ঢাকা, বৃহস্পতিবার 15 June 2017, ০১ আষাঢ় ১৪২8, ১৯ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জনগণের বিপদে নির্লজ্জ আচরণ করছে ক্ষমতাসীন আ’লীগ

গতকাল বুধবার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপি আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য পেশ করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবানে পাহাড় ধসে মাটিচাপায় মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এত বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে লাশের সংখ্যা যখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, তখন সরকার প্রধান ভ্রুক্ষেপহীন, নিরুদ্বেগে আনন্দ ভ্রমণে সুইডেন সফরে বেরিয়েছেন। তিনি বলেন, কোনো দুর্যোগ হলে সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানরা বিদেশ সফর বাতিল করে নিজ দেশে উপদ্রুত মানুষের পাশে দাঁড়ান। অবশ্য বিপদের সময়ে নিজ দেশের জনগণকে ফেলে চলে যাওয়ার ঐতিহ্য ও ইতিহাস আওয়ামী লীগের আছে। একাত্তর সালেও আওয়ামী লীগ সেই ঐতিহ্য রক্ষা করেছে। ওয়ান-ইলেভেনের সময়েও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সেই ট্রাডিশন রক্ষা করেছেন। গতকাল বুধবার দলের নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে রিজভীর সঙ্গে ছিলেন আবদুস সালাম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল, আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন, আমিরুল ইসলাম খান আলীম, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রীর সুইডেন সফরের কোনো ‘কূটনৈতিক তাৎপর্য নেই’ বলে মনে করেন বিএনপি নেতা রিজভী। তিনি বলেন, দেশের শোক সঙ্কটে অযৌক্তিক বিদেশ ভ্রমণ হবুচন্দ্র রাজার কীর্তিকলাপ ছাড়া আর কিছুই নয়। এই দুর্যোগের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের উপদ্রুত মানুষ, বিধ্বস্ত জনপদ ও অসংখ্য লাশকে উপহাস করার শামিল বলে আমরা মনে করি। এই প্রসঙ্গে ২০০৪ সালে জেএমবির বোমাহামলার সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চীন সফর বাতিলের কথা বলেন রিজভী।
তিনি বলেন, আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে চীন সফরে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সেই সময়ে ৬৪ জেলার মধ্যে ৬৩ জেলায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। তিনি সফর বাতিল করে দেশে ফিরে এসেছিলেন।
শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বিদেশ সফরগুলোর সমালোচনাও করেন রিজভী। বিদেশের যে সমস্ত কনফারেন্সে সচিব পর্যায়ের বা প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ে ব্যক্তি যাওয়ার কথা সেখানে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত হচ্ছেন। পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের জন্য সরকারের সমালোচনা করে বিএনপি নেতা বলেন, পার্বত্য জেলাগুলোতে অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন হয়নি। যদি সত্যিকার অর্থে সেখানে টেকসই উন্নয়ন হত, তাহলে এত মানুষের জীবন যেত না। পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো এড়িয়ে রাস্তা-ঘাট ও বসতি তৈরি হলে শতাধিক মানুষের প্রাণহানি এড়ানো যেত বলে মনে করেন বিএনপি নেতা।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন শুধু কয়েকটা ফ্লাইওভার আর রাস্তা-ঘাট নয়। উন্নয়ন হচ্ছে একটা সামগ্রিক বিষয়। শেখ হাসিনার প্রশাসন যেমন যেমন অকর্মণ্য তেমনি দুর্নীতিগ্রস্ত। স্থানীয় প্রশাসনের অবহেলায় আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে মানুষজন পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী পাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন রিজভী।
প্রাণহানির কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, সম্ভাব্য ল্যান্ডস্লাইড এলাকাগুলো এড়িয়ে রাস্তাঘাট ও লোকবসতি তৈরি হয়নি বলেই এই ভারী বর্ষণে পাহাড় ধ্বসে এতো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। শেখ হাসিনার প্রশাসন যেমন অকর্মণ্য তেমনি দুর্নীতিগ্রস্ত। দলীয় চেতনায় সাজানো প্রশাসনের দ্বারা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে উপদ্রুত মানুষকে উদ্ধারে কোন আন্তরিক উদ্যোগ থাকে না। বৃহত্তর চট্টগ্রামে সেই একই অবস্থা বিরাজমান। কারন সর্বত্র ক্ষমতা-আশ্রীত গুন্ডা মাস্তানের দাপট দিয়েই বর্তমান সরকার ক্ষমতার মসনদ আগলিয়ে রাখতে চায়।
রিজভী বলেন, সরকারের জনভিত্তি ধ্বসে গেছে বলেই জনগণের বিপদের সময় নির্লজ্জ আচরণ করছেন ক্ষমতাসীনরা। এখন বিদেশীদের মন রক্ষার জন্যই প্রধানমন্ত্রী বিদেশে ছোটাছুটি করছেন। বিদেশের যেসমস্ত কনফারেন্সে সচিব পর্যায়ের বা প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের লোক যাওয়ার কথা সেখানে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত হচ্ছেন। জনগণের প্রতি বর্তমান সরকারের বৈরী মনোভাব সর্বজনবিদিত। অন্তহীন ক্ষমতালিপ্সার কারনেই জনগণের বদলে বন্দুকের উপরই ভরসা এই সরকারের। আসলে গণতন্ত্র, সংসদীয় গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, স্বচ্ছ নির্বাচন ও আইনের শাসনের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আজন্ম বিতৃষ্ণা। তাই দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ইমার্জেন্সির সময়ও সরকার প্রধানের বিদেশ সফর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের উপদ্রুত মানুষ, বিধ্বস্ত জনপদ ও অসংখ্য লাশকে উপহাস করারই সামিল। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের তেমন কোন কুটনৈতিক তাৎপর্যও নেই। উন্নয়ন একটি সামগ্রিক বিষয়। প্রাকৃতিক বিপর্যয় তাৎক্ষনিক ও সুচারুভাবে মোকাবেলা করে মানুষের প্রাণ বাঁচানোর মতো আধুনিক দক্ষ উদ্ধারবাহিনী তৈরি করাও উন্নয়নের অংশ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনায় এর প্রি ও পোষ্ট এ্যাফেক্ট উপলব্ধি করে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করাও উন্নয়নের অংশ। বর্তমান সরকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় আধুনিক প্রস্তুতি গ্রহণে ব্যর্থ। আসলে তারা দেশের উন্নয়ন নয়, সর্বদা তারা ব্যস্ত থাকে লুটপাটের মাধ্যমে নিজেদের আর্থিক উন্নয়নে। সেজন্য দেশের প্রাকৃতিক ও মানবিক দুর্যোগে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরে আবারো প্রমানিত হলো- আওয়ামী লীগের কোন মানবিক মুখমন্ডল নেই। দেশকে তারা পরিকীর্ণ মাৎস্যন্যায়ে ঠেলে দিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ