ঢাকা, সোমবার 05 June 2017, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ৯ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিদেশের বাজারে বাংলাদেশের আমের চাহিদা বাড়ছে

এম এস শহিদ : আম বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় ফল। পুষ্টিকর ও সুস্বাদু ফল হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের দেশের আমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অনেক মনে করেন, আমাদের আদি নিবাস আমাদের এই বাংলাদেশ। বাংলাদেশ থেকে আম নানা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশের আমের গুণগত মান ভালো হওয়ায় ইইউভুক্ত দেশগুলোসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এদেশ থেকে আম কেনার আগ্রহ ব্যক্ত করেছে। বাংলাদেশ থেকে এ বৎসর অর্থাৎ চলতি মৌসুমে ইইউভুক্ত দেশগুলোসহ বেশ কয়েকটি দেশে প্রায় ৯০০ মেট্টিক টন আম রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এ বৎসর অর্থাৎ চলতি মৌসুমে ইউরোপে বাংলাদেশের আমের কয়েকটি চালান পৌঁছে গেছে। গত বৎসর বাংলাদেশ ৭৮৭ মেট্রিক টন আম ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি করেছিল। এর মধ্যে ইউরোপিয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে পাঠানো হয়েছিল ৫২০ মেট্রিক টন আম। এ বৎসরে ৮০০ থেকে ৯০০ মেট্রিক টন আম ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী চাষী ও রফতানিকারকরা জানিয়েছে। সুস্বাদু ও মিষ্টি মানের ফজলি, ল্যাংড়া, হিমসাগর, চোষা, ক্ষীরসাপাতি, আ¤্রপালি প্রভৃতি জাতের আমের কদর রয়েছে বিদেশে। বিদেশে আম রফতানির ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগের প্রণীত নীতিমালার আলোকে তৈরি অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়নের ওপর জোর দেয়া হয়েছে।
দেশের বেশকিছু নিবন্ধিত রফতানিকারকরা প্রতিষ্ঠান কন্ট্রাক্ট ফার্মিং এর মাধ্যমে আম চাষ করে ইউরোপসহ বেশ কিছু দেশে পাঠাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিশেষ করে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঈশ্বরদী, নাটোর, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা, দিনাজপুরের কৃষকেরা রেজিষ্ট্রেশন ফরমের মাধ্যমে চুক্তিবদ্ধ হয়ে রফতানিযোগ্য আম উৎপাদন করছেন। নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত আম উৎপাদনের সবক্ষেত্রে জিএপি [গুড এগ্রিকালাচারাল প্রাকটিস] ও এমআর এল [ম্যাক্সিমান রেজিডউয়্যাল লেভেল] পরীক্ষা করাসহ নানা সতর্ক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৩৪টি প্রতিষ্ঠান আম রফতানিকারক হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে। এ বৎসরে শিলাবৃষ্টির বিরূপ প্রভাবের পরও আমের উৎপাদন হয়েছে যথেষ্ট ভালো। এ মৌসুমে দেশে গতো বৎসরের মতো প্রায় ২০ লাখ মেট্টিক টন আম উৎপন্ন হয়েছে। গতো বৎসরের চেয়ে এ মৌসুমে অতিরিক্ত ১০০০ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়। এবার দেশে আম চাষ করা হয়েছে এক লাখ ৬৯ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে। গত মৌসুমে অর্থাৎ ২০১৫ সালে দেশের এক লাখ ৬৮ হাজার ৩১৭ হেক্টর জমিতে আম চাষ করে আম উৎপন্ন হয়েছিল ১৯ লাখ ৬৯ হাজার ৭৪২ মেট্রিক টন। ভোক্তার স্বার্থে এখন আম চাষিরা অনেক সতর্কতা অবলম্বন করছেন।
চাষিরা এখন বালাই দমনের জন্য স্প্রে দেয়ার কমপক্ষে ৪৫ দিন পর গাছ থেকে আম সংগ্রহ করছেন। সাধারণত কীটনাশক দেয়ার পর ৩১ দিন রেজিডিউয়্যাল ইফেক্ট থাকে। সেখানে ৪৫ দিন পর আম পাড়ার কারণে তা অনেকটাই নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত। আমে ফরমালিন দেয়া হচ্ছে এমন ধারনা এখন আর কার্যকর বলা যায় না। সিলগালা করা ছাড়া দেশের নানাস্থান থেকে আসা আম ঢাকায় প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। আমের উৎপাদন উৎসাহব্যঞ্জক হওয়ায় এবং এর বাজারজাতকরণে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ায় আমের বাজার একধরণের চাঙ্গা এবং চাষিদের মাঝেও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিদেশে আম রফতানি উদ্যোগ গ্রহণ করার পর থেকে দেশের অর্থনীতিতে আমের গুরুত্ব ও প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সরকারি ও বেসরকারি নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করায় বর্তমান বিশ্বে আম উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। উন্নতমানের সুস্বাদু আম বিদেশে রফতানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে। বিদেশের বাজারে বাংলাদেশের আমের কদর বজায় রাখতে হলে উৎপাদিত আম যথাযথ সংরক্ষণ এবং প্রক্রিয়াকরণের জন্য নানামুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। আর এ ব্যাপারে সরকারি-বেসকারি পর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ