ঢাকা, বুধবার 14 June 2017, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ১৮ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মিরসরাইয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী

চট্টগ্রাম অফিস ও  মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এক রাতে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় ৫ হাজার বসতঘর। পানিবন্দী হয়ে আছে উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ। পানিতে তলিয়ে গেছে শত শত একর আউশ রোপা, ভেসে গেছে প্রায় ছয় শতাধিক পুকুরের মাছ। গ্রামীণ সড়কগুলোর উপর দিয়ে বইছে পানির স্রোত। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এতে দুর্ভোগে পড়েছে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ এলাকার মানুষ।
উপজেলার খইয়াছড়া ইউনিয়নের ফেনাপুনী, গোভনীয়া, আমবাড়িয়া গ্রামের প্রায় পাঁচশ পরিবারের বসতঘর হাঁটু পানিতে ডুবে আছে। ছোট ছোট বাচ্চাদের রাখা হয়েছে খাটের ওপর। বাহিরে বের হওয়ার কোন সুযোগ নেই। বাড়ির উঠান ডুবে আছে কোমর পানিতে। পথঘাট, পুকুর তলিয়ে গেছে পানির নিচে। স্থানীয় ইব্রাহীম, সুফিয়া বেগম, আমিন মিয়া জানান, সোমবার সারাদিন বৃষ্টি হলেও  তেমন পানি ছিল না। কিন্তু সন্ধ্যা থেকে প্রচুর বৃষ্টি ও পাহাড়ি পানি নেমে আসায় বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, পুকুর, জমির ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। এলাকার প্রায় পাঁচশত পরিবারের লোকজন ভোর রাতে রান্নাবান্না করতে না পেরে শুধু পানি খেয়ে রোজা রেখেছে। কিন্তু ইফতার কি ভাবে করবে, বাচ্চাদের কিভাবে খাওয়াবে তা নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছে। মসজিদিয়া, নয়দুয়ার, বুজর্নগর গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে আছে। আবুল কালাম নামে একজন জানান, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বাড়ি ঘরে থাকাও কষ্টসাধ্য পড়ে পড়বে।
খাজা মঈন উদ্দিন নামে একজন অভিযোগ করেন, কামারিয়া খাল, মঘাদিয়া-সাহেরখালী খালের ওপর বিভিন্ন স্থাপনা নির্মান করে খাল দখলের কারণে খইয়াছড়া, মঘাদিয়া, মায়ানী ইউনিয়নের মানুষ বৃষ্টি হলে দুর্ভোগে পড়ে। ওয়াহেদপুর ইউনিয়নরে চেয়ারম্যান ফজলুল কবির ফিরোজ জানান, ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মাঝগাঁও, ছোট কমলদহ, উত্তর ওয়াহেদপুর, মধ্যম ওয়াহেদপুর, দক্ষিন ওয়াহেদপুর, সাতবাড়িয়া, জাফরাবাদ, গাছবাড়িয়া, পদুয়া এলাকায় প্রায় এক হাজার পরিবারের বসতঘর পানিতে তলিয়ে আছে। ছোট কমলদহ বাজারসহ গ্রামীণ সড়ক গুলোর ওপর দিয়ে পানির স্রোত বইছে। স্রোতে ভেঙ্গে গেছে হাবিব উল্লাহ ভূঁইয়া সড়ক, নিজামপুর রেলষ্টেশন সড়ক মিয়াচাঁন সড়কসহ কয়েকটি সড়ক। ভেসে গেছে বেশ কিছু পুকুরের মাছ। ছোট কমলদহ তহসিল অফিসে পানি ঢুকে নষ্ট হয়ে গেছে মানুষ গুরুত্বপূর্ন নথিপত্র। জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের খিরমুরালী এলাকায় বসতঘরে পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে হয়েছে প্রায় শতাধিক পরিবার। পানির কারণে ভেঙ্গে পড়েছে কয়েকটি মাটির তৈরি ঘর।
এুহুরী প্রজেক্ট এলাকার মৎস্যচাষী কামরুল হোসেন জানান, টানা বর্ষন ও পাহাড়ি ঢলে ওই এলাকার অনেকে প্রকল্প থেকে মাছ ভেসে গেছে। এতে কয়েক লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।
করেরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন জানান, একটি খালের প্রায় এক হাজার ফুট বাঁধ ভেঙ্গে সরকারতালুক গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবারের বসতঘর হাঁটু পরিমান পানিতে তলিয়ে যায়। পাহাড়ি ঢলের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হয় এলাকার কাঁচা পাকা সড়ক। এছাড়া হিংগুলি, দুর্গাপুর, সাহেরখালী, কাটাছড়া, মিরসরাই সদর ইউনিয়নের বেশির ভাগ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।
মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহম্মদ জানান, মিরসরাইয়ে চলতি মৌসুমে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে আউশ রোপা লাগানো হয়েছে। সোমবারে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্রায় ৪ হাজার হেক্টর রোপা পানিতে তলিয়ে গেছে। এরআগেও ওই রোপাগুলো পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এবার পানি দ্রুত নেমে না গেলে কৃষক ব্যাপক লোকসানে পড়বে।
মিরসরাই উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মাহমুদুল হক জানান, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে হিংগুলী, জোরারগঞ্জ, দুর্গাপুর, মিরসরাই সদর, খইয়াছড়া, ওয়াহেদপুর এলাকার প্রায় ছয় শতাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এতে প্রায়  ৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেনে তিনি।
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়া আহমেদ সুমন জানান, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কারণে বিভিন্ন এলাকায় মানুষ পানিবন্দী হয়ে আছে। চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। যেখানে প্রয়োজন সেখানে শুকনো খাবার দেয়ার জন্য চেয়ারম্যানদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ