ঢাকা, বুধবার 14 June 2017, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ১৮ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে কেউ খুশি নন -বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ

 

সংসদ রিপোর্টার : ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে ভোক্তা, সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীসহ বিভিন্ন পেশার কেউ খুশি নন বলে জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ বলেন, ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও নতুন আইন বাস্তবায়ন হলে দেশের উৎপাদনশীল শিল্প ও সমস্ত ছোট কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হবে। অর্থমন্ত্রী তার বাজেটে অনেক দূর যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। কিন্তু এ স্বপ্ন বাস্তবায়নের সক্ষমতার যথেষ্ট কমতি রয়েছে।

তাজুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে আমি এক মত। কিন্তু এর আয়-ব্যয়ের কাঠামোর মধ্যে অনেক দুর্বলতা আছে। শুধুমাত্র প্রশাসনিক কাঠামো দিয়ে বাজেট বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। বাজেট বাস্তবায়নে জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ দরকার হলেও তা দেখছি না।

তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট অনেকটা মধ্যবিত্তের উপর নিভর্রশীল। সরকারের আয়-ব্যয়ের পুরোটা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের উপর নির্ভর করছে। প্রস্তাবিত বাজেট সহজে আদায় করা যায় এমন খাত বাড়ানো হয়েছে। ব্যাংকে টাকা রাখায় এবং বিমানের টিকিট কেনায় কর বাড়ানো হয়েছে। অথচ কর না দিয়ে যারা বিদেশে টাকা পাচার করেন তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার কথা নেই বাজেটে।

বিরোধী দলীয় এ নেতা বলেন, বাজেটে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি পড়েছে সাধারণ মানুষের উপর। ঘোষিত বাজেটে ব্যাংকের গ্রাহকেদের উপর বাড়তি আবগারি শুল্কের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই আবগারি শুল্কে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। আমি অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করতে চাই, আবগারি শুল্ক যেন আগেরটাই বহাল থাকে। তা না হলে ব্যাংকে টাকা রাখতে মানুষ নিরুৎসাহী হবে।

তাজুল ইসলাম বলেন, অর্থমন্ত্রী এবার জনগণের সঞ্চয়ের দিকেও নজর দিয়েছেন। উনি সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমানোর কথা বলেছেন। আমি মনে করি এটা ভুল সিদ্ধান্ত। সীমিত ও স্বল্প আয়ের মানুষের সঞ্চয়ের উপর অতিরিক্ত কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। তাদের উপর অতিরিক্ত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের বোঝা চাপানো হয়েছে। এটি একদিকে বৈষম্যমূলক অন্যদিকে রাজস্ব আয়ের একটি ভঙ্গুর পদ্ধতি।

তিনি আরও বলেন, ব্যাপক সমালোচনার মুখে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ব্যাংকে যাদের ১ লাখ টাকা আছে তারা সম্পদশালী। অথচ এই অর্থমন্ত্রী হলমার্কের ঘটনার সময় বলেছিলেন, সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা কোনো টাকাই না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ