ঢাকা, বুধবার 14 June 2017, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ১৮ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মিয়ানমারে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ রেনেটা লক-ডেসেলিয়ানকে সরিয়ে নিচ্ছে জাতিসংঘ

১৩ জুন, বিবিসি : মিয়ানমারে জাতিসংঘের নিযুক্ত এক উর্ধতন কর্মকর্তা রেনেটা লক-ডেসেলিয়ানকে দেশটিতে মানবাধিকার রক্ষায় যথাযথ ভূমিকা পালন করতে না পারায় তাকে তার পদ থেকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। রেনেটা লক-ডেসেলিয়ান মিয়ানমারের আগে বাংলাদেশে কাজ করেছেন। ইয়াঙ্গুনে কূটনৈতিক ও দাতা সংস্থাগুলোর একাধিক সূত্র বিবিসি’কে জানিয়েছে মিয়ানমারে মানবাধিকার রক্ষায় কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পারায় রেনেটা লক-ডেসেলিয়ানকে সরে যেতে হচ্ছে। বিশেষ করে দেশটিতে নিপীড়িত মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞের ব্যাপারে জাতিসংঘ সেখানে কোনো কার্যকর ভূমিকা নিতে পারেনি বলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে বেশ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
মিয়ানমার থেকে বিবিসির সাংবাদিক জন ফিশার তার প্রতিবেদনে বলেছেন, জাতিসংঘের নিজস্ব নথিতে তথ্য মিলেছে যে মিয়ানমারে তাদের কার্যক্রম স্পষ্টতই অকার্যকর হয়ে উঠেছে এবং দেশটিতে অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা থেকে তারা বিচ্ছিন্ন রয়েছেন।
জাতিসংঘের একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন, মিস রেনেটা লক-ডেসেলিয়ান কানাডার নাগরিক, মিয়ানমারে জাতিসংঘের উ”চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে কিছুই করতে পারেননি। গত বছর মিয়ানমারে হাজার হাজার রোহিঙ্গা ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে যায়। অথচ মিয়ানমারে জাতিসংঘের অফিস এব্যাপারে বিস্ময়করভাবে নিশ্চুপ থেকেছে।
রোহিঙ্গাদের ওপর যখন হত্যাযজ্ঞ চলেছে, রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ, তাদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে তখন দিনের পর দিন মিয়ানমারে জাতিসংঘের অফিস থেকে মিস রেনেটা লক-ডেসেলিয়ান ও তার মুখপাত্র তথ্যের জন্যে সহজ অনুরোধ প্রত্যাখান করেছেন। এমনকি রেনেটা লক-ডেসেলিয়ান রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্যাতন পরিস্থিতি স্বচক্ষে দেখার জন্যে রাখাইন অঞ্চল পরিদর্শন করে ফিরে আসার পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে তার কোনো বক্তব্য রেকর্ড ও ফুটেজ নেয়ার অনুমতি তিনি দেননি।
বিবিসি জানায়, মিয়ানমারে জাতিসংঘের অনেক অনুষ্ঠানে মানবাধিকার পরিস্থিতির মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেয়া হয়েছে। এধরনের বিষয়গুলো মিস লক ও তার দল সম্পর্কে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। তারা এমনও বলতেন তাদের আসল কাজ হচ্ছে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে জাতিসংঘের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সম্পর্ক উন্নয়ন করা, রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্যাতনের বিষয়টি তারা এড়িয়ে যেতেন।
এসব বিষয় নিয়ে একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন তৈরি করেছে জাতিসংঘ যা সংস্থাটির নতুন মহাসচিবের কাছে জমা দেয়া হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে মিয়ানমারে জাতিসংঘের কার্যক্রমে রোহিঙ্গা মুসলমানদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে অবহেলা করার গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে যা জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও বিভাগে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
মিস রেনেটা লক-ডেসিলিয়ান বর্তমানে ছুটিতে আছেন। তবে জাতিসংঘে তার অবস্থান আরো আপগ্রেড করা হচ্ছে। মিয়ানমারে তার কার্যমেয়দা ৫ বছর হওয়ার কথা থাকলেও তা সাড়ে ৩ বছরেই শেষ হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ