ঢাকা, বুধবার 14 June 2017, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ১৮ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জনস্বার্থে চট্টগ্রামে মহেশখালের অস্থায়ী বাঁধটি অপসারণ শুরু

চট্টগ্রাম অফিস : আগ্রাবাদ এলাকায় বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মহেশখালের উপর নির্মিত অস্থায়ী বাঁধটির পানি নিষ্কাশনের সু-ব্যবস্থা না থাকার কারণে নগরীর আগ্রাবাদ ও হালিশহর এলাকা প্লাবিত হয়ে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। জলদুর্ভোগ থেকে নগরবাসীকে রক্ষার স্বার্থে মহেশখালের উপর নির্মিত বাঁধটি অপসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। গত ১ জুন বৃহষ্পতিবার, সকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত উল্লেখিত এই তিন সংস্থার যৌথ সভায় মহেশখালের উপর নির্মিত অস্থায়ী বাঁধ (ড্যাম) অপসারণের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। সে সিদ্ধান্তের আলোকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে আবেদন করে। ১৩ জুন সরকারের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মহেশখালের অস্থায়ী বাঁধটি অপসারণ এর কার্যক্রম শুরু করা হয়। বিকেল ৩.৩০ টায় হাজার হাজার জনতার উপস্থিতিতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এ্যাডমিরাল খালেদ ইকবাল যৌথভাবে বাঁধ অপসারণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এসময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. হাবিবুল হক, ৩৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিউল আলম, ৩৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী, ২৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এইচ এম সোহেল, ৩৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, ২৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এস এম এরশাদুল্লাহ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল মহিউদ্দিন আহমেদ, সিএমপি পুলিশ এর উপ পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার, বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সমাজের বিভিন্ন স্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
অস্থায়ী বাঁধ অপসারণ এর লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ইকুপমেন্ট ও জনবল সহযোগিতা প্রদান করছে। অস্থায়ী বাঁধ অপসারণ কর্মসুচি উদ্বোধন কালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, জোয়ারের পানি ঠেকানোর লক্ষে আগ্রাবাদ-হালিশহর এলাকার বাসিন্দাদের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ অস্থায়ী ভিত্তিতে মহেশখালের উপর একটি বাঁধ নির্মাণ করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বর্ষা মৌসুমের অতিবৃষ্টি, তার সাথে জোয়ারের পানিরচাপে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, জনদূর্ভোগ লাঘবের লক্ষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড এর যৌথ সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে মঙ্গলবার মহেশখালের উপর নির্মিত অস্থায়ী বাঁধটি অপসারণ কার্যক্রম শুরু করা হলো। একই সাথে জলাবদ্ধতার হাত থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকাকে স্থায়ীভাবে রক্ষার জন্য মহেশখালের মুখে পাম্পহাউস সহ সø্যুইচ গেইট নির্মাণ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। প্রসঙ্গক্রমে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, জলাবদ্ধতা একটি বিশ্বব্যাপী সমস্যা। বর্ষা মৌসুমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। জলাবদ্ধতা সৃষ্টির নানামুখী কারণ রয়েছে। নগরীতে বিদ্যমান ৪০টি খালের মধ্যে অনেকগুলোই দখল ও দূষণের কবলে পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়া, অসচেতনভাবে নালা-নর্দমার মধ্যে জনসাধারণের ময়লা আবর্জনা ফেলা, নগরের জলাশয়গুলো ভরাট করে ফেলা, পাহাড়ের বালি মিশ্রিত পানি প্রবাহের কারনে নালা-নর্দমা ভরাট হয়ে যাওয়া সহ অতি বৃষ্টির সাথে জোয়ার এবং জলবায়ুর বিরুপ প্রভাব এর কারনে নগরীতে জলাবদ্ধতার মাত্রা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। সিটি মেয়র বলেন, যথাসময়ে আরএস খতিয়ান মূলে ডিজিটাল সার্ভের মাধ্যমে ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো পুনরুদ্ধার এবং অবৈধ দখলদারীদেরকে উচ্ছেদে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নগর উন্নয়নে চসিক, ওয়াসা, কর্ণফুলী গ্যাস, টিএন্ডটিসহ সেবা সংস্থাগুলোর প্রকল্প কাজের বাস্তবায়ন চলছে। এতে করে অতিবৃষ্টির পানি রাস্তায় জলজটের সৃষ্টি করছে। ফলে জলাবদ্ধতা ও যানজটের কবলে পড়ছে নগরবাসী। জলাবদ্ধতার কারনে সৃষ্ট জনদূর্ভোগের জন্য মেয়র নগরবাসীর নিকট আন্তরিক ভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। বাঁধ অপসারণ কার্যক্রম শুরু করার পূর্বে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এ্যাডমিরাল খালেদ ইকবাল বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ জনগণের স্বার্থের পরিপন্থি কেন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে না। জনস্বার্থে মেয়রের সাথে বন্দর কর্তৃপক্ষ এক হয়ে কাজ করে যাবে। উল্লেখ্য যে, জোয়ারের পানির দুর্দশা লাঘবে গত ২ সেপ্টেম্বর মহেশখালের উপর অস্থায়ী ড্যাম নির্মাণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেছিলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী মো. শাহজাহান খান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ