ঢাকা, সোমবার 12 June 2017, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ১৬ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিশ্বব্যাপী সরাসরি সম্প্রচারিত শুনানি

তাঁকে বরখাস্ত করা এবং তার সঙ্গে ট্রাম্পের সাক্ষাতের বিষয়ে ‘মিথ্যা’ বলেছে ট্রাম্প প্রশাসন- অভিযোগ মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের সাবেক প্রধান জেমস কোমি’র৷ গত বৃহস্পতিবার সেনেটের শুনানিতে এই অভিযোগ তোলেন তিনি৷
ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে মার্কিন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সেনেটের গোয়েন্দাবিষয়ক কমিটির ঐতিহাসিক শুনানিতে কোমি দাবি করেন, রাশিয়া নিয়ে তদন্তের কারণেই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে৷ বিশ্বব্যাপী সরাসরি সম্প্রচারিত হয় এ শুনানি৷
ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে গত ৯ মে কোমিকে বরখাস্ত করেন ট্রাম্প৷ তখন তিনি গত বছরের মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করছিলেন ৷  কোমি বলেন, “আমি যেভাবে তদন্ত করছিলাম, তা কোনো-না-কোনোভাবে ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল, তাকে বিব্রত করছিল ৷ তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়াই ছিল আমাকে বরখাস্ত করার উদ্দেশ্য ৷” তার বরখাস্তের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন যে একেক সময় একেক কথা বলেছে, সেটাকেই মিথ্যা হিসেবে উল্লেখ করেন সাবেক এফবিআই-প্রধান ৷
শুনানিতে কোমি’র বক্তব্য
শুনানিতে কোমির কাছে জানতে চাওয়া হয়, নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের যে অভিযোগ তিনি তদন্ত করছিলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তা বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কিনা৷ জবাবে এফবিআইয়ের সাবেক প্রধান বলেন, “আমার জানা মতে তিনি তা করেননি৷” প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার যে কথাবার্তা হয়েছে, তা বিচারে বাধা দেয়ার চেষ্টা বলে মনে করেন কিনা– এ প্রশ্নের উত্তরে কোমি বলেন, “এটা বলা আমার কাজ নয় বলে মনে করি৷ তবে এটাকে ভীষণ বিরক্তিকর, উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে দেখেছি৷”
টেলিফোন সংলাপ
ক্ষমতায় আসার পরই ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কিছু বিদেশি শীর্ষ নেতার সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ আলোচনা করেছিলেন৷ অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি বেশ কিছু বেফাস মন্তব্য করে ফেলেন৷ সেই খবর সংবাদ মাধ্যমের কাছে ফাঁস হয়ে যায়৷
শুনানির আগে সেনেট কমিটির কাছে একটি লিখিত বিবৃতি পাঠিয়েছিলেন কোমি৷ সেখানে তিনি বিস্তারিত বিবরণ দেন, ট্রাম্প কীভাবে রুশ তদন্তের বিষয়টি তার সামনে উপস্থাপন করেন এবং ট্রাম্পের তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ফ্লিনের বিরুদ্ধে তদন্ত বন্ধের জন্য বলেন৷ ফ্লিনের বিষয়ে তদন্ত বন্ধ করতে ট্রাম্প তাকে যে অনুরোধ করেন, তা খুবই বিরক্তিকর ছিল বলে শুনানিতে মন্তব্য করেন কোমি৷  নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন বলেই হয়তো তাকে বরখাস্ত করা হয় বলে মনে করেন কোমি৷ তিনি বলেন, “এফবিআইয়ের নেতৃত্ব দুর্বল এবং সংস্থার মধ্যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করছে এমন কথা বলার মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন আমাকে, বিশেষ করে এফবিআইকে অপবাদ দেওয়ার পথ বেছে নেয়৷” এর আগে কমিটির কাছে লিখিত বিবৃতিতে কোমি জানান, জানুয়ারি মাসে হোয়াইট হাউসে ব্যক্তিগত নৈশভোজে ট্রাম্প তাকে আমন্ত্রণ করেন৷ কিন্তু ট্রাম্প গণমাধ্যমকে জানান, কোমি ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে চেয়েছিলেন এবং স্বপদে বহাল রাখার আবেদন করেছিলেন– এই বক্তব্যকে মিথ্যা বলে উল্লেখ করেন কোমি৷ জানান, নৈশভোজে প্রেসিডেন্ট তার আনুগত্য চেয়েছিলেন৷
তবে কোমির এই অভিযোগের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স বলেছেন, “আমি জোর দিয়েই বলতে পারি, প্রেসিডেন্ট মিথ্যাবাদী নন এবং এ রকম কথা বলা মানে তাকে অপমান করা৷”
ট্রাম্প পক্ষের প্রতিক্রিয়া
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জেমস কোমি মিথ্যাচারের যে অভিযোগ তুলেছেন, তা ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী মার্ক ক্যাসোউইৎজ৷ তিনি বলেন, গত বছর নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ নিয়ে তদন্তে কখনোই বাধা দিতে চাননি ট্রাম্প৷ বরং তিনি বলেন, কোমি যেসব তথ্য গণমাধ্যমে ফাস করেছেন, সেগুলোর তদন্ত হওয়া উচিত৷
এক বিবৃতিতে ক্যাসোউইৎজ আরও বলেন, “কোমির এই সাক্ষ্যই শেষ পর্যন্ত জনসম্মুখে এটা নিশ্চিত করেছে যে, নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিয়ে কোনো তদন্ত হচ্ছে না৷”
ম্যাককেইনের প্রশ্ন
সেনেটের গোয়েন্দাবিষয়ক কমিটিতে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয়পক্ষের আইনপ্রণেতারা উপস্থিত ছিলেন৷ প্রত্যেককেই ৭ মিনিট করে সময় দেয়া হয়েছিল কোমিকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য৷ অ্যারিজোনা সেনেটর এবং সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ম্যাককেইনও কোমিকে প্রশ্ন করেছিলেন৷ কিন্তু প্রশ্নটা মোটেই ট্রাম্প প্রসঙ্গে ছিল না, প্রশ্নটি ছিল হিলারি ক্লিনটনের নির্বাচনী প্রচারণা বিষয়ে৷ তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন, হিলারির ই-মেল কেলেঙ্কারি এবং ট্রাম্পের রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগের মধ্যে কি কোন যোগসূত্র রয়েছে? কোমি এর উত্তরে বলেন, এ দুটোর মধ্যে তিনি কোনো যোগসূত্র খুঁজে পাননি৷
গণমাধ্যমে প্রচারিত এই শুনানি হোয়াইট হাউসে বসে ট্রাম্পও দেখেন বলে এক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স৷
৯ মে এফবিআই প্রধান কোমিকে বরখাস্ত করার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এফবিআইয়ের প্রধান হিসেবে আইনজীবী ও বিচার বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা ক্রিস্টোফার রে-কে নিয়োগের ঘোষণা দেন৷
কোমির সাক্ষ্যের পর তদন্তের কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ৷ এরপর কংগ্রেস ও সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট মুলারের জন্য একটি মুখ্য বিবেচ্য হবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্প প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা৷ বিষয়টি প্রমাণিত হলে এই প্রশ্নে ট্রাম্প অভিশংসনের সম্মুখীন হতে পারেন। Ñইন্টারনেট।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ