ঢাকা, মঙ্গলবার 06 June 2017, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ১০ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নাম রাখতেও মানা!

বর্তমান সভ্যতা প্রতিদিনই নানা কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এসব প্রশ্নের কোন সদোত্তর নেই সভ্যতার শাসকদের কাছে। বর্তমান সভ্যতায় যারা শক্তিশালী, তারা যেন যা ইচ্ছে তাই করার অধিকার রাখে। এ ব্যাপারে তাদের মধ্যে হয়তো অলিখিত কোন সমঝোতা আছে। যারা দুর্বল তাদের উপর অব্যাহতভাবে জুলুম-নির্যাতন ও অবিচার করে যাচ্ছে লাল-সাদা-গেরুয়া নির্বিশেষে সব বর্ণের আধিপত্যবাদীরাই। ভারতে গরুর গোস্ত খাওয়া নিয়ে মুসলমানদের ওপর নির্মম নির্যাতন, এমনকি হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাও ঘটছে। আর ইসলাম ফোবিয়া ও বিদ্বেষের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসন এক আতঙ্কজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে রেখেছে। সেখানে সম্মানের সাথে বসবাসের অধিকার ক্রমেই সংকীর্ণ হয়ে আসছে মুসলমানদের জন্য। এখন আবার মুসলিম নাগরিকদের বিরুদ্ধে অবদমনের নতুন মাত্রা লক্ষ্য করা যাচ্ছে চীনে। মুসলমানদের ধর্মবোধের ওপর আঘাত হানা হচ্ছে সেখানে।
চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে মুসলিম শিশুদের ধর্মীয় নাম পরিবর্তনে বাধ্য করছে স্থানীয় প্রশাসন। ধর্মীয় নামের অজুহাতে মূলত আরবী নামের ওপরই নামছে খড়গ। এছাড়া এখন স্থানীয় মুসলমানদের জোর করে নাস্তিক্যবাদী কমিউনিস্ট পার্টির মিছিলে যোগ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। রেডিও ফ্রি এশিয়ার খবরে বলা হয়েছে, চলতি রমযান মাসে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের মুসলিম নাম পাল্টানোর আদেশ দিয়েছে চীনের কিছু এলাকার প্রশাসন। এর আগে গত এপ্রিলে চীনে ইমাম, সাদ্দাম, ইসলাম, মক্কা, মদীনা, আরাফাত, জিহাদ, কুরআন, হজ্বসহ ১৫টি নাম রাখার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল কমিউনিস্ট পার্টির প্রশাসন। উল্লেখ্য যে, চীনের জিনজিয়াং প্রদেশটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ। এখানকার মুসলিমরা বেশির ভাগই তুর্কী বংশোদ্ভূত উইঘুর জাতিগোষ্ঠীর। এই অঞ্চলটিতে প্রায়ই জাতিগত সহিসংতার শিকার হন মুসলমানরা।
আমরা জানি, প্রতিটি শিশুরই একটি সুন্দর নাম পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এটি তার মানবাধিকার। আর শিশুর নামতো রাখবে তার জন্মদাতা পিতামাতাই। কোন সরকার কিংবা প্রশাসন এতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। অথচ চীনে তা হচ্ছে। এমন তৎপরতার মাধ্যমে মুসলমানদের ধর্মীয় ও মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। আমেরিকা, ভারত, চীন, মিয়ানমারসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এখন মুসলমানরা নানাভাবে নিপীড়ন ও বঞ্চনার শিকার। অথচ মজলুম মুসলমানদের জালেম হিসেবে চিহ্নিত করার প্রোপাগান্ডা চলছে চাতুর্যের সাথে। এ নিয়ে যথেষ্ট বিলাপ হয়েছে। কিন্তু তাতে পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন হয়নি। বর্তমান সভ্যতায় শক্তিই যেন শেষ কথা। সংখ্যা, শক্তি, সম্পদের দিক থেকে মুসলমানদের তুচ্ছজ্ঞান করার তো কোন কারণ নেই। মুসলমানরা চাইলেতো একটি বড় শক্তি হিসেবেই বর্তমান সভ্যতায় আবির্ভূত হতে পারে। কিন্তু নতুন শক্তির উদ্বোধনে মজলুম মুসলমানদের আর কতকাল অপেক্ষা করতে হবে?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ