ঢাকা, রোববার 25 June 2017, ১১ আষাঢ় ১৪২8, ২৯ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভারতকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান

ভারতকে হারানোর পর পাকিস্তান দলের উল্লাস

 

পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ৩৩৮/৪ 

ভারত : ৩০.৩ ওভারে ১৫৮/১০

পাকিস্তান ১৮০ রানে জয়ী

রফিকুল ইসলাম মিঞা : আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো পাকিস্তান। গতকাল রোববার ওভালে চ্যাম্পিয়ন ভারতকে ১৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির নতুন চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তানের ফাইনালে ক্রিকেট ভক্তরা দেখল অন্য এক পাকিস্তানকে। ভারতের মতো দলকে ব্যাটে-বলে একেবারে পাত্তা না দিয়ে শিরোপা জয় করলো পাকিস্তান। পাকিস্তানের এই বিজয়ে ব্যাট হাতে ফখর জামান আর বল হাতে মোহাম্মদ আমিরই দলকে জয় এনে দেন। আগে ব্যাট করে পাকিস্তান ৪ উইকেটে করেছিল ৩৩৮ রান। জয়ের জন্য ভারতের সামনে টার্গেট ছিল ৩৩৯ রান। ভারত ৩০.৩ ওভারে ১৫৮ রানে অলআউট হলে পাকিস্তান জয় পায় ১৮০ রানে। 

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের কাছে হার দিয়েই শুরু করেছিল পাকিস্তান। সেই ভারতকে ফাইনালে নাস্তানাবুদ বানিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলো পাকিস্তানই। গতকাল ফাইনালে ভারতকে এতো সহজে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হবে তা মোটেও ভাবেনি পাকিস্তান। কিন্তু মাঠে নেমে ফাইনাল ম্যাচে পাকিস্তান খেলল নিজেদের সেরা খেলাটা। আর ভারতকে হারিয়ে বিশ্বক্রিকেটে নিজেদের সেরা প্রমাণ করেই মাঠ ছাড়ল। জয়ের জন্য ভারতের সামনে টার্গেট ছিল ৩৩৯ রান। টার্গেটটা কঠিনই ছিল ভারতের জন্য। কিন্তু ব্যাটিংনির্ভর ভারত এই বিশাল রান টপকে জয়ের আশাও করেছিল। কিন্তু ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানী বোলারদের বোলিং আক্রমণে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় ভারতের সব আশা। বিশেষ করে পাকিস্তানের বোলার মোহাম্মদ আমিরের বোলিং আক্রমণ ঠেকাতে ভারত হারায় টপঅর্ডারের ব্যাটসমানদের। আমিরের বোলিংয়ে শুরু থেকেই বিপদে পড়ে ভারত। টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের দাঁড়াতেই দেননি আমির। বাঁহাতি এ পেসার প্রথমেই তুলে নিয়েছেন ভারতের তিন উইকেট। ৩৩ রানের মধ্যে রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি ও শিখর ধাওয়ানকে সাজঘরে পাঠান আমির। আমিরের তৃতীয় বলে এলবিডবি¬উর শিকার রোহিত। রানের খাতা না খুলে বিদায় নেন ভারতীয় ওপেনার। ব্যাট করতে নেমে এটাই ছিল ভারতের বড় হোঁচট। এখানেই শেষ নয়। আমির তার দ্বিতীয় ওভারেই কোহলিকে বানান শাদাব খানের ক্যাচ। আগের বলে জীবন পাওয়া ভারতীয় অধিনায়ক কোহলি আউট হন ৫ রানে। আর নিজের পঞ্চম ওভারে ভারতের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান ধাওয়ানকে ২২ রানে সরফরাজ আহমেদের ক্যাচ বানান আমির। এরপর যুবরাজ সিং ও মহেন্দ্র সিং ধোনি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তারাও ছিলেন ব্যর্থ। ২২ রানে শাদাব খানের বলে এলবিডবি¬উ হন যুবরাজ। পরের ওভারে হাসান আলী ফেরান মহেন্দ্র সিং ধোনিকে। ইমাদ ওয়াসিমের হাতে ৪ রানে ক্যাচ দেন এ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। ফলে ৫৪ রানে ভারত হারায় ৫ উইকেট। আর এখানেই শেষ হয়ে যায় ভারতের স্বপ্ন। দলীয় ৭২ রানে ভারত হারায় ৬ উইকেট। এবার ৯ রান করে বিদায় নেন যাদব। তাকে ফেরান শাদাব। তবে সপ্তম উইকেট জুটিতে পান্ডে আর জাদেজা মিলে দলকে ভালোই এগিয়ে নিচ্ছিলেন। কিন্তু দলীয় ১৫২ রানে পান্ডের বিদায়ে ভাংগে এই জুটি। রান আউট হওয়ার আগে পান্ডে ৪৩ বলে করেন ৭৬ রান। দলের পক্ষে এটাই সর্বোচ্চ স্কোর। পান্ডের বিদায়ে পাকিস্তান দলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অগ্রিম আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। দলীয় ১৫৬ রানে জাদেজা বিদায় নেন ১৫ রান করে। তাকে ফেরান জুনায়েদ খান। আর দলীয় ১৫৮ রানে বুমরাকে ফিরিয়ে হাসান আলী ভারতকে আটকে ফেলে ১৫৮ রানে। পাকিস্তানের পক্ষে মোহাম্মদ আমির ও হাসান আলী ৩টি আর শাদাব খান নেন ২টি করে উইকেট। 

এর আগে, টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ফখর জামানের সেঞ্চুরিতে ভারতের বিপক্ষে চার উইকেটে ৩৩৮ রানের বিশাল স্কোর গড়ে পাকিস্তান। ভারতের বিপক্ষে আগে ব্যাট করে এটাই পাকিস্তনের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। পাকিস্তানের পক্ষে ফখর জামান সেঞ্চুরি আর আজহার আলী ও মোহাম্মদ হাফিজ হাফসেঞ্চুরি করেই দলকে বিশাল স্কোরে নিয়ে যান। দলের পক্ষে ফখর জামান ১১৪, আজহার আলী ৫৯ ও মোহাম্মদ হাফিজ অপরাজিত ৫৭ রান এবং বাবর আজম ৪৬ রান করেন। ভারতের কোনো বোলারই ফাইনাল ম্যাচে পাত্তা পায়নি পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের কাছে। ব্যাট করতে নেমে প্রথম থেকেই দু’ ওপেনার ফখর জামান আর আজহার আলী দলকে ভালো সূচনা এনে দেয়ার চেষ্টা করেন। তবে ব্যক্তিগত ৩ রানেই ফিরতে পারতেন ফখর। কিন্তু নো বলে জীবন পেয়ে টিকে যান তিনি। এরপর আর তাকে পিছনে তাকাতে হয়নি। জীবন পেয়ে আরেক ওপেনার আজহার আলীকে নিয়ে ভারতীয় বোলারদের উপর চড়ে বসেন তিনি। ফলে ১৮তম ওভার শেষে ১০০ রানে পৌঁছে যায় পাকিস্তান। দলীয় ১২৮ রানে ভাংগে পাকিস্তানের সেরা এই ওপেনিং জুটি। তবে রান আউটের ফাঁদে পড়ে আউট হন আজহার। ৬টি চার ও ১টি ছক্কায় ৭১ বলে ৫৯ রান করেন তিনি। আউট হবার আগে জামানকে নিয়ে আইসিসির ইভেন্টে ভারতের বিপক্ষে উদ্বোধনী জুটিতে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েন আজহার। দ্বিতীয় উইকেটে জুটিতেও বড় স্কোর পেয়েছে পাকিস্তান। এই জুটি ভাংগার আগে পাকিস্তান পৌঁছে যায় ২০০ রানে। জামানের সাথে ৬১ বলে ৭২ রানের জুটি গড়েন বাবর আজম। এরমাঝে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করেন জামান। ভারতের মিডিয়াম পেসার হার্ডিক পান্ডের বলে আউট হবার আগে ১২টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১০৬ বলে ১১৪ রান করেন তিনি। জামানকে ফিরিয়ে দেয়ার পর চার নম্বরে নামা শোয়েব মালিককে ১২ রানের বেশি করতে দেননি ভুবেনশ্বর। ১৬ বলে ১২ রান করেন মালিক। ফলে দলীয় ২৪৭ রানে পাকিস্তান হারায় তৃতীয় উইকেট। মালিক আউট হলেও বাবর আজমকে নিয়ে মোহাম্মদ হাফিজ দলের রানের গতি সচল রাখতে চেষ্টা করেন। কিন্তু দলীয় ২৬৭ রানে পাকিস্তান হারায় চতুর্থ উইকেট। এবার বাবর আজমকে ফিরতে হয় ৪৬ রানে। ৫২ বলে ৪৬ রান করা বাবরকে শিকার করেন অফ-স্পিনার কেদার যাদব। দলীয় ২৬৭ রানের পাকিস্তানের চার উইকেট নিয়ে ভারত তিনশত রানের মধ্যে পাকিস্তানকে আটকে রাখার চিন্তা করেছিল। কিন্তু সেটি সফল হতে দেননি মোহাম্মদ হাফিজ ও  ইমাদ ওয়াসিম। এই জুটি আর কোনো উইকেট না হারিয়ে দলকে নিয়ে গেছে ৩৩৮ রানের বিশাল স্কোরে। পঞ্চম উইকেটে ৪৫ বলে ৭১ রান যোগ করেন হাফিজ-ওয়াসিম। ফলে ৪ উইকেটে ৩৩৮ রানের বড় সংগ্রহ পায় পাকিস্তান। ৫৭ রানে অপরাজিত থাকেন হাফিজ। তার ৩৭ বলের ইনিংসে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কা ছিলো। অন্যপ্রান্তে ১টি করে চার ও ছক্কায় ২১ বলে অপরাজিত ২৫ রান করেন ওয়াসিম। ভারতের ভুবেনশ্বর, পান্ডে ও কেদার ১টি করে উইকেট নেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ