ঢাকা, মঙ্গলবার 17 October 2017, ২ কার্তিক ১৪২8, ২৬ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ফাইনালের আগে সমানে সমান ভারত-পাকিস্তান

অনলাইন ডেস্ক: আইসিসির বৈশ্বিক ইভেন্টে ভারত-পাকিস্তান মানে এক টানটান উত্তেজনা। কিন্তু এ দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি হেসেছে ভারত। আইসিসির কোনও টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে তাদের জয়-পরাজয়ের রেকর্ড ১৩-২। যেখানে আকাশ-পাতাল ব্যবধানে এগিয়ে ভারত। তবে মঞ্চ যখন চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, তখন পাকিস্তানের আত্মবিশ্বাসও কম হওয়ার কথা নয়। কারণ ভারতের বিপক্ষে আইসিসির টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের দুটি জয়ই তো এসেছে এ প্রতিযোগিতায়। অবশ্য এ মঞ্চে জয়-পরাজয়ের পরিসংখ্যানে পাকিস্তানকে ধরে ফেলেছে ভারত। চারবারের মুখোমুখি লড়াইয়ে ভারত-পাকিস্তান দুটি করে ম্যাচ জিতেছে। তবে আজ দুই দল সুযোগ পাচ্ছে একে অপরকে টপকে যাওয়ার। কে কাকে পেছনে ফেলবে সেজন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে এর আগে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে দুই দলের আগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা তুলে ধরা হলো বাংলা ট্রিবিউন পাঠকদের জন্য-শোয়েব-নাভেদের পেসে কুপোকাত ভারত।

আইসিসির ইভেন্টে ভারত-পাকিস্তান লড়াই মানেই ভারতের জয়। ২৬ বছর ধরে চলা এ প্রচলিত ধারণা পাল্টে গেল ২০০৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সি গ্রুপের ম্যাচে ‍মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তান। এজবাস্টনে ওইদিন দুর্দান্ত ফর্মে ছিল নাভেদ উল হাসান ও শোয়েব আখতার। দুই পেসারের আগুন বোলিংয়ে ৪৯.৫ ওভারে ২০০ রানে সব উইকেট হারায় ভারত। রাহুল দ্রাবিড় কোনওভাবে দেয়াল গড়েছিলেন দুই বোলারের সামনে। শোয়েব ও তার মধ্যে বেশ কয়েকবার তর্কাতর্কি হয়েছিল আলোচিত। তবে দ্রাবিড়কে শোয়েব নয়, ফেরান নাভেদ।

১০৮ বলে মাত্র ৪টি চারে ৬৭ রানের ধীরস্থির এক ইনিংস খেলে নাভেদকে ফিরতি ক্যাচ দেন দ্রাবিড়। নাভেদ টপ অর্ডারে চিঁড় ধরান, আর শোয়েব মিডল অর্ডার থেকে শুরু করে টেল এন্ডারে তোপ দাগান। দুজনেই ৪টি করে উইকেট নেন।

মাত্র ২০১ রানের লক্ষ্যে নেমে হোঁচট খেয়েছিল পাকিস্তান। ইরফান পাঠানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ২৭ রানের মধ্যে তাদের প্রথম তিন ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফিরেছিলেন। তবে ইউসুফ ইয়োহানা (মোহাম্মদ ইউসুফ) ম্যাচসেরা ইনিংস খেলে দলকে জেতান। ৪৯.২ ওভারে ৭ উইকেটে ২০১ রান করে পাকিস্তান। ইউসুফ অপরাজিত ছিলেন ৮১ রানে। আইসিসির কোনও প্রতিযোগিতায় প্রথমবার ভারতকে ৩ উইকেটে হারানোর স্বাদ পায় পাকিস্তান।

সেঞ্চুরিয়নে মালিক জেতালেন পাকিস্তানকে

২০০৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর আবারও আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে মুখোমুখি পাকিস্তান ও ভারত। সেঞ্চুরিয়নের সুপারস্পোর্ট পার্কে শুরুটা কিন্তু ভারতের পক্ষে ছিল। কিন্তু দাঁড়িয়ে গেলেন শোয়েব মালিক। আশিষ নেহরার তোপে ৬৫ রানে ৩ উইকেট হারানো পাকিস্তানকে ৯ উইকেটে ৩০২ রান এনে দিতে সেঞ্চুরি করেন এ ব্যাটসম্যান। তাকে উপযুক্ত সঙ্গ দেন ইউসুফ। ২০৬ রানের জুটি গড়েন তারা। মালিক ১২৮ ও ইউসুফ করেন ৮৭ রান।

ভারতের পক্ষে বল হাতে নেহরা ওই ম্যাচে নেন ৪ উইকেট। ২টি পান ইশান্ত শর্মা।

লক্ষ্যে নেমে গৌতম গম্ভীর (৫৭) ও রাহুল দ্রাবিড়ের (৭৬) হাফসেঞ্চুরিতে দাপুটে জয়ের চিন্তা করছিল ভারত। কিন্তু পাকিস্তানের বোলাররা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে তাদের স্বপ্নভঙ্গ করেন। মোহাম্মদ আমির, নাভেদ উল হাসান, সাঈদ আজমল ও শহীদ আফ্রিদি প্রত্যেকে ২টি করে উইকেট নেন। ভারত ৪৪.৫ ওভারে গুটিয়ে যায় ২৪৮ রানে। পাকিস্তান আইসিসির মঞ্চে ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় জয়টি পায় ৫৪ রানে।

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে দাপুটে ভারত

আবারও সেই বার্মিংহামের এজবাস্টন, ২০০৪ সালের স্মৃতি ফিরে এলো ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে। কিন্তু সেই ফলের পুনরাবৃত্তি হলো না। বৃষ্টির হস্তক্ষেপ শেষে পাকিস্তানের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে প্রথম ম্যাচ জিতল ভারত ৮ উইকেটে।

বৃষ্টিতে পাকিস্তান সুযোগ পায় ৪০ ওভার ব্যাট করার। কিন্তু ২ বল বাকি থাকতে তারা অলআউট হয় ১৬৫ রানে। সর্বোচ্চ ৪১ রান করেন আসাদ শফিক। অন্য কেউই ত্রিশের ঘরে যেতে পারেনি। ভারতের ভুবনেশ্বর কুমার, ইশান্ত শর্মা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজা ২টি করে উইকেট নেন।

লক্ষ্যে নেমে আবারও বৃষ্টির বাধা। ভারতের সামনে টার্গেট দাঁড়ায় ২২ ওভারে ১০২ রান। শিখর ধাওয়ানের ৪৮ রানের সুবাদে সেটা পেতে খুব বেশি অসুবিধা হয়নি ভারতের। ১৯.১ ওভারে ২ উইকেটে ১০২ রান করে তারা। ওই আসরে চ্যাম্পিয়নও হয় ভারত।

পাকিস্তানকে পাত্তা দিলো না ভারত

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাকিস্তান ও ভারতের সর্বশেষ মুখোমুখি লড়াই সপ্তাহখানেক আগে। গত ৪ জুন গ্রুপে একে অপরকে মোকাবিলা করতে নেমেছিল সেই এজবাস্টনে। এবারও ফল হলো গতবারের মতো। ভারত ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে পাকিস্তানকে হারাল ১২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে।

রোহিত শর্মা সেঞ্চুরির আক্ষেপ নিয়ে সাজঘরে ফিরেছিলেন, ৯১ রানে। কিন্তু শেষদিকে বিরাট কোহলি ও যুবরাজ সিংয়ের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে মাত্র ৩ উইকেটে ৩১৯ রান করে ভারত। কোহলি ৬৮ বলে ৮১ রানে অপরাজিত ছিলেন। যুবরাজ করেন ৩২ বলে ৫৩ রান। শিখর ধাওয়ান খেলেন ৬৮ রানের ইনিংস।

জবাব দিতে নেমে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা দাঁড়াতে পারেননি। ৪১ ওভারে তাদের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৮৯ রানের। আজহার আলী (৫০) ও মোহাম্মদ হাফিজ (৩৩) ছাড়া আর কেউ সামান্য প্রতিরোধও গড়তে পারেননি। ৩৩.৪ ওভারে ১৬৪ রানে অলআউট পাকিস্তান। ভারতের উমেশ যাদব ৩টি উইকটে নেন। ২টি করে পান হার্দিক পান্ডিয়া ও রবীন্দ্র জাদেজা।

- bangla Tribune

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ