ঢাকা, বৃহস্পতিবার 15 June 2017, ০১ আষাঢ় ১৪২8, ১৯ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বাজেটের পরিধি কমিয়ে দুনীতি দমনের পরিধি বাড়াতে হবে

জিবলু রহমান : [পাঁচ]
ব্যাংকিং খাতে ‘চুরিচামারি, জালিয়াতি হয়, অন্য দেশেও হয়’-অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্য সত্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। তিনি বলেছেন, আমরা আশ্চর্য হই একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে অর্থমন্ত্রী কিভাবে এ কথা বলেন। তিনি (অর্থমন্ত্রী) প্রয়োজনে এ বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে দেখতে পারেন। কারণ বাংলাদেশের মতো ব্যাংক ডাকাতির ঘটনা বিশ্বের আর কোথাও হয় না। তবে কোথাও থাকলেও সেটা হচ্ছে মন্দ বা খেলাপি ঋণ। তাও বড়জোর এক থেকে দু’শতাংশের মধ্যে। অথচ আমাদের ব্যাংকিং সিস্টেমে একটা বড় অংশই হচ্ছে মন্দ এবং খেলাপি ঋণ। তিনি বলেন, বেসিক ব্যাংকে লুটপাট হয়েছে। এখনও এর ৬০ শতাংশের বেশি মন্দ ঋণ। বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (বিডিবিএল) ক্ষেত্রেও মন্দ ঋণের হার একই। বলতে দ্বিধা নেই, ব্যাংকিং খাতে লুটতরাজ হচ্ছে। আমরা খুশি হতাম, যদি অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে এই লুটতরাজ বন্ধে জাতিকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়ার কথা শোনাতেন। সেটা না করে যা বলেছেন, সত্যিই দুঃখজনক। এভাবে ব্যাংকগুলো চলতে থাকলে এবং দায়িত্বশীলরা তাদের সাফাই গেয়ে বক্তব্য দিলে পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থাই ধ্বংস হয়ে যাবে।
এদিকে করের টাকায় ব্যাংকের ঘাটতি মূলধন পূরণের তীব্র সমালোচনা করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। ২ জুন বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটের খারাপের দিক হচ্ছে-ব্যাংক লুটেরাদের বিচার না করে উল্টো এ খাতে ভর্তুকি দেয়ার প্রস্তাব। এতে বিচারহীনতার সংস্কৃতি গড়ে উঠবে। বাজেট থেকে এ ধরনের সহায়তা ন্যায়বিচার পরিপন্থী। সরকারি ব্যাংক লুটপাট হয়ে যাচ্ছে, আর এর সঙ্গে জড়িতদের বিচার না করে বাজেট থেকে ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে, এর চেয়ে বড় অন্যায় আর হতে পারে না। (সূত্র: দৈনিক যুগান্তর ৪ জুন ২০১৭)
অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার দিন থেকে গ্যাসের দাম বেড়েছে। বাজেট ঘোষণার সময় নিন্মআয়ের মানুষের খাদ্য মোটা চালের বাজারে বিরাজ করছে ঊর্ধ্বমুখী দাম। একই সঙ্গে সাধারণ আমানতকারীদের ওপর আবগারি শুল্ক হার বাড়িয়ে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। এছাড়া সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট হার বাস্তবায়ন করা হবে পহেলা জুলাই থেকে। যা প্রস্তাবিত বাজেটে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এর ফলে বাড়বে জিনিসপত্রের দাম। জনগণের ওপর এসব চাপিয়ে জীবনের শ্রেষ্ঠতম বাজেট দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী। যা বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই বলে মন্তব্য তাদের (অর্থনীতিবিদ)।
বিদ্যুৎ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে একটি মৌলিক উপাদান। কিন্তু গত ৪-৫ বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা মোটেই বাড়ানো হয়নি এবং পুরনো বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর সংস্কারও করা হয়নি। তাই বিদ্যুৎ উৎপাদনে ধস নেমেছে। ফলে কৃষি ও শিল্পোৎপাদনে ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। লোডশেডিংয়ে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে এবং জনজীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। বাজেটে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে কোনো সুখবর নেই।
নতুন বাজেটে চার লাখ মামলার ভারে  জর্জরিত সুপ্রিম কোর্টের জন্য কোনো প্রকল্প রাখা হয়নি। বর্তমান প্রধান বিচারপতি ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প আইসিটি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করাতে চেয়েছিলেন, একনেক আটকে দিয়েছে। আইন ও বিচার মন্ত্রণালয় বলেছে, আইসিটি নয়, এটা তারাই করবে। কিন্তু কারো নামেই বাজেট বরাদ্দ হয়নি। অর্থমন্ত্রীর বক্তৃতায় ডিজিটাল বিপ্লবের কথা বলা হলেও বিচারবিভাগ অনুপস্থিত। ৩২৪ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের প্রস্তাবও একনেক থেকে ফেরত এসেছে। প্রি-একনেক থেকে ফেরত এসেছে মাত্র ১৮ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ বিচারকদের জন্য বিনোদনকেন্দ্র নির্মাণের একটি প্রস্তাব। এবার একনেক থেকে ৪০টি নতুন হাইকোর্ট বেঞ্চ বসার উপযোগী ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ ‘এনেক্স ভবন টু’ নির্মাণের প্রস্তাবও ফিরে এসেছে।  (সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো ৬ জুন ২০১৭)
২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে সুপ্রিম কোর্টের জন্য বাজেট বরাদ্দ ছিল ১৫৫ কোটি টাকা। এর সবটাই বেতন-ভাতাসংক্রান্ত। সংশোধিত বাজেটে ১৩ কোটি টাকা বেড়েছে, সেটা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আরও ৩ কোটি টাকা কমিয়ে ১৬৫ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। অবশ্য ৮ মে ২০১৭ অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভায় সুপ্রিম কোর্টের প্রতিনিধির সঙ্গে সরকার আলোচনা করেছিল। সুপ্রিম কোর্ট নতুন অর্থবছরে ২০৩ কোটি টাকা দাবি করেছিলেন, তারা ১৮৮ কোটি টাকা দিতে রাজি হয়েছিল। কিন্তু এখন তো দেখা যাচ্ছে, ২৩ কোটি টাকা কম।
বাজেটে সুপ্রিম কোর্ট এবং আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ পৃথকভাবে দেখানো হয়। অধস্তন আদালত পরিচালনার বাজেট আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দেখানো হয়। এর অর্থ এই টাকা খরচে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শের দরকার নেই। আইন ও বিচার বিভাগের জন্য আগের অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৫২০ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে আরও কমে সেটা ১ হাজার ৪২৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। নতুন অর্থবছরে ১ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট, আইন ও বিচার বিভাগের বাজেট যোগ করলে যদি বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়, তাহলে সেটা হবে ১ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা।
বাজারে প্রচার আছে, বর্তমান বিচার প্রশাসনের সাথে সরকারের মামলাগুলো নিয়ে বেশ হটটক হচ্ছে। এর এর মূলে রয়েছে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা মামলাটি। বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস হয়। ২২ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ৫ মে হাইকোর্টের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের ওপর ৮ মে শুনানি শুরু ও কয়েকদিন চলা পর শেষ হয়।
২৩ মে ২০১৭ বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের উদ্দেশে বলেছেন, অধস্তন আদালতকে কবজা করে নিয়ে নিচ্ছেন। এখন চাচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টকে হাতে নিয়ে নিতে।
শুনানিতে অধস্তন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গও ওঠে। প্রধান বিচারপতি শুনানিকালে অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলেন, ‘আপনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা চান কি না।’ জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘অবশ্যই’। তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘অধস্তন জুডিশিয়ারি নির্বাহীর হাতে থাকলে তা কীভাবে হবে?’ অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এটি তো অন্য বিষয়।’ প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘৮০ ভাগ বিচারক অধস্তন আদালতের। ওখানে কার্যত সুপ্রিম কোর্টের নিয়ন্ত্রণ নেই। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বললে এই প্রসঙ্গটি আসবে।’
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট, অধস্তন আদালত পঙ্গু হয়ে গেছে এ কারণে বলতে বাধ্য হচ্ছি।’ অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এটি ভিন্ন প্রসঙ্গ।’ প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘একটি জেলায় পাঁচ মাস ধরে জেলা জজ নেই। তাহলে বিচার বিভাগ কি রকম কার্যকর আছে? জেলা জজ না থাকলে বিচার বিভাগ কি কার্যকর হবে?’ জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এটি আইন মন্ত্রণালয়ের (বিষয়)।’ প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আপনার জবাব হচ্ছে আইন মন্ত্রণালয়ের বিষয়। আর উচ্চ আদালতের বিষয়টি সংসদে নিয়ে গেলেন, তাহলে আর থাকল কী?’
শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বাহাত্তরের সংবিধানে ৯৬ অনুচ্ছেদ যেভাবে ছিল, ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে সেভাবে নিয়ে আসা হয়েছে। সংবিধানের মূল বিধান ঠিক না বিচার বিভাগ (এটা) বলতে পারে না। তবে সংশোধনী সম্পর্কে বলতে পারেন।
শুনানির একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি ষোড়শ সংশোধনী বিল দেখাতে বলেন। এরপর অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ব্যবস্থা সামরিক আইন জারির মাধ্যমে প্রবর্তন করা হয়েছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়। ১৯৭২-এর মূল চেতনায় ফিরে যেতেই সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনা হয়েছে। পঞ্চদশ সংশোধনীর সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে ভালো হতো। ‘মিস হওয়ায়’ দেশের স্বার্থে ওই সংশোধনী আনা হয়।
ষোড়শ সংশোধানী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ে কিছু বিরূপ মন্তব্য রয়েছে বলে উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানিতে বলেন, ‘আশা করি এগুলো বাদ দেয়া হবে।’ প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আপত্তিকর কিছু থাকলে তা বিবেচনা করা হবে। একটি গণতান্ত্রিক সভ্য দেশে একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র হিসেবে অনেক কিছু চিন্তা করে রায় দিতে হয়। মার্শাল লর (সামরিক আইন) কথা বলছেন? এখনো ১৯৮২ (মার্শাল ল আমলের) সালের আইন রয়ে গেছে। অথচ মার্শাল ল গেছে কবে। বিচার বিভাগ চিন্তাভাবনা করে, রাষ্ট্রের কাজে যাতে বিঘ্ন না ঘটে।’
শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী জনগণ সকল ক্ষমতার মালিক। এই চেতনা পুনর্বহালের জন্যই ৯৬ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়েছে। সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন। বিষয়টি এমন না যে, সংসদ সদস্যরা হাত তুললেই বিচারপতি অপসারিত হয়ে যাবেন। আইনে প্রক্রিয়ায় বলা আছে।’
শুনানিতে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্যপদ থাকবে না, এমন বিধানসংবলিত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গও আসে। একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে বলেন, ‘সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদ রেখেছেন কেন?’ জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এর একটি ইতিহাস আছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে “হর্স ট্রেডিং” (দর-কষাকষি) হচ্ছে।’ প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আপনারা তাঁদের (সাংসদ) প্রতি আস্থা রাখতে পারছেন না? তাহলে বিচারকদের ক্ষেত্রে হর্স ট্রেডিং হবে না, এর নিশ্চয়তা কোথায়?’
শুনানির শেষ পর্যায়ে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়ে একজন বিচারপতি লিখেছেন বিরাট সংখ্যক সংসদ সদস্যের ফৌজদারি রেকর্ড রয়েছে। এটি সত্যি হলে তালিকা করে তাঁদের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। আর যদি সত্যি না হয় তাহলে যে বিচারপতি অভিযোগ এনেছেন, তাঁর ব্যাপারেও নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতির কিছু করা উচিত।’ তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আইন না থাকলেও রাষ্ট্রপতি কি একজন বিচারপতিকে অপসারণ করতে পারেন?’ জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এখন সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ব্যবস্থা নেই, আইনও নেই।’ প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এটি কী বললেন? আইন না থাকলেও রাষ্ট্রপতি একজন বিচারপতিকে সরিয়ে দেবেন? কত হাজার বছর পেছনে নিয়ে যাচ্ছেন?’ জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এটা আমার অভিমত। এ বিষয়ে রায়ে বলে দিতে পারেন।’ প্রধান বিচারপতি তাৎক্ষণিক বলেন, ‘আমরা উঠে যাচ্ছি।’
অর্থনৈতিক দুবর্ৃৃত্তায়ন যখন রাজনীতিকে প্রভাবিত করে তখন তা থেকে মুক্তি ছাড়া বিকল্প নেই। পরিবর্তনের জন্য দরকার শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন। সেটি হবে কি না, তা অন্য আলোচনা। তবে এই মুহূর্তে যেটি করা যেতে পারে তা হলো পদ্ধতিগত কিছু পরিবর্তন। বেসরকারি ব্যাংকের মতো সরকারি ব্যাংকের বেলায়ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। একইভাবে দক্ষ লোকদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সার্চ কমিটির মাধ্যমে সরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠনের কথা ভাবা যেতে পারে।
রোজার মাস আর বাজেটের মাস এবার সমান হয়ে গেছে। রোজার মাস শুরুর পর নানা বিষয় আমাদের চিন্তিত করছে। পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে সক্রিয় হয়েছে দেশের অন্যতম পাইকারি বাজার চাকতাই-খাতুনগঞ্জ সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেট কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে নানা টালবাহানা করছে। এ প্রস্তুতি রমজান শুরুর আগেভাগেই ছিল। পরিকল্পিতভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য চিনি, ছোলা, ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এসব পণ্যমূল্য মণপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়েছে।
প্রতি রমজানে চাকতাই-খাতুনগঞ্জের আমদানিকারকদের ওপর প্রশাসনের নজরদারি থাকে বেশি। তাই এবার চাকতাই-খাতুনগঞ্জের সিন্ডিকেটগুলো কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে নতুন কৌশল অবলম্বন করেছে। এর অংশ হিসেবে প্রশাসনকে ধোঁকা দিয়ে রমজানের আগেই মণপ্রতি পণ্যমূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। অজুহাত হিসেবে ডলারের মূল্য এবং বুকিং মূল্য বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। হঠাৎ করেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে দেশের ডলারের বাজার। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডলারের দাম ৩-৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ২৫ এপ্রিল ২০১৭ দেশের আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক লেনদেনে প্রতি ডলার ৮৩ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত দামে বিক্রি হয়েছে। আর খোলাবাজারে প্রতি ডলার লেনদেন হয়েছে সর্বোচ্চ ৮২ টাকা ২৫ পয়সায়। [চলবে]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ