ঢাকা, মঙ্গলবার 06 June 2017, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ১০ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন প্রতিবেশী চার দেশের

 

আরব অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগ তুলে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিবেশী চার দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিসর।

কাতার মুসলিম ব্রাদারহুডসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনকে ‘মদদ দিচ্ছে’ বলে এই দেশগুলোর অভিযোগ।

রয়টার্স জানিয়েছে, ওই চার দেশ সোমবার আলাদা বিবৃতিতে কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয়।

এর মধ্যে উপসাগরীয় তিন দেশ সৌদী, বাহরাইন ও আমিরাত দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের ভূখ- থেকে কাতারের সব নাগরিককে চলে যেতে নির্দেশ দিয়েছে।

কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির এক বক্তব্য নিয়ে মিত্র দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার দুই সপ্তাহের মাথায় চার দেশের এই ঘোষণা এল।

 সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, রিয়াদ ইতোমধ্যে কাতারের সঙ্গে সীমান্ত আটকে দিয়ে স্থল, নৌ ও আকাশ পথে সব ধরনের যোগাযোগের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। 

এক সৌদী কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে এসপিএ লিখেছে, “সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের বিপদ থেকে সৌদি আরবের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ জরুরি ছিল।”

সব মিত্র দেশ ও সব কোম্পানিকেও একই পথে হাঁটার আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব।

মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তাদের আকাশসীমা বা বন্দর কাতারের উড়োজাহাজ বা নৌযানের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

 দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো সংগঠনকে মদদ দেওয়ার কারণে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মিসর।

আরব আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএমের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, দেশটি সম্পর্ক ও যোগাযোগ ছিন্নের পাশাপাশি কাতারের কূটনীতিকদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আমিরাত ত্যাগ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাহরাইন তাদের ঘোষণায় কাতারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে সহযোগিতার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপেরও অভিযোগ এনেছে।

বিবিসি লিখেছে, ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে থাকা সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন জোট থেকেও কাতারকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, দোহার কর্মকা- ‘সন্ত্রাসবাদে রসদ যোগাচ্ছে’। আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের মত সংগঠনগুলোকেও ‘কাতার মদদ দিচ্ছে’। 

 সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর অংশ হিসেবে কাতারের জঙ্গি বিমানও হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নিয়েছিল। তবে প্রতিবেশীদের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা আসার পর কাতার সরকারের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

 মে মাসের শেষ দিকে কাতারের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার ওয়েবসাইটে আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানিকে উদ্ধৃত করে একটি বক্তব্য আসে, যেখানে ইরান, হামাস, হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন জানানোর পাশাপাশি বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশিদিন টিকবেন না।

কাতার সরকার দাবি করে আসছে, ওই উক্তি তাদের আমিরের নয়। আর কাতারভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আলজাজিরা লিখেছে, ওই উক্তি আমিরের নামে চালানো হয়েছিল হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে।

তেলসমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন সোমবার এক বিবৃতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। 

“আমরা সবাইকে আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনের আহ্বান জানাই। এক্ষেত্রে আমাদের কোনো সহযোগিতা যদি প্রেয়োজন হয়, আমরা মনে করি, গাল্ফ কোঅপারেশন কাউন্সিলের ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন।” 

কূটনীতিকদের ফেরত পাঠাতে তৎপর চার দেশ

কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণার পর সে দেশের কূটনীতিকদের ফেরত পাঠানো এবং নিজস্ব কূটনীতিকদের সরিয়ে আনার তৎপরতা শুরু করেছে মধ্যপ্রাচ্যের চার দেশ। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কাতারে নিয়োজিত বাহরাইনি কূটনীতিক এবং বাহরাইনে নিয়োজিত কাতারি কূটনীতিকদের নিজ দেশে ফেরত যেতে বলা হয়েছে। আর স্বল্প সময়ে ভ্রমণের জন্য আসা কিংবা দীর্ঘমেয়াদে বসবাসকারী কাতারি নাগরিকদের দেশ ছাড়ার জন্য দুই সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন। এদিকে আকাশসীমা কিংবা সমুদ্র পথে চলাচলকারী সকল কাতারি পরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মিসর।

গতকাল সোমবার সকালে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের ৪ দেশ। কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের এ ঘটনাকে এ যাবতকালে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে হওয়া সবচেয়ে বড় বিভেদ ও ভাঙন বলে মনে করা হচ্ছে।

 সোমবার, পররাষ্ট্র দফতরের এক বিবৃতিতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কাতারের রাজধানী দোহা থেকে কূটনৈতিক মিশন প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দেয় বাহরাইন। বাহরাইনে নিয়োজিত কাতারের কূটনীতিকদেরও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশে ফেরত যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় ওই বিবৃতিতে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও কাতারি কূটনীতিকদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশে ফিরে যেতে বলেছে।

মিসরের পররাষ্ট্র দফতরের বিবৃতিতে জানানো হয়, জাতীয় নিরাপত্তার সুরক্ষা নিশ্চিতে দেশটি নিজস্ব আকাশসীমা ও সমুদ্র বন্দর দিয়ে কাতারি পরিবহনের প্রবেশ বন্ধ রাখছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমান ইতিহাদ এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে কাতারের সঙ্গে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হবে। অবশ্য, অন্য এয়ারলাইন্সগুলোও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেবে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 সৌদি আরবও কাতারের সঙ্গে তাদের সীমান্ত বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে আকাশ ও নৌ পথে যান চলাচলও বন্ধ রাখা হয়েছে। চার দেশের সম্পর্ক ছিন্নের এ ঘোষণাকে 'অযৌক্তিক' ও 'বাস্তব ভিত্তিহীন' বলে উল্লেখ করেছে কাতার। 

এদিকে ইয়েমেনে লড়াইরত সৌদী নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে আলাদা করে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জোটে আর কাতারকে স্বাগত জানানো হবে না।

অস্ট্রেলিয়া সফরে থাকা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন উপসাগরীয় দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একসঙ্গে আলোচনায় বসে নিজেদের মধ্যকার বিরোধের মীমাংসা করার জন্যও দেশগুলোর প্রতি অনুরোধ করেছেন। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ