ঢাকা, বুধবার 14 June 2017, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ১৮ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বছরে আশি লাখ টন প্লাস্টিক সমুদ্রে গিয়ে পড়ে!

১৩ জুন, বিবিসি : আমরা কি সামুদ্রিক মাছ খাচ্ছি? নাকি প্লাষ্টিক খেয়ে আসছি? এমনটাই প্রশ্ন জাগে যখন দেখা যাচ্ছে প্রত্যেক বছর সারাবিশ্বে প্রায় আশি লাখ টন প্লাস্টিক সমুদ্রে গিয়ে পড়ে। চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞানি প্রফেসর সাইদুর রহমান চৌধুরী বলেন, অমারা যে প্লাস্টিক ব্যবহারের পর ফেলে দেই তার একটা অংশ সমুদ্রে চলে যায়, এবং সেগুলো ছোট ছোট টুকরা হয়ে সমুদ্রের প্রত্যেক ধরনের প্রাণী তা খাবার হিসেবে গ্রহণ করে। এর মাধ্যমে প্লাস্টিকের ক্ষতিকর পদার্থগুলো তাদের ফুড চেইনের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে। যার মাধ্যমে ছোট মাছ থেকে বড় মাছ শেষ পর্যন্ত তা মানুষের পেট পর্যন্ত চলে আসছে। কাজেই প্লাষ্টিক দূষণ অত্যন্ত ভয়াবহ। এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, সাধারণত প্লাস্টিক বিভিন্ন রকম কেমিকেলের সমন্বয়ে তৈরি হয়। প্লাস্টিকের মূল উৎপত্তি পেট্রোলিয়াম থেকে। সব ধরনের পেট্রোলিয়াম ক্যান্সার উৎপাদনে সাহায্য করে। তবে প্লস্টিক পেট্রোলিয়ামের একটি বিশেষ অংশ হওয়ার কারণে এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল পর্যায়ে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করার ফলে বিষাক্ত কেমিক্যালগুলো বের হয়ে যায়। তারপরেও তা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্যে মারাত্মক ক্ষতিকর। বিজ্ঞানিরা প্লাস্টিক ব্যবহার বা প্লাস্টিকের বোতলে পানি রাখার বিষয়ে নিরুৎসাহিত করে আসছেন।
প্লাস্টিক ওশান নামের একটি সংস্থা বলছে, প্রত্যেক বছর সারা বিশ্বে প্রায় ৩০ কোটি টন প্লাস্টিক তৈরি হয়। যার অর্ধেকেই শুধু একবার ব্যবহার হয়ে থাকে। এর মধ্যে প্রায় আশি লাখ টন প্লাস্টিক সমুদ্রে গিয়ে পড়ে।
জার্মানির একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান হেল্ম হোলস সেন্টার বলছেন, মহাসাগরে প্লাস্টিক দূষণের ৭৫ শতাংশই আসে ১০টি নদী দিয়ে, এবং এ নদীগুলো বেশিরভাগ এশিয়া মহাদেশের মধ্য দিয়ে গেছে। যদি এসব নদীগুলোতে প্লাস্টিকের দূষণ অর্ধেক কমানো যায় তবে সারাবিশ্বে প্লাস্টিক দূষণের হার ৩৭ শতাংশ কমানো সম্ভব।
সাম্প্রতিক বিজ্ঞানিরা প্লাস্টিক দূষণের বিষয়টি খুব গুরুত্বের সাথে দেখছেন, প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে কয়েকটি দেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন। জাতিসংঘের এক সম্মেলনে চীন, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া এবং ফিলিপাইন মহাসমুদ্রকে প্লাস্টিকের দূষণ মুক্ত রাখার ব্যাপারে কাজ শুরু করবে বলে ঘোষণা করেছেন।
সমুদ্রে প্লাস্টিক যাওয়ার কারণ সম্পর্কে সাইদুর রহমান বলেন, প্লাস্টিক সমুদ্রে যাওয়ার প্রক্রিয়াটা আমাদের সাধারণ মানুষের চোখে পড়েনা। শুধুমাত্র যারা প্লাস্টিক নিয়ে স্ট্যাডি করছেন তারাই এর ভয়াবহ বিষয়টা উপলদ্ধি করতে পারছেন।
প্লাস্টিক দূষণ এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ, জলজ প্রাণী, এমন কি মানুষের জন্যেও এটি বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারে। আমাদের একটু সচেতনতার মাধ্যমে ভয়াবহ প্লাস্টিক দূষণ রোধ করা সম্ভব।
থাইল্যান্ড সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ২০১৬ সালে প্রায় ৩০ লাখ টন বর্জ্য সমুদ্রে গিয়ে পড়েছে যার ১২ শতাংশই ছিল প্লাস্টিক। এই সমস্যা সমাধানে আগামি ২০ বছরের একটি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। যেখানে প্লাস্টিকের ব্যবহারকে নিরুৎসাহীত করা হয়েছে। বাংলাদেশেও আগামী ২০২৫ সাল নাগাদ প্লাস্টিকের ব্যবহার অর্ধেকে নামিয়ে আনার কথা বলা হচ্ছে। বিবিসি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ