ঢাকা, বৃহস্পতিবার 15 June 2017, ০১ আষাঢ় ১৪২8, ১৯ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

টেকনাফ পাহাড়ে ৩০ হাজার পরিবারের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস

শাহনেওয়াজ জিল্লু, কক্সবাজার : টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে স্থানীয় ও রোহিঙ্গাসহ প্রায় ৩০ হাজার পরিবার। এই বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধ্বসে ঝুঁকিপুর্ণ এসব বসবাসকারীদের প্রাণহানির আশংকা রয়েছে। বিগত সময়গুলোতে পাহাড় ধ্বসে অর্ধশতাধিক মানুষ প্রাণ হারালেও পুনবার্সন না করায় আবারও ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে আসছে তারা। উপজেলা জুড়ে পাহাড়ে দিন দিন বসতি স্থাপনা বাড়ছে। এদের অধিকাংশ রোহিঙ্গা পরিবার। প্রতিনিয়ত সীমান্ত রক্ষীদের ফাঁকি দিয়ে রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে বন সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা গড়ে তোলেছে।
এমনকি টেকনাফ পুরাতন পল্লান পাড়া ও নাইট্যং পাড়া বনবিভাগের অফিসের পাশে স্থানীয় প্রভাবশালীর নাম ভাঙ্গিয়ে সরকারি পাহাড় রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবছর বর্ষায় প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধ্বসে নিহতের ঘটনা ঘটলেও কিন্তু বর্ষা মৌসুমে শুরুতে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে বসবাসকারীদের এখনোও উচ্ছেদ করা হয়নি।
নাইট্যংপাড়া এলাকার সব্বির আহাম্মদ বলেন, আমাদের যাওয়ার মত জায়গা নাই সে জন্য পাহাড়ের একটা ছোট কুড়ে ঘর করে জীবন নিয়ে বেছে আছি। এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, টেকনাফের নাইট্যংপাড়া, পুরাতন পল্লান পাড়া, ফকিরা মুড়া, লম্বরী, জাহালিয়া পাড়া, হাবির ছড়া, রাজারছড়া, বরইতলী, কেরুনতলী, হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া, জাঁদিমুড়া, পানখালী, উলুচামরী, মৌলভী বাজারের রোজার ঘোনা, মরিচ্যা ঘোনা, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কম্বনিয়া পাড়া, নয়াবাজার সাতঘরিয়া পাড়া, নয়াপাড়া, কাঞ্জর পাড়া, লম্বাবিল, লাঁতুড়ি খোলা, চাকমা পাড়া, ও বাহারছড়া ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় বনবিভাগের পাহাড়ে স্থাপনা তৈরী করে বসতবাড়ি করে ঝুকিপূর্ণ ভাবে বসবাস করে আসছে প্রায় ৩০ হাজার পরিবার।
উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ প্রতিবছর বর্ষার শুরুতে ঝুকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করেন কিন্তু এবছরে এখনো পর্যন্ত কোন মাইকিং করা হয়নি। সামনে আবারো ভারি বর্ষণের মৌসুম। আতংক দেখা দিয়েছে এসব পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী পরিবার গুলোর মাঝে। বিপদ জেনেও ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে আসছে এরা। আরোও দেখা গেছে পাহাড়ের বনভূমিগুলো বালু মিশ্রিত। সেখানে বসতি তো দূরের কথা কোন ধরণের অবকাঠামো নির্মাণের জন্য উপযুক্ত নয়। কিন্তু এসব পাহাড়ের বনভূমিগুলো সরকারি বন বিভাগের হওয়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা আদিবাসী, রোহিঙ্গা, স্থানীয় হতদরিদ্র পরিবার ও প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পাহাড়ের ঢালুতে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহেদ হোসেন সিদ্দিকি জানান, ঝুঁকিপুর্ণ পাহাড়ী বসবাসকারীদের মাইকিং করে সরে যেতে নিদের্শ দেওয়া হয়েছে। এরপরও যারা ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করবে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
উখিয়া-টেকনাফে পাহাড় ধস ও বজ্রপাতে নিহত ৩
পাহাড় ধসে পিতা ও শিশু কন্যার মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ১৪ জুন বুধবার রাত ২টায় টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়নের পশ্চিম সাতঘরিয়াপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পাহাড় ধসে নিহতরা হলেন আমির হোসেনের পুত্র মোঃ সেলিম (৪২) এবং তাঁর শিশু কন্যা কিশোমণি (৩)। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো পরিবারের সকলে ঘুমিয়েছিল। হঠাৎ রাত ২টার দিকে বিকট শব্দে পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে। প্রতিবেশী লোকজন এসে দ্রুত উদ্ধার কাজে নেমে পড়লেও ঘটনাস্থলে পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে পিতা ও শিশু কন্যার মৃত্যু ঘটে। হোয়াইক্যং মডেল ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওঃ নুর আহমদ আনোয়ারী সকালে দুর্গম ঘটনাস্থল থেকেই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখ্য, সারা রাত টেকনাফ উপজেলার সর্বত্র বজ্রসহ মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, উখিয়ায় বজ্রপাতে বুধবার রাত ২টার দিকে আবুল কালাম মেস্ত্রী (৪৫) নামে এক ব্যাক্তি নিহত হয়েছে। তিনি উখিয়া উপজেলার রত্নালং ইউনিয়নের রুহুল্লার ঢেবা এলাকার মৃত আলী আহমদ মিস্ত্রীর ছেলে। প্রাথমিকভাবে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। বজ্রপাতে নিহত আবুল কালাম রাতের অন্ধকারে ভারি বৃষ্টি ও প্রচন্ড বজ্রপাতের সময় মাছ ধরছিল বলে জানা গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ