ঢাকা, বুধবার 14 June 2017, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ১৮ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ৫০ কিলোমিটার যানজট

কালিয়াকৈর সংবাদদাতা : ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যানজট মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত এক অবস্থানে রয়েছে। সকাল থেকে বৃষ্টি না থাকলেও মহাসড়কে পরিবহনের চাপ না কমায় যানজট কমছে না বলে হাইওয়ে পুলিশ দাবি করেছেন। সোমবার ভোর থেকে মঙ্গলবার  সন্ধ্যে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস থেকে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় হয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পাকুল্যা পর্যন্ত দীর্ঘ ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার ভোর থেকে একদিকে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি অন্যদিক যানজটে পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়ে ওই মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাসসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের যানবাহন। রাতে যানবাহনে চাপ কিছুটা কমলেও মঙ্গলবার সকাল থেকে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়া আবারও যানজটের প্রকটতা বৃদ্ধি পেতে থাকে।
দিনভর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়নি। তবে মহাসড়কে কয়েকটি স্থানে সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেলেও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কালিয়াকৈরের উপজেলার উত্তর হিজলতলী এলাকায় বাসের ধাক্কায় এক মোটর সাইকেল আরোহী আহত হলে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সেখানে যানবাহনের চাপ সৃষ্টি হলে পুরো রাস্তা বন্ধ হয়েছে। অপর দিকে ৪টার দিকে একই এলাকার শিল্প-বৃষ্টি ফিলিং স্টেশন এলাকায় দেশ ট্রাভেলের একটি বাসচালককে মারধর করে একটি মাইক্রোবাস চালক ওতার লোকজন। পড়ে অবশ্য স্থানীয়দের সহায়তায় তা মীমাংসার ব্যবস্থা করা হয়।  
পুলিশ বলছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ী এবং চন্দ্রায় ফ্লাইওভারের  এবং চোর লেনের নির্মাণ কাজ চলমান থাকার কারণে এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এ যানজট চন্দ্রা ত্রিমোড় থেকে মির্জাপুরের পাকুল্যা পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার, চন্দ্রা থেকে ভোগড়া বাইপাস পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার এছাড়াও চন্দ্রা থেকে জিরানী পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে। ঢাকার গেটওয়ে চন্দ্রায় গাড়ী যেন থমকে রয়েছে।
কালিয়াকৈর পরিবহনের এক যাত্রী আইয়ুব রানা জানান,চান্দনা চৌরাস্তা থেকে কালিয়াকৈর উপজেলা পরিষদ পর্যন্ত সময় লেগেছে ৫ ঘন্টা। যেখানে সময় লাগার লাগার কথা মাত্র ৪০ মিনিটি।
এছাড়া দ্রুত যাতায়াতের জন্য দুর্পাল্লার পরিবহনগুলো যাওয়ার জন্য কালিয়াকৈরের আঞ্চলিক সড়কগুলোতে যানজটের সৃষ্টি হতে দেখা যায়। অনেক যানজটের কারণে মহাসড়কের পাশ দিয়ে হেটে যেতে দেখা গেছে। যানজটের সুযোগে ছোট পরিবহনগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে দেখা যায়। ৫ টাকার ভাড়া যাত্রীদের দিতে হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকার দিতে হচ্ছে।
অটোরিক্সা চালক মোঃ জাকির হোসেন জানান, চন্দ্রা থেকে পল্লীবিদ্যুৎ যেতে সময় লাগতে মাত্র ১০ মিনিট এখন সময় লাগছে দেড় ঘন্টা। তাই সময়ের সাথে ভাড়াও বেশি নেয়া হচ্ছে। তাছাড়া স্ট্যান্ডে বিভিন্ন ধরনের চাঁদা পরিশোধ করতে গিয়ে তাদের সমস্যায় পড়তে হয়। 
কোনাবাড়ী (সালনা) হাইওয়ে থানার ওসি কাজী মোহাম্মদ হোসেন সরকার জানান, রোববার রাত থেকে টানা বৃষ্টি থাকার কারণে যানবাহনের একটু বেশি চাপ থাকার ফলেই মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। মহাসড়কে দুই পাশে কাদা থাকায় পরিবহনগুলো সাইট দিতে সমস্যার কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে বলেও তিনি জানান।  তবে অল্প সময়ের মধ্যে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হবে বলেও তিনি দাবি করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ