ঢাকা, বৃহস্পতিবার 15 June 2017, ০১ আষাঢ় ১৪২8, ১৯ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দুর্নীতি জিডিপির দুই থেকে তিন শতাংশ খেয়ে ফেলছে -দুদক চেয়ারম্যান

 

স্টাফ রিপোর্টার : দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, দুর্নীতিই দেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় বাধা। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, কেবল দুর্নীতিই দেশের জিডিপির ২ থেকে ৩ শতাংশ খেয়ে ফেলছে। তাই দুর্নীতিকে ন্যূনতম প্রশ্রয় দেয়া হবে না। তিনি বলেন , দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে দণ্ডিত হওয়ার হার বেড়ে ৭০ শতাংশ হয়েছে। গত বছর এই সাজার পরিমাণ ছিল ৫৪ শতাংশ। গতকাল বুধবার দুদক প্রধান কার্যালয়ে ভুটান দুর্নীতি দমন কমিশন ও বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের এক সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা জেনেছি দুর্নীতির মামলায় ভুটানে সাজার হার ৯০ শতাংশ, বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় গত পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে) সাজা হয়েছে ৭০ শতাংশ।”

সমঝোতা স্মারকে দুদকের পক্ষে চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ ও ভুটান দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে চেয়ারপারসন কিনলে ইয়াংজুম স্বাক্ষর করেন।

সমঝোতা স্মারকে দুর্নীতির প্রাথমিক অনুসন্ধান, শনাক্তকরণ, প্রমাণকরণ, দুর্নীতি প্রতিরোধসহ অভিজ্ঞতার বিনিময়, উত্তম চর্চা, দুর্নীতি প্রতিরোধে শিক্ষা কর্মসূচিসহ আটটি বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতা করা হয়। এসময় দুদকের কমিশনার নাসিরউদ্দীন আহমেদ ও এএফএম আমিনুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ভুটানের রাষ্ট্রদূত সোনম টি রেবজি ও ভুটান দুর্নীতি দমন কমিশনের চার কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, “দুর্নীতির ক্ষেত্রে ছোট-বড় কোনো ইস্যু নয়, দুর্নীতি দুর্নীতিই। এই দুর্নীতিই দেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে কেবল দুর্নীতিই দেশের জিডিপির ২ থেকে ৩ শতাংশ খেয়ে ফেলছে। তাই দুর্নীতিকে ন্যূনতম প্রশ্রয় দেয়া হবে না।”

দুর্নীতি দমনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, “বর্তমানে কমিশন দুর্নীতি দমনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। বাংলাদেশে দুর্নীতি দমনে দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা রয়েছে। আমরাও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি অবলম্বন করেছি। বাংলাদেশে দুর্নীতি দমনে এনজিও, সুশীল সমাজ, মিডিয়া তথা সাধারণ মানুষের অকুন্ঠ সমর্থন পাচ্ছি।”

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সর্বশেষ প্রকাশিত দুর্নীতির ধারণা সূচকে ভুটানের অবস্থান ২৭তম জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, “বাংলাদেশের অবস্থানও নিচের দিকে। সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ভুটানের উত্তম চর্চাসমূহ গ্রহণ করতে চায়।“এটা হবে দুই কমিশনের মধ্যে দ্বি-মুখী যোগাযোগ। স্ব-স্ব দেশের আইনি কাঠামোর মধ্য থেকে সকল প্রকারের তথ্য বিনিময় করা হবে।”

ভুটান দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারপারসন কিনলে ইয়াংজুম বলেন, “ভুটান এবং বাংলাদেশের দুর্নীতির প্রক্রিয়া অভিন্ন। ভুটান সরকার দুর্নীতি দমনে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি গ্রহণ করেছে। ভুটানের দুর্নীতি দমন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। “এটি ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০০৬ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু করেছে। দুর্নীতির ক্ষেত্রে ছোট-বড় বলতে কিছু ধারণা করা সমীচীন নয়। যে কোনো দুর্নীতিকেই বিচারের আওতায় আনতে হবে।”

স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে কৌশল, কর্মসূচি, পদ্ধতি, নতুন নতুন নীতিমালাসহ পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্র রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এসকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দুদক এবং ভুটান এসিসি একে অপরকে সহযোগিতা করতে পারবে। এছাড়া পারস্পরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সমঝোতা স্মারক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইয়াংজুম বলেন, সরকারি কেনাকাটা, নির্মাণ এবং ঘুষ লেন-দেন ভুটানের উল্লেখযোগ্য দুর্নীতির ক্ষেত্র। এছাড়া স্বজনপ্রীতি এবং বিশেষ আনুকুল্য ভুটানের দুর্নীতির প্রধান উৎস।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ