ঢাকা, মঙ্গলবার 06 June 2017, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ১০ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পাঁচমিশালি স্বাস্থ্যকথা

মহিলাদের রজঃনিবৃত্তির পূর্ব লক্ষণ
১। মাসিক রক্তক্ষরণ অনিয়মিত হয়ে যায়। রক্তক্ষরণ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যেতে পারে অথবা মাঝে মাঝে একটু একটু হতে পারে। আবার রক্তক্ষরণ প্রথমে বন্ধ হয়ে কয়েক মাস পর আবার চালু হতে পারে। অধিকাংশ মহিলার ক্ষেত্রে রজঃনিবৃত্তি ঘটে ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে।
২। হটফ্লাশ  বা গরমের ঝলক লাগা।
৩। ঘুমের অসুবিধা। অনেক সময় সারারাত ঘুম আসে না।
৪। মুড পরিবর্তন, সব সময় মেজাজ খারাপ থাকা, কোন কিছু ভাল না লাগা এবং সামান্য কোন কারণেই ডিপ্রেসড হয়ে পড়া।
৫। যৌন অভ্যাস পরিবর্তন- বেশীরভাগ মহিলার ক্ষেত্রে যৌন চাহিদার পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।
৬। যোনীপথ কম ভিজা ও ছোট হয়ে যেতে পারে।
৭। হাড় ক্ষয়ে যাওয়া-ইস্ট্রোজেন হরমোন লেভেল কমে যাওয়ার ফলে হাড় সহজেই ক্ষয়ে যায়।
৮। কোলেস্টেরল লেভেলের পরিবর্তন-শরীরে ইস্ট্রোজেন লেভেল কমে যাওয়ার ফলে রক্তে এল.ডি.এল বা খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং এইচ.ডি.এল বা ভাল কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে যায়। ফলে মহিলাদের হার্টের অসুখের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
৯। বুক ধড়ফড় করা।
উক্ত লক্ষণগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে হোমিওপ্যাথি ঔষধ গ্রহণ করুন।
ডায়াবেটিস চিনবেন কিভাবে?
১। গলা শুকিয়ে যাওয়া, বারবার পানি পিপাসা, পানি খেলেও পিপাসা না মেটা।
২। বার বার ক্ষুধা লাগা। কোন কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া।
৩। চোখে দেখতে অসুবিধা
৪। শরীরের কোথাও কেটে গেলে কিংবা আঘাত পেলে তা তাড়াতাড়ি সারে না।
৫। মেয়েদের মাসিকের সমস্যা দেখা যায়।
৬। বার বার টয়লেটে যাওয়ার প্রবণতা।
৭। ওজন অতিরিক্ত বেড়ে গেলেও ডায়াবেটিস হতে পারে।
৮। ৩৫ বছর বয়স থেকেই নিয়মিত ডায়াবেটিসের চেক-আপ করা জরুরী।
৯। ডায়াবেটিস আছে কি না তা জানার জন্য ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট জরুরী। এছাড়া ব্লাড সুগার পরীক্ষা, প্রস্রাব পরীক্ষা দ্বারাও জানা যাবে আপনার ডায়াবেটিস হয়েছে কিনা।
টক দই কেন খাবেন
১. দই পাকস্থলীতে খাবারের পচন প্রতিরোধ করে।
২. দই পেটে গিয়ে ভিটামিন-বি তৈরি করে।
৩. দই পেটের ঘা সারাতে সাহায্য করে।
৪. দই কোষ্ঠবদ্ধতা দূর করে।
৫. দই অকাল বার্ধক্য ও চুলপাকা বন্ধ করে।
মনে রাখবেন, টক দই পেটকে শক্তিশালী করে। মিষ্টি দই গ্যাস তৈরি করে।
ক্যান্সার মুক্ত জীবনের জন্য ১০টি অভ্যাস
১. অধিকহারে টাটকা শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস করুন।
২. অধিক আঁশজাতীয় খাবার গ্রহণ করুন।
৩. ভিটামিন এ’ জাতীয় খাবার বেশী গ্রহণ করুন।
৪. ভিটামিন সি জাতীয় খাবার অধিক গ্রহণ করুন।
৫. শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন।
৬. উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন
৭. ধূমপান থেকে বিরত থাকুন।
৮. পান, জর্দা, তামাক সেবন বন্ধ করুন।
৯. মদ পানে বিরত থাকুন।
১০. আচার, কাসন্দ, শুটকি এবং লবণ দেয়া মাছ গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।
গলব্লাডারে পাথর
লিভারের ঠিক নীচে পেটের ওপরের দিকে গলব্লাডার থাকে। গল ব্লাডার আকারে ছোট থলির মত। লিভার থেকে নিঃসৃত পিত্তরস গলব্লাডারে এসে জমা হয়। পিত্তরস, চর্বি এবং কোলেস্টেরল সমৃদ্ধ খাবার হজমে সাহায্য করে। পিত্তরসের উপাদানগত ভারসাম্যের তারতম্য হলেই গলব্লাডারে পাথর তৈরী হয়। পুরুষদের থেকে মেয়েদের মধ্যে গলব্লাডারের পাথরের প্রবণতা অনেক বেশী। বিভিন্ন ধরনের গলব্লাডারের মধ্যে রয়েছে- কোলেস্টেরল গলস্টোন, ব্লাকপিগমেন্ট গলস্টোন, এবং ব্রাউন পিগমেন্ট গলস্টোন। সাধারণভাবে গলব্লাডার পাথরের প্রধান লক্ষণ ডানদিকের ওপরের পেটে ব্যথা। ব্যথা অ্যাকিউট এবং ক্রনিক হতে পারে।
অ্যাকিউট ব্যথা- আচমকা ভয়ানক যন্ত্রণা এবং ক্রনিক ব্যথা- অর্থাৎ, অল্প অল্প করে ব্যথা হতেই থাকে। ব্যথা শুরুর পূর্বে বেশ কিছু লক্ষণ থাকে, যেমন- খাবারে রুচি না থাকা, গলা-বুক জ্বালা, গ্যাস, বদহজম, পেট খারাপ, বমি বমি ভাব বা বমি। এ ধরনের পূর্ব লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসার ব্যবস্থা দিবেন। অন্যান্য চিকিৎসার মধ্যে হোমিওপ্যাথিতেও গলব্লাডার পাথরের জন্য ভাল চিকিৎসা রয়েছে। চিকিৎসা পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন : আইএইচএমআর, মোবা : ০১৭১২৮১৭১৪৪।
পরোক্ষ ধূমপানের সমস্যা
১। পরোক্ষ ধূমপানের  ধোঁয়ায় প্রত্যক্ষ ধূমপানের ধোঁয়ার তুলনায় ২.৫ গুণ বেশি কার্বন মনোক্সাইড থাকে। এ ক্ষুদ্রতর কণা ফুসফুসে বাসা বাঁধে।
২। প্রতি বছর পরোক্ষ ধূমপানের কারণে আমেরিকায় ৫৩,০০০ মানুষ মারা যায়।
৩। আমেরিকায় শিশুদের হাঁপানির শতকরা ৩৩ ভাগই পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে ঘটে।
৪। সাডেন ইনফ্যান্ট ডেথ সিনড্রোম  এর একটি বড় কারণ, মা-বাবার সিগারেটের ধোঁয়ার সংস্পর্শ।
৫। হৃদরোগীরা পরোক্ষ ধোঁয়ার সংস্পর্শে এসে বুকের ব্যথা এবং হৃদছন্দ বৈকল্যে ভোগেন।
মনে রাখবেন প্রত্যক্ষ ধূমপানের চেয়ে পরোক্ষ ধূমপান অধিক ক্ষতিকর। সুতরাং নিজে ধূমপান করবেন না এবং অন্যকেও ধূমপান করতে দিবেন না।
-আই এইচএম আর ফিচার

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ