ঢাকা, মঙ্গলবার 06 June 2017, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ১০ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

‘আলোকিত হোক ধরনী কুরআনের রঙে’

শায়লা আক্তার তায়্যেবা : বিস্মিল্লাহির রাহমানীর রাহিম
অবশ্যই আমি শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি, অতএব আছে কি তোমাদের মাঝে কেউ এর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার? (সূরা কামার-১৭)
সৃষ্টির উষালগ্নকাল থেকে পৃথিবীতে চলে আসছে সত্য মিথ্যার চিরন্তন দ্বন্দ্ব আর এ দ্বন্দ্বের মাঝে সত্যকে বিজয়ী করতে সৃষ্টিকর্তা তার বান্দাদের পৃথিবীর মাঝে কোন নির্দেশনা ছাড়াই পাঠাননি সাথে দিয়েছে অসংখ্য নবী-রাসূল তার সংবিধান হিসাবে অগনিত হেদায়াত গ্রন্থ। এরই মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ ও চিরন্তন গ্রন্থ হচ্ছে আল- কোরআন। আর এ  কুরআন কে নিঃশেষ করার জন্য তাগুদের অপপ্রয়াস সেই থেকেই সেই কুরআনের মর্যাদা রক্ষায় নিজের রক্তের বিনিময়ে বিজয় লাভ করে বিশ্বের ইতিহাসে লাল অক্ষরে নাম লিখিয়েছে বাংলার কিছু তাজা প্রান। আর তাদের সেই ত্যাগের স্মৃতিকে স্মরণ করতে প্রতি বছর ১১ই মে পালিত হয় বিশ্ব কোরআন দিবস।
হৃদয় বিদারক ১১ই মের স্মৃতি :
১৯৮৫ সালের ১৪ই এপ্রিল বিশ্বের ইতিহাসে সূচনা হয় এক কলংকময় অধ্যায়ের ভারতের দুই ব্রাক্ষণবাদী নাগরিক পদ্মমল চোপড়া ও শীতল সিং কলকতা হাইকোটে বিচারপতি মিসেস খাস্তগীরের আদালতে কুরআনের সকল আরবী কপি ও অনুবাদ বিরুদ্ধে মামলা করে তা বাজেয়াপ্ত করার আবেদন জানিয়ে একটি রীট আবেদন করেন। ১৪০০ বছরের ইতিহাসে পবিত্র কুরআনের বিরুদ্ধে মামলা করে তা ব্র মত দাবি জানানোর দৃষ্টান্ত এর আগে কেউ দেখাতে পারেনি।
বিচারপতি খাস্তগীর কোনো প্রকার বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়াই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা গ্রহণ করেন। তিনি ১২ই এপ্রিল এ বিষয়ে তিন সপ্তাহের মধ্যে এফিডেফিট প্রদানের জন্য রাজ্য সরকারের প্রতি নির্দেশ দেন। কোরআন কে বাজেয়াপ্ত করার প্রতি নির্দেশ দেন। কোরআনকে  রাজেযাপ্ত করার মামলার খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে কলকাতাসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্বে প্রতিবাদের টর্নেডো বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি।
কেএসপি অফিসে ডেকে সমাবেশ বন্ধ করার জন্য চাপ দেয়। কিন্তু ইসলামী জনতা দলে আসতে থাকে ঈদগাহ্ ময়দানের দিকে উপায় না দেখে ঈদগাহ ময়দানে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রসাশন। শুধুমাত্র দোয়া করে জনতাকে শান্ত করে চলে যাবো “নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি বর্গের এ আবেদন ও শোনেনি ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহেদুজ্জামান মোল্লা বরং অকথ্য ভাষায় গালিগালোজ করতে থাকে কোরআনপ্রেমিকদের এ সময় ইসলামী জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়লে ওয়াহেদুজ্জামান মোল্লা নির্দেশে কুরআনপ্রেমিকদের উপর গুলিবর্ষণ শুরু করে পুলিশ। পুলিশ গুলিতে প্রথমেই লটিয়ে পড়ে ১০ম শ্রেণীর ছাত্র আব্দুল মতিন এবং হাসপাতালে নেবার পথে ৮ম শ্রেণীর ছাত্র সেলিম, শীষ মোহাম্মদ, রাশিদুল হক, সাহাবুদ্দিন, কৃষক আলতাফুর রহমান, সবুর, রিকশাচালক মোক্তার হোসেন ও রেলশ্রমিক নজরুল ইসলাম শাহাদাত বরণ করেন। সর্বমোট আটজন  শাহাদাত বরণ করেন আর আহত হন প্রায়  অর্ধশতাধিক মানুষ বিশ্ব মুসলীমের প্রতিবাদের মুখে ভারতের সরকার এ মামলাটি খারিজের জন্য এটর্নী জেনারেলকে নির্দেশ দেন। ১৩ই মে কলকাতা হাইকোটের বিচারপতি তিনি খারিজ করে দেন। ১৯৮৫ সালে চাঁপাই নবাগঞ্জের মানুষ প্রত্যক্ষভাবে কেবলমাত্র ধর্মগ্রন্থকে কোরআনের জন্য জীবন দেয়ার প্রথম নজির সৃষ্টি করেন।
পরবর্তীতে সেই ১১ই মে “বিশ্ব কুরআন দিবস’’ হিসাব ঘোষণা করা হয়।
তাই এসো হে কুরআনের পথিক কুরআন দিবসে শপথ নেই।
“আর হে নবী যারা এ কিতাব এর উপর ইমান আনবে এবং এর বিধান অনুযায়ী নিজেদের কার্যধারা সংশধন করে নিবে তাদেরকে এ মর্মে সুখবর দাও যে তাদের জন্য এমন সব বাগান আছে যার নিম্ন দেশ দিয়ে প্রবাহিত হবে ঝর্ণা ধারা।”  (সূরা বাকারা-২৫)
১। কুরআনকে শুধু খতম দেয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে অর্ধ বুঝে পড়ি এবং সে অনুযায়ী জীবনটাকে সাজাই।
২। অবসর সময়ে বাজে চিন্তা না করে কুরআনের দোয়া আয়াত মনে মনে পাঠ করি।
৩। কুরআনের মাঝেই জীবনের সকল সমস্যার সমাধান আছে। এই সমাধান খুঁজে নিয়ে কুরআন থেকেই প্রশান্তি লাভ করা।
৪। ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পর্যন্ত সকল ক্ষেত্রে কুরআনের বিধান বাস্তবায়ন করি।
৫। ৯০% মুসলামানের বাংলাদেশে রাষ্ট্র পারিচালনার উৎস হোক আল কুরআন।
৬। কুরআন অবমাননাকারীদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা সোচ্চার হই।
৭। যারা আল্লাহু আল্লাহ্র কুরআন ও আল্লাহর রাসূল (সাঃ)কে নিয়ে কটূক্তি করে এসব ইসলামের শত্রুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই।
৮। গান ছবি কিংবা সিরিয়াল নয় কুরআনই হোক আমাদের প্রশান্তির উৎস অবসর সময়ে সঙ্গী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ