ঢাকা, সোমবার 05 June 2017, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ৯ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শ্রীপুরের অদম্য ৪ জয়িতার গল্প

শ্রীপুর (গাজীপুর) সংবাদদাতা: উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্দ্যোগে এবং স্থানীয় ৮টি ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তায় হার না মানা অদম্য ৫ জয়িতা নারীর সন্ধান করে। পাঁচ ক্যাটাগরীর জয়িতা খুঁজে চার ক্যাটাগরির ৪ জন জয়িতাকে নির্বাচন করে উপজেলা কমিটি। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মৃণালিণী কর্মকার জানান, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে নতুন উদ্যোগে জীবন শুরু, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী, সফল জননী ও সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখায় যে চারজন জয়িতা নির্বাচিত হয়েছে তারা হলেন- উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরমী গ্রামের মৃত চান মিয়ার স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা রেজিয়া খাতুন, একই ইউনিয়নের পাঠানটেক গ্রামের বিপ্লব চন্দ্র সাহার স্ত্রী লক্ষী রাণী সাহা, তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ী গ্রামের মৃত গণেশ মিত্রের স্ত্রী চায়না রাণী মজুমদার ও একই ইউনিয়নের উদয়খালী গ্রামের মো: আলী হোসেনের স্ত্রী মোসা: কামরুন্নাহার। তবে শিক্ষা ও চাকুরির ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী জয়িতা পাওয়া যায়নি।
যে কারণে তারা জয়িতা:
নিজের আর্থিক ও সামাজিক বিপন্নতা বর্ণনা করতে গিয়ে রেজিয়া খাতুন জানান, বিয়ের কিছুদিন যাবার পর থেকে স্বামী যৌতুকের জন্য অকথ্য ভাষায় গালাগাল সহ অমানুষিক নির্যাতন করতো, অনুমতি ছাড়াই ২য় বিয়ে করে, অমানবিক অত্যাচার সইতে না পেরে গর্ভজাত ৩ সন্তানকে নিয়ে পিত্রালয়ে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। তিনি হাতের কাজ শিখে তার প্রাপ্ত আয় দিয়ে অনেক কষ্টে সন্তানদের লেখাপড়া শিখিয়েছেন। এতোকিছুর পরেও সমাজ এবং পরিবারের স্বজনদের নিকট থেকে যথাযথ সম্মান ও মুল্যায়ন পাননি। বর্তমানে তিনি বরমী ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত সদস্য। এখন সবাই তাকে সম্মান করে মর্যাদা দেয়। তার সাহসী সিদ্ধান্তের কারণে এলাকার অন্যান্য নারীরাও উজ্জীবিত।
লক্ষী রাণী সাহা জানান, দরিদ্র পরিবারে বিয়ে হওয়ায় অর্ধাহারে অনাহারে থাকতে হয়েছে। এজন্য তাকে মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতে হয়েছে। সহোদরের নিকট থেকে তিনশত টাকা নিয়ে কাপড় কিনে ফেরী করে বাড়ি বাড়ি বিক্রি করে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করি। এজন্য সমাজের ভর্ৎসনা গঞ্জনা সইতে হয়েছে। এখন তার ৫ লাখ টাকা পুঁজি হওয়ায় অনেকেই সমীহ করে কথা বলে।
তিনি তার ৪টি মেয়েকে উপযুক্ত পাত্রস্থ করেছেন এবং কনিষ্ঠা কন্যা বিএসসি পড়ে। এলাকায় তাকে এখন অনেকেই অনুকরন করছে।
চায়না রাণী মজুমদার বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তিন সন্তান নিয়ে অনাহার অর্ধাহারে কেটেছে। এস এস সি পাশ হওয়ায় টিউশনি করে ও ঔষধ বিক্রি করে তিন সন্তানকে শিক্ষিত করেছেন। স্বামীর কোন জায়গা-জমি, টাকা-পয়সা ছিল না। নিত্য অভাব থাকায় কেউ আর্থিক সাহায্যও করতে চায়নি। এনজিও ব্রাক থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ছোট ব্যবসা শুরু করে। স্থানীয় গণ্যমান্য ও প্রতিবেশী স্কুলের শিক্ষকদের সহায়তায় ১ম ও ৩য় মেয়েকে বিএসসি, ২য় মেয়েকে কোয়ালিটি ডিপ্লোমা পড়াচ্ছেন। এখন সবাই তাকে গুরুত্ব দেয়।
মোসা: কামরুন্নাহারও শোনান তার জয়িতা হওয়ার কথা। তিনি বলেন, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বামী জ্বালাতন করতো। এক সময় স্বামী অসুস্থ হলেও মনোবল দৃঢ় করে নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যান। তিনি ২০১৪ সাল থেকে বিনা টাকায় সকালে শিশুদের এবং বিকালে মহিলাদের কোরআন শিক্ষা দেন। নিজের জায়গায় একটি মাদ্রাসা স্থাপন করেছেন। এ সফলতার জন্য তাকে এলাকার গণ্যমান্যরা প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতার চোখে দেখে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ