ঢাকা, রবিবার 04 June 2017, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ৮ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মঠবাড়িয়ায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ে আড়াই কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ে ব্যাপক অনিয়ম, সীমাহিন দুর্নীতি ও  মোটা অংকের টাকার বিনিময় অমুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্ত করে মন্ত্রণালয়ে  প্রেরণের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশ। গতকাল শনিবার সকালে  প্রেসক্লাবে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যুদ্ধকালীন ইয়ং অফিসার (সুন্দরবন অঞ্চল, ৯ম সেক্টর) মজিবুল হক খান মজনু। এসময় বক্তব্য রাখেন, সাবেক পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান  মোঃ সাদিকুর রহমান, ভারতের আমলানি যুব প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের পলিটিক্যাল মোডিভেটর  মোস্তফা শাহ আলম দুলাল, মুক্তিযোদ্ধা হালিম জমাদ্দার, জাহাঙ্গীর হোসেন ও ইয়াকুব আলী প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বাচ্ছু মিয়া আকনসহ ওই কমিটির অনেকেই অমুক্তিযোদ্ধা। উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নের বাদপড়া ৪০/৫০ জন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার স্থলে যাচাই কমিটি প্রায় আড়াই  কোটি টাকার বিনিময়ে ৩’শ জনের তালিকা করে  কেন্দ্রে পাঠানো হয়। যাতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা অনেকেই যাচাই বাছাই কমিটির দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেনি বলে অভিযোগ আনা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে স্থানীয় সংসদ সদস্য দুটি যুদ্ধাপরাধী মামলার আসামীসহ কয়েকজন অমুক্তিযোদ্ধার মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে কেন্দ্রে পাঠায় যাচাই-বাছাই কমিটি। এছাড়া অনেকেই অনলাইনে আবেদন করেও যাচাই বাছাই কমিটির সম্মুখে উপস্থিত না হলেও তাদেরকে বাড়ী থেকে ডেকে এনে প্রচুর টাকার বিনিময়ে নিজেরা প্রত্যয়নপত্র দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আরও অভিযোগ করা হয়, এক তালিকা ভুক্ত ১৩২ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে সরকারিভাবে আপত্তি দিয়ে যাচাই-বাছাই কমিটির সম্মুক্ষে উপস্থিত হবার জন্য দেয়া হায়েছিল কিন্তু  মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আপত্তি থাকা সত্যেও অধিকাংশ অমুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা ভুক্ত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
হামলা ও ফলদ গাছ কেটে  ফেলার অভিযোগ
জমি সক্রান্ত বিরোধের ধরে উপজেলার দক্ষিণ মিঠাখালী গ্রামে কৃষকের  বসত ঘরে হামলা ও ফলদ গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় প্রতিপক্ষের ভাড়া করা লোকজন কৃষক মজিবর রহমান ও তার স্ত্রী নুরবানুর ওপর হামলা চালিয়ে আহত করে। প্রতিপক্ষ আকব্বর হালাদার গং গাছ কেটে ও বসত ঘরে হামলা করেও ক্ষান্ত হয়নি উল্টো মজিবর ও তার পরিবারের লোকজনের  নামে থানায় মামলা করে বাড়ি ছাড়া করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হামলার স্বীকার মজিবর রহমান জানান, প্রতিবেশি আকব্বর হাওলাদারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে ৬৬ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধীয় জমির ওপর আকব্বর জোর পূর্বক রাস্তা নির্মাণ করে। এতে বাঁধা দিলে প্রতিপক্ষ আকব্বর ক্ষিপ্ত হয়ে ইমাম, মাসুদ, তানভীরসহ ৭/৮ জনের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে মজিবরের বসত ঘর ও ফলদ গাছ কেঁটে ফেলে।
মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ কেএম তারিকুল ইসলাম জানান, এঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্দপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ