ঢাকা, সোমবার 05 June 2017, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ৯ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কুষ্টিয়া সিটি কলেজ পরিচালনা-পর্ষদ নির্বাচনে শিক্ষাবোর্ডের প্রবিধানমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা: কুষ্টিয়া সিটি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আন্তাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে কলেজ পরিচালনা-পর্ষদ গঠনে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড যশোরের প্রবিধানমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। তিনি নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করতে কুটকৌশলে নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসারকে প্রভাবিত করে বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পছন্দের ব্যক্তিদেরকে নির্বাচিত করার অপপ্রয়াসের মধ্যদিয়ে কলেজ পরিচালনা-পর্ষদ গঠনে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড যশোরের প্রবিধানমালা লঙ্ঘন করছেন বলে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে জানা যায়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড যশোরের প্রবিধানমালা ২০০৯এর ১২ (৩) ও (৬) ধারা অনুযায়ী কলেজ পরিচালনা-পর্ষদ কর্তৃক খসড়া ও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুমোদনের পরবর্তী কার্যদিবসে প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক উহা প্রত্যেক শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীগণকে পড়ে শোনাবার ব্যবস্থা করা অতঃপর প্রতিষ্ঠানের নোটিস বোর্ডে টানিয়ে দেয়ার বিধান থাকলেও তা লঙ্ঘন করে গত ৩১মে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্নের পাঁয়তারায় মত্ত রয়েছেন খোদ কলেজ অধ্যক্ষ।
শিক্ষাবোর্ডের প্রবিধানমালা ২০(১) ও (২) ধারামতে, প্রিজাইডিং অফিসার কুষ্টিয়া সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা-অফিসার ফজলুল হক কর্তৃক ঘোষিত নির্বাচনী তফসিলে মনোনয়নপত্র বাতিল হলে পরবর্তী দুইদিনের মধ্যে আপিল দায়ের ও তার পরবর্তী দুইদিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার বিধান থাকলেও এক্ষেত্রে ঘোষিত তফসিলের কোনো সুযোগ না রেখে লঙ্ঘন শিক্ষাবোর্ডের প্রবিধানমালা করা হয়েছে। 
প্রবিধানমালার ১৬(ঘ) ধারায়, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন থেকে অন্ততঃ ১০দিন পরের একটি দিনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান আছে। এক্ষেত্রে ঘোষিত নির্বাচনী তফসিলে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য ২১মে ২০১৭ তারিখ এবং নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ৩১মে ২০১৭ তারিখ নির্ধারণ পূর্বক ন্যূনতম সময় না দিয়ে তড়িঘড়ি করে নির্বাচনী কার্যক্রম সম্পন্নের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকমহলে।
কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যগণকে কূট-কৌশলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করার অভিপ্রায়ে প্রিজাইডিং অফিসার কর্তৃক ঘোষিত নির্বাচনী তফ্সিল প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠান প্রধানের পক্ষ থেকে সকল শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীদেরকে ওই তফ্সিল পড়ে শোনাবার এবং নোটিস বোর্ডে টানাইয়া প্রকাশ করার বিধান থাকলেও এক্ষেত্রে বিধিমালার ১৭(২) ধারা লঙ্ঘন করা হয়েছে। প্রিজাইডিং অফিসার কর্তৃক ১৪মে ২০১৭ তারিখে স্বাক্ষরিত তফ্সিল নোটিস বোর্ডে টানানো হয়েছে ১৭মে ২০১৭ তারিখে। এছাড়াও কোনো শ্রেণীকক্ষেই শিক্ষার্থীদেরকে তফসিল পড়ে শোনাবার ব্যবস্থা করা হয়নি। অথচ ওই তফ্সিলে ১৫-১৭মে ২০১৭ তারিখ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র গ্রহন ও জমাদানের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
একাদশ শ্রেণীতে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণের মধ্য থেকে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণের ভোটে ৪জন সাধারণ অভিভাবক সদস্য এবং একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মহিলা অভিভাবকগণের মধ্য থেকে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মহিলা অভিভাবকগণের ভোটে ১জন সংরক্ষিত মহিলা অভিভাবক সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিধান আছে। এক্ষেত্রে প্রবিধানমালার ৪(ঘ) ও (ঙ) ধারা লঙ্ঘন করে গোপনে দ্বাদশ শ্রেণীর ৪জন সাধারণ অভিভাবক ও ১জন সংরক্ষিত মহিলা অভিভাবক সদস্যকে বিনা প্রতিদ্বন্দি¦তায় নির্বাচিত করে কলেজ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের অপচেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ বিদ্যমান।
ভারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক শিক্ষকদের মধ্যথেকে তাঁর পছন্দের শিক্ষকদের বিনা প্রতিদ্বন্দি¦তায় নির্বাচিত করার জন্য অন্যান্য শিক্ষকদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দি¦তা না করতে বাধ্য করা হয়েছে। এছাড়াও প্রবিধানমালার ২(চ) এর (আ) ধারা লঙ্ঘন করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের আজ্ঞাবাহী এক মহিলা শিক্ষিকার স্বামীকে দাতা-সদস্য হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দি¦তায় নির্বাচিত করার অপচেষ্টাও করা হচ্ছে।
এদিকে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো শর্তপূরণ ছাড়াই বিধি-বিধান বহির্ভূতভাবে জনৈক ব্যক্তিকে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, আমি এই কলেজের প্রথমবর্ষের একজন নিয়মিত শিক্ষার্থীর অভিভাবক হওয়া সত্বেও কলেজের পরিচালনা-পর্ষদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও জমাদানের শেষ সময়ে জানতে পারলাম ৩১মে তারিখে নির্বাচন। যখন অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ থাকেনা। প্রিজাইডিং অফিসার কর্তৃক ঘোষিত নির্বাচনী তফ্সিল প্রাপ্তির সাথে-সাথে ওই তফ্সিল পড়ে শোনাবার এবং নোটিস বোর্ডে টানাইয়া প্রকাশ করার বিধান থাকলেও তা লঙ্ঘন করে অতি গোপনে এই কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। সম্পূর্ণরূপে অনিয়মের মধ্যদিয়ে এই কমিটি গঠন হলে কলেজ এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াটাই স্বাভাবিক। এজন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড যশোরের পক্ষথেকে আসন্ন ৩১মে তারিখের নির্বাচন বাতিল করে সম্পূর্ণরূপে নিয়মতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠান জরুরি বলে দাবি অভিভাবকমহলের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা বলছে, আগামী ১৭মে তারিখে আমরা  জানতে পেলাম কলেজের নির্বাচন ৩১মে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে এর আগে আমাদেরকে কিছুই পড়ে শোনানো হয়নি এবং কলেজের নোটিস বোর্ডেও আমরা তেমন কিছু দেখিনি। এই নির্বাচনে অনিয়ম হয়ে থাকলে অবশ্যই বাতিল করতে হবে। এব্যাপারে কুষ্টিয়া সিটি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আন্তাজ উদ্দিনের সাথে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিষয়টি তদন্ত পূর্বক দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ