ঢাকা,বৃহস্পতিবার 15 November 2018, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কোরআন অধ্যয়ন ও প্রচারের গুরুত্ব [২]

মুহাম্মদ আবুল হুসাইন:

ঈমানদারদের উদ্দেশ্যে দায়ী ইলাল্লাহ'র কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার উৎসাহ দিয়ে আল্লাহ বলেছেন :

‘তার চেয়ে উত্তম কথা আর কার হতে পারে যে আল্লাহর দিকে মানুষকে আহবান করে, সৎ কাজ করে আর ঘোষণা করে যে আমি মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত।’-[হা-মীম-আস্সাজদা : ৩৩]

আল্লাহর নবী এবং সাহাবায়ে কেরাম তাই নিজেদের জীবনে কোরআন প্রচারের এ কাজকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়েছিলেন। কারণ আল্লাহর কালাম আল কোরআন হল আল্লাহর নৈকট্য ও হেদায়াতের সেই ফল্গুধারা, সেই সিরাতুল মুস্তাক্বিম; সূরা ফাতিহার মুনাজাতের মাধ্যমে আমরা প্রতিনিয়তই যার প্রার্থনা করে থাকি। প্রতি ওয়াক্ত নামাজের প্রতি রাকায়াতেই আমরা আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করে থাকি -‘আমাদেরকে সহজ-সঠিক পথে পরিচালিত কর। সে সব লোকের পথ যাদেরকে তুমি পুরুষ্কৃত করেছো; তাদের পথ নয়, যারা পথভ্রষ্ট ও ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে।

বস্তুত, আল ফাতিহার প্রার্থনার জবাবই হচ্ছে সমগ্র আল কোরআন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনই আমাদেরকে এ প্রার্থনা শিখিয়ে দিয়েছেন এবং আবার তিনিই আমাদেরকে আমাদের প্রার্থীত সিরাতুল মুস্তাক্বিম পথের দিশা দিয়ে ধন্য করেছেন। আবার আল কোরআনের এই ঐশী হেদায়াত মূলত সেই শাশ্বত পথ; যে পথের সুসংবাদ আল্লাহ তায়ালা মানুষকে পৃথিবীতে পাঠানোর সময় দিয়েছিলেন। আদিপিতা হযরত আদম (আঃ)-কে বেহেশত থেকে পৃথিবীতে পাঠানোর সময় আল্লাহ তায়ালা জানিয়ে দিয়েছিলেন, যুগে যুগে তাঁর পক্ষ থেকে নবী-রাসূলদের মাধ্যমে মানুষের কাছে ঐশী পথ-নির্দেশ বা জীবন বিধান পাঠানো হবে। যারা সেই হেদায়াতের অনুসরণ করবে তাদের জন্য ভয় ও বিপদের কোন কারণ থাকবে না। কিন্তু যারা আল্লাহর দেয়া সেই জীবন-বিধানের বিরোধিতা করবে, তারাই হবে বিভ্রান্ত ও ব্যর্থ। তাদের জন্য রয়েছে বিপর্যয় ধ্বংস। পবিত্র কালামে মজিদে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এ প্রসঙ্গটি উল্লােখ করেছেন এভাবে :

‘তোমরা সবাই এখান থেকে নেমে যাও। এরপর আমার পক্ষ থেকে যে জীবন-বিধান তোমাদের নিকট পৌঁছানো হবে; যারা সে বিধান মেনে চলবে তাদের জন্য কোন ভয় ও চিন্তার কোন কারণ থাকবে না। আর যারা সে বিধান গ্রহণ করতে অস্বীকার করবে এবং আমার বাণী ও আদেশ-নিষেধকে মিথ্যা গণ্য করবে, তারা নিশ্চয় জাহান্নামী হবে এবং তারা সেখানে চিবদিন থাকবে।’ -[আল বাকারা : ৩৮-৩৯]

সুতরাং আল্লাহর কালাম আল কোরআনই হল মুক্তির একমাত্র পথ। আল্লাহর দেয়া হেদায়াতই তাঁর নৈকট্য বা খোদাপ্রাপ্তির যথার্থ সিরাতুল মুস্তাক্বিম। আল্লাহর নৈকট্য অন্বেষণ বা ওসিলা তালাশ করতে হলে আমাদেরকে তাই কোরআনের পথের দিকেই ফিরে আসতে হবে। কারণ এ পথই ঈমানের পথ, এ পথই হেদায়াতের পথ। এ পথই নির্ভেজাল জ্ঞান ও সত্যের পথ। কোন বুযুর্গ ও কোন বাবার পাও ধরা এ পথের বিকল্প হতে পারে না। আল্লাহ কথার চেয়ে কোন মানুষের কথাকে বড় মনে করলে কেবল শয়তানের সান্নিধ্যই লাভ হতে পারে, কিন্তু আল্লাহর নৈকট্য ও হেদায়াত তাতে কখনো লাভ হতে পারে না। যারা মনে করে আল্লাহর হুকুমের কাছে আত্মসমর্পন না করে কোন পীর-মাশায়েখ বা তথাকথিত বুযুর্গ ব্যক্তিদের পা ধরে পরে থাকলেই নাযাত পাওয়া যাবে তারা মূলত ঐসব ব্যক্তিদেরকেই খোদার আসনে বসিয়ে দেয়। কারণ কোন মানুষ কখনো অপর মানুষের প্রভু হুকুমকর্তা হতে পারে না, নিরংকুশ আনুগত্য বা গোলামী দাবী করতে পারে না। যারা এসব করে তারা পরিষ্কার শিরক ও পৌত্তলিকতার মধ্যে নিমজ্জিত। কারণ এসব কর্মকাণ্ড তাওহীদের শাশ্বত আদর্শ ও ঈমানী চেতনার পরিপন্থী। যারা এসব কাজে লিপ্ত তারা পরিষ্কার বিভ্রান্তি ও ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। 

সূরা আসরে পরিষ্কার করে বলে দেয়া হয়েছে যে, দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতা বা কামিয়াবী নির্ভর করছে চারটি জিনিসের উপর। ১. ঈমান, ২. আল্লাহর হুকুম পালন বা নেক আমল, ৩. হকের দাওয়াত বা ইসলামের প্রচার এবং ৪. সবর বা ধৈর্য ও সহনশীলতার নীতি। বলা হয়েছে সত্যের এ চারটি মূলনীতি থেকে যারা বিচ্যূত হয়েছে তারাই ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। অতীতে যারা এ পথ থেকে বিচ্যূত হয়েছিল তারা যেমন ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত ছিল; বর্তমানেও যারা ঈমানদারী, আল্লাহ হুকুম পালন এবং সহনশীলতার নীতি হকের দাওয়াতের পথ থেকে বিচ্যূত হয়েছে তারাও সুস্পষ্ট বিভ্রান্তি ও ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত এবং ভবিষ্যতেও যা এ পথ থেকে বিচ্যূত হবে ও তারাও ক্ষতির মধ্যেই নিমজ্জিত থাকবে। আর এ ক্ষতি হল দুনিয়া ও আখেরাতেরই চরম ক্ষতি।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ