ঢাকা, শুক্রবার 09 June 2017, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ১৩ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

৩০ হাজার ৪শ’ কোটি টাকার পণ্য নিয়ে বিপাকে পোশাক ব্যবসায়ীরা

শাহেদ মতিউর রহমান : শুধু বিমানে নয় এবার নৌপথেও কার্গো পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। অন্যদিকে গত বছরের মার্চে যুক্তরাজ্য-অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানি ঢাকা থেকে বিমানের সরাসরি কার্গো ফ্লাইটের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই অবস্থায় বিদেশে তৈরি পোশাক রফতানিতে বিপাকে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। এক হিসেবে দেখা গেছে কার্গো পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকলে ৩০ হাজার ৪শ’ কোটি টাকার তৈরি পোশাক রফতানিতে হুমকিতে পরবে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রফতানি পণ্যবাহী বিমানের কার্গো ফ্লাইট ও নৌপথেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ফলে বাংলাদেশ থেকে বিমানও নৌপথে কোনো কার্গো সরাসরি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে প্রবেশ করতে পারবে না। নিরাপত্তার স্বার্থে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরামর্শমতো যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়ায় নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ল বাংলাদেশ। গত মঙ্গলবার ইইউর উচ্চপর্যায়ের টিম বাংলাদেশ সফরে এসে সরাসরি কার্গো রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ইইউর টিম বাংলাদেশকে সরাসরি কার্গো রফতানির ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

ব্যবসায়ীদের মতে, নতুন করে এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বছরে ৩০ হাজার চারশ’ কোটি টাকার পণ্য রফতানি হুমকির মুখে পড়েছে। দেশের ভাবমর্যাদা ব্যাহত হবে। বিমানের ব্যবসায় ধস নামতে পারে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। তবে অন্য দেশের মাধ্যমে রি-স্ক্যানিং করে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে কার্গো রফতানি অব্যাহত থাকবে। এর আগে গত বছরের মার্চে যুক্তরাজ্য-অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানি ঢাকা থেকে বিমানের সরাসরি কার্গো ফ্লাইটের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করছিল।

এদিকে বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, শাহজালালে র‌্যাব ও বিজিবির ডগ স্কোয়াড কাজ করছে। আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন দিয়েও ডগ স্কোয়াড নামানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। শুধু এক্সপ্লোসিভ ডিটেনশন সিস্টেম (ইডিএস) মেশিনটি বসানো সম্ভব হয়নি। তারপরও ইইউ এ রকম শর্ত দিয়েছে। তিনি বলেন, ইইউর এ সিদ্ধান্ত দেশের ওপর বড় ধরনের আঘাত। এটা রাজনৈতিকভাবে সমাধান করতে হবে বলে তিনি মনে করছেন।

জানা গেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন ও বিমানকে যে চিঠি দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে সরাসরি কোনো কার্গো পণ্য তারা তাদের দেশগুলোতে প্রবেশ করতে দেবে না। এক্ষেত্রে সব পণ্য ইইউভুক্ত সিভিল এভিয়েশন অনুমোদিত দ্বিতীয় কোনো দেশ থেকে রি-স্ক্যানিং করে নিতে হবে।

সূত্রমতে, অপ্রতুল নিরাপত্তা ও বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশের অজুহাতে বিমানে কার্গো নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তারা জানিয়েছে, বিমানের কার্গো রফতানি টার্মিনালটি বহিরাগত জনবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এসব জনবল নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও জার্মানিও অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও জনবলের অভাবকে দায়ী করে। একই সঙ্গে তারা পণ্য স্ক্যানিংয়ে বিমান ও সিভিল এভিয়েশনের গাফিলতি ও অবহেলাকে দায়ী করে আসছে। বাংলাদেশের রফতানির বৃহত্তম গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

এ অবস্থায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের কার্গো ফ্লাইট বন্ধ করায় বিমানকে বড় ধরনের মাসুল গুনতে হবে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস নেমে আসবে। এতে ঝুঁকির মুখে পড়বে তৈরি পোশাকসহ রফতানিমুখী বেশ কিছু পণ্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ