ঢাকা, বুধবার 14 June 2017, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ১৮ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দলীয় এমপিদের কাছে ক্ষমা চাইলেন ‘অনুতপ্ত’ থেরেসা

জুন ১৩, গার্ডিয়ান : ৮ জুনের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় দলের এমপিদের কাছে অনুতাপ প্রকাশ করেছেন কনজারভেটিভ পার্টির নেতা থেরেসা মে। গত সোমবার ক্ষুব্ধ এমপিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক একান্ত বৈঠকে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। উপস্থিত এমপিদের উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম খবরটি জানিয়েছে। বৈঠকে থেরেসা মে বলেন, ‘আমি আমাদের দলকে এ বিশৃঙ্খলার দিকে টেনে নিয়ে গেছি, আবার আমিই সেখান থেকে সবাইকে বের করে আনব।’
ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর দলীয়ভাবে তোপের মুখে রয়েছেন থেরেসা। দলের সদস্যদের কেউ কেউ বলছেন, থেরেসা মেকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া প্রয়োজন। এই প্রেক্ষাপটে সোমবার ক্ষুব্ধ এমপিদের শান্ত করতে তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে থেরেসা মে এমপিদের বোঝানোর চেষ্টা করেন, তিনি কার্যকরভাবে সরকার পরিচালনা করতে পারবেন।
বৈঠকে মে স্বীকার করেন, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য জনগণকে আরও বেশি টাকা পরিশোধ করতে হবে বলে তিনি ইশতেহারে যে ঘোষণা দিয়েছিলেন তা ভুল ছিল। মে বলেন, তরুণ ভোটার এবং সরকারি কর্মজীবীদের কাছাকাছি পৌঁছাতে আরও অনেক কিছু করার ছিল। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন এমপিদের একজন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘তিনি (থেরেসা) অনুতপ্ত ও আন্তরিক ছিলেন, তবে নতজানু ছিলেন না।’
ওই এমপি আরও বলেন, বৈঠকে থেরেসা মে এর নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করা সংক্রান্ত আলোচনা থেমে গেছে, অন্তত এখনকার জন্য হলেও সে প্রসঙ্গটি চুপ চাপ আছে।’
বৈঠকের পর এমপিরা জানান, প্রধানমন্ত্রী দুই বছরের মধ্যে ব্রেক্সিট আলোচনা শেষ করার ব্যাপারে আশাবাদী।
ডিইউপি’র সঙ্গে একত্রিত হয়ে সরকার গঠনকে জোট সরকারের চুক্তি নয় বরং একে ‘কনফিডেন্স এন্ড সাপ্লাই’ চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে ডাউনিং স্ট্রিট। এ চুক্তির আওতায় বাজেটসহ এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে অপেক্ষাকৃত ছোট দলটি বড় দলটিকে সমর্থন দেবে। বিনিময়ে তাদের কিছু সুবিধা দেয়া হবে।
ব্রেক্সিট সেক্রেটারি ডেভিড ডেভিস জানিয়েছেন, নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার পর কনজারভেটিভ মেনিফেস্টো থেকে ব্রেক্সিট প্রশ্নে কিছু অঙ্গীকার বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন থেরেসা মে। তবে নীতিমালা সংক্রান্ত কোন প্রস্তাবগুলো আর থাকছে না, প্রধানমন্ত্রীর ওই মুখপাত্রকে জিজ্ঞেস করেও এ ব্যাপারে মন্তব্য পাওয়া যায়নি।তিনি জানিয়েছেন, রানীর ভাষণে সরকারের আইনি কর্মসূচিগুলো ঘোষণা করা হতে পারে। তবে তিনি বলেন, সরকার চেষ্টা করছে বার্ষিক নীট অভিবাসনের সংখ্যা ১ লাখের নিচে নামিয়ে আনা যায়।
২০১৬ সালের জুনে ব্রেক্সিট ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের গণভোটের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যমেরন পদত্যাগ করলে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন থেরেসা মে। ১৮ এপ্রিল ২০১৭ লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিটের অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি আগাম নির্বাচনের ডাক দেন তিনি। আর এর মধ্য দিয়ে নির্ধারিত সময়ের তিন বছর আগেই যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ