতরা এতসব নাই নিয়ে চলছে হাসপাতালটির সেবা কার্যক্রম।
কলাপাড়া, বরগুনা ও পটুয়াখালীর অসংখ্য রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। বিশেষ করে কুয়াকাটা-ঢাকা ও বরগুনা-ঢাকা ও আমতলী-ঢাকা মহাসড়কের যানবাহন দুর্ঘটনায় আহত রোগী প্রতিদিন এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এলেও ডাক্তার, যন্ত্রপাতি ও ওষুধের অভাবে চিকিৎসা থেকে রোগীরা বঞ্চিত হচ্ছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগী মনি আক্তার জানান, হাসপাতালের মধ্যে ফ্যান ও লাইট নষ্ট। এ ছাড়া ডাক্তারদের বসবাসের জন্য কোয়াটার গুলো বসবাস অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসকের বাসভবনের অবস্থা অত্যান্ত নাজুক হওয়ায় তিনি বাহিরের ভাড়া বাসায় থাকেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোহম্মদ আবদুল মতিন বলেন, অভিযোগ সম্পর্কে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন দ্রুত এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য লোকবল দরকার। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়গুলো যথারীতি বারবার অবহিত করে যাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন।
আতঙ্কিত এলাকাবাসী
১৫ দিনে ১১ গরুর মৃত্যু
বরগুনার তালতলী উপজেলার লাউপাড়া গ্রামে ১৫ দিনে গ্রামে অজ্ঞাত রোগে হঠাৎ করে পরপর ১১ টি গরু মারা যাওযায় এলাকায় ব্যাপক আতংক বিরাজ ছড়িয়ে পরেছে। স্থানীয় সূত্র জানায় গত ১৫ দিনে মো. বেলাল খানের ১টি, ফোরকান ফরাজীর ১টি, আজিজ ফরাজীর ১টি, শাহিন ফরাজীর ১টি, আমজেদ খানের ১টি, কালু হাওলাদারের ১টি, আলমগীর মিয়ার ১টি, কালাম ডাক্তারের ১টি, কবির মিয়ার ২টি এবং জাহাঙ্গীর খান ১টি গরু মারা যায়। এখন পর্যন্ত রোগ সনাক্ত করা যায়নি । তবে উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার সিকদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তর্কা বলে সনাক্ত করেছেন। জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ মোস্তুিফজুর রহমান জানান,আমি বিষয়টা জানিনা তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছি ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ