ঢাকা, বুধবার 14 June 2017, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ১৮ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ট্রাম্পের ‘ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা’ স্থগিতের আদেশ বহাল

১৩ জুন, বিবিসি : ছয় দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের যে আদেশ হাওয়াইয়ের আদালত দিয়েছিল, আপিল আদালতেও তা বহাল রাখা হয়েছে।
গত মার্চের মাঝামাঝি ওই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও হাওয়াইয়ের ফেডারেল আদালতের স্থগিতাদেশে তা আটকে যায়।
সেই স্থগিতাদেশ তুলতে তিন মাস পর আপিল আদালতে গিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু সান ফ্রান্সিসকো নাইন্থ সার্কিট কোর্ট অব আপিল সোমবার আগের আদেশই বহাল রাখে।
আপিল আদালত বলেছে, প্রেসিডেন্টের ওই নির্বাহী আদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান অভিবাসী আইনের লঙ্ঘন।
আপিল আদালতের ওই সিদ্ধান্তকে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আরও একটি আইনি পরাজয় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
অভিবাসনে কড়াকড়ি আরোপের পাশাপাশি এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি।
আপিল আদালতের আদেশের প্রতিক্রিয়ায় অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনস বলেছেন, বিচারকদের সঙ্গে তিনি একমত হতে পারছেন না।
“দেশকে নিরাপদ রাখতে প্রেসিডেন্ট তার ক্ষমতার মধ্যেই ওই আদেশ দিয়েছিলেন,” বলেন তিনি।
বিবিসি লিখেছে, আপিল আদালতের ওই আদেশেই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আইনি লড়াইয়ের শেষ হচ্ছে না। ট্রাম্প প্রশাসন এ মাসের শুরুতেই নির্বাহী আতেশ নিয়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আদালতের সিদ্ধান্ত বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হয়েছে। সেখানেই এর চূড়ান্ত মীমাংসা হবে।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় গত ২৭ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে প্রথমবার নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন ট্রাম্প। যা নিয়ে বিমানবন্দরগুলোতে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা এবং বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ দেখা দেয়।
সাত দিনের মাথায় সিয়াটলের ফেডারেল আদালত ওই নির্বাহী আদেশের বাস্তবায়ন ‘স্থগিত’ করে দেয়। ৯ ফেব্রুয়ারি একটি আপিল আদালত ওই আদেশ বহাল রাখে।
এক মাস পর মার্চের ৬ তারিখ ট্রাম্প ছয়টি মুসলিম দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করেন। নতুন ওই আদেশে আগের তালিকা থেকে ইরাককে বাদ দেয়া হয়, সিরিয়ার নাগরিকদের ওপর অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে হাওয়াই ও মেরিল্যান্ডের দুটি আদালত ওই নির্বাহী আদেশের বাস্তবায়ন স্থগিত করে।
গত ২৬ মে আপিল আদালত মেরিল্যান্ডের সিদ্ধান্তটি বহাল রাখে। হাওয়াইয়ের আদালতের আদেশ বহালের সিদ্ধান্ত আসে সোমবার।
নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প ‘যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমান প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়ার’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে পরে কিছুটা সরে এসে মার্চে যে সংশোধিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তিনি দেন, তাতে ইরান, লিবিয়া, সিরিয়া, সোমালিয়া, সুদান ও ইয়েমেনের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ৯০ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। পাশাপাশি ১২০ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় সব শরণার্থীর প্রবেশে।
সান ফ্রান্সিসকোর নাইন্থ সার্কিট কোর্ট অব আপিল হাওয়াইয়ের আদালতের আদেশ পর্যালোচনা করে বলছে, কী কারণে ওই ছয় দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেয়া হবে ট্রাম্পের আদেশে তা ব্যাখ্যা করা হয়নি। সেইসঙ্গে শরণার্থীরা কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের ক্ষতি করছে তাও বলা হয়নি।
“এমনকি প্রেসিডেন্ট হলেও অভিবাসন কখনোই ওয়ান ম্যান শোর বিষয় নয়,” বলা হয় আদেশে।
হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র শন স্পাইসার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সন্ত্রাসী হামলা, সহিংসতা ও রক্তপাত বন্ধে যত ধরনের সুযোগ আছে, তা ব্যবহার করতেই প্রেসিডেন্ট ওই আদেশ দিয়েছিলেন।
“আমরা আত্মবিশ্বাসী, যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষা করতে প্রেসিডেন্টের আদেশ পুরোপুরি আইনসিদ্ধ এবং সুপ্রিম কোর্টে তা বহাল থাকবে।”
বিবিসি লিখেছে, ট্রাম্প সন্ত্রাসী হামলার হাত থেকে আমেরিকানদের রক্ষা করতে ওই নিষেধাজ্ঞা জারির কথা বারবার বললেও সাম্প্রতিক সময়ে যতগুলো বড় হামলা হয়েছে, তার কোনোটিতেই ওই ছয় দেশের কোনো নাগরিকের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ নিয়ে আপিল আদালতের সিদ্ধান্ত এল ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে এক বন্দুকধারীর ভয়াবহ হামলার ঘটনার এক বছর পূর্তিতে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ভয়াবহ ওই গুলিবর্ষণের দিন এক মার্কিন নাগরিকের গুলিতে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ