ঢাকা, সোমবার 19 June 2017, ০৫ আষাঢ় ১৪২8, ২৩ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ওষুধ বাণিজ্য : ক্রেতাস্বার্থ রক্ষা করুন

বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের উন্নতি হয়েছে, কিন্তু এর কার্যকর সুফল পাচ্ছে না রোগীরা। এ নিয়ে ১৭ জুন একটি প্রতিবেদন মুদ্রিত হয়েছে পত্রিকায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগ্রাসী ওষুধ বাণিজ্যের কারণে ক্রেতাস্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে। ওষুধের দাম, মান ও কার্যকারিতা সম্পর্কে গণমাধ্যমে প্রচারের সুযোগ না থাকায় জীবন রক্ষাকারী ওষুধ এখন মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভসহ মধ্যস্বত্বভোগীদের মুনাফার বাহন হয়ে উঠেছে। আমরা জানি, অসুখে-বিসুখে সাধারণ মানুষ ফার্মেসি এবং ডাক্তারের ওপরই নির্ভর করে থাকে। অথচ ওষুধ সম্পর্কে নিজেদের জানার কোন সুযোগই নেই। উল্লেখ্য যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডাক্তাররা ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকেন। আর ডাক্তার এবং ফার্মেসির ওপর ভরসা রেখেই যেন চলছে বাংলাদেশের ওষুধ বাণিজ্য। কয়েক হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ, বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান এবং দেশের বাজারে ৯৭ শতাংশ চাহিদা পূরণ করে রফতানি খাতেও অবদান রাখছে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প। তবে দুঃখের বিষয় হলো, এই শিল্পটি জনসচেতনতায় কোন ভূমিকা রাখতে সমর্থ হচ্ছে না। নিজস্ব ওষুধের উপাদান এবং কার্যকারিতা নিয়ে কোন প্রচার না থাকায় সাধারণ ক্রেতারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানসম্পন্ন ওষুধের পরিবর্তে নিম্নমানের ও নকল ওষুধ ব্যবহার করে আরোগ্য লাভের পরিবর্তে স্বাস্থ্যগত জটিলতায় পড়ছেন। ওষুধ শিল্পমালিক সমিতির কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি ওষুধ নীতির বাধ্যবাধকতার কারণে তারা সংবাদ মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে তাদের কোন প্রোডাক্ট সম্পর্কে ক্রেতাদের জানাতে পারছেন না। ফলে মানুষ নকল ওষুধ ও নিম্নমানের ওষুধ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। সাধারণ ক্রেতারা বুঝতে পারেন না কোন ওষুধ তারা কিনবেন কিংবা কোনটা কেনা উচিত নয়। এ সুযোগে অসাধু চক্র মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও লেবেল পাল্টে বাজারে বিক্রি করছে। কার্যকর তদারকির অভাবে এ অনৈতিক বাণিজ্য ঠেকানো যাচ্ছে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বিজ্ঞাপন বাজারে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রচার কার্যক্রম লক্ষ্য করা গেছে, কিন্তু এতে ওষুধ শিল্পের কোন অবদান নেই। অথচ ডাক্তারদের ব্যবস্থাপত্রে নিজেদের কোম্পানির ওষুধের নাম লেখানোর জন্য তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে থাকে। কোন কোন ওষুধ কোম্পানি ডাক্তারের চেম্বারে ও বাসায় ফ্রিজ, এসি, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন উপঢৌকন পাঠিয়ে নিজেদের আস্থায় রাখার চেষ্টা করেন। ডাক্তারদের বিদেশ ভ্রমণের রসদও জোগান দেয়া হয়। এমনকি ফ্ল্যাট ও বাড়ি কিনে য়োর কথাও চালু রয়েছে ওষুধ কোম্পানির টাকায়। গত ৪ বছরে ৫০টির বেশি নতুন ওষুধ শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে দেশে। ওষুধের রফতানি বাজারও বাড়ছে প্রতি বছরই।
আমেরিকা, ইউরোপসহ বিশ্বের প্রযুক্তিনির্ভর দেশগুলোতেও বাংলাদেশের ওষুধের বাজার সৃষ্টি হচ্ছে। এটি দেশের জন্য ভালো খবর। কিন্তু দেশের বহু মানুষ সঠিক ওষুধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই নকল ও নিম্নমানের ওষুধের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে। এ জন্য তদারকির পাশাপাশি প্রয়োজন যথাযথ প্রচারণাও। কিন্তু ওষুধ নীতির বাধ্যবাধকতার কারণে ওষুধের মান ও কার্যকারিতার বিষয়গুলো প্রচার করা যাচ্ছে না। তাই এই প্রতিবন্ধকতাটি তুলে নেয়ার দাবি উঠেছে। ওষুধ সম্পর্কে ক্রেতাদের জানানোর ব্যবস্থা করতে হবে। নইলে ওষুধ নিয়ে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে না। কনজুমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান জানান, দেশের প্রায় ১০ শতাংশ ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদন করছে। আর কিছু নীতিহীন চিকিৎসক অর্থলিপ্সার কারণে ব্যবস্থাপত্রে নিম্নমানের ওষুধের নাম লিখছেন। ক্রেতা স্বার্থে এসব বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু বন্ধ হবে কী?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ