ঢাকা, রোববার 20 August 2017, ০৫ ভাদ্র ১৪২8, ২৬ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

গাজীপুর এবারও ভোগাবে উত্তরের যাত্রীদের

অনলাইন ডেস্ক: গাজীপুরের ওপর দিয়ে যাওয়া দুই মহাসড়ক ঢাকা-ময়মনসিংহ এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঈদযাত্রায় এবারও ভোগান্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে যেসব কারণে যানজট বেঁধেছিল সেগুলোর সমাধান হয়নি এখনও। তার ওপর গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে রাস্তা ভেঙে গেছে বিভিন্ন এলাকায়। ফলে যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। গাড়ির চাপ বাড়লে পরিস্থিতি সামাল দেয়া যাবে কি না, সে নিয়ে আশঙ্কায় খোদ পুলিশ।  

টানা বৃষ্টি আর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভাল না হওয়ায় গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে ছোট বড় অসংখ্য গর্তের। মহাসড়কের অনেক স্থানে ওঠে গেছে কার্পেটিং। আর ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার লেনের কাজ এগিয়ে চলায় মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও গুরুত্বপূর্ণ দুটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করাকে কেন্দ্র করে এ মহাসড়কে সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিদিন যানজট।

তবে সড়ক বিভাগ বলছে, মেগা প্রকল্পের অধীনে থাকায় এ মহাসড়কে কিছুটা সমস্যা হলেও সড়ক সংস্কারের জন্য তারা কাজ করছেন।

ঈদে ঢাকা থেকে ১১৭টি রুটের যাত্রীরা ব্যবহার করেন ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক। এর মধ্যে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত মহাসড়কের অংশে বৃষ্টির পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে ছোট বড় অনেক গর্ত। অনেক স্থানে ওঠে গেছে কার্পেটিং। সামান্য বৃষ্টিপাতে মহাসড়কের দুই পাশে জমে হাঁটু পানি।

ড্রেনেজ ব্যবস্থা অপ্রতুল ও মহাসড়কে দীর্ঘদিন সংস্কার কাজ না হওয়ায় সড়কটি এখন ব্যবহারকারীদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া এলোমেলো গাড়ি পার্কিং, ইউটার্ন ও শ্রমিক অধ্যুষিত থাকায় মহাসড়কের এই অংশে প্রতিদিন সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট।

চেরাগআলী ও বোর্ড বাজার এবং চান্দনা চৌরাস্তার অনেক জায়গায় ফুটপাতে দোকান গড়ে ওঠেছে প্রশাসনের ছত্রছায়ায়। ফলে যানজটের কারণে এক ঘণ্টার রাস্তা অতিক্রম করতে তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় বেশি লাগছে যাত্রীদের। এতে রমজান মাসে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।

শেরপুরগামী শাহজালাল পরিবহনের যাত্রী রহমত আলী জানান, সকাল ১১ টায় আব্দুল্লাহপুর থেকে বাসে ওঠেছেন তিনি। কিন্তু পথে দীর্ঘ যানজট ও ভাঙাচোরা সড়কের কারণে তাদের বহনকারী গাড়িটি বিকেল চারটায় চান্দনা চৌরাস্তায় এসে পৌঁছেছে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ী ও চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় যানবাহন চলাচলের সুবিধায় নির্মিত হচ্ছে দুইটি ফ্লাইওভার। এছাড়া ভোগড়া বাইপাস থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেনের উন্নীতকরণের কাজ এগিয়ে চলছে পুরোদমে। মহাসড়কের উন্নয়ণে মাটি ভরাট, ইট বিছানোসহ বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং কাজে ভারী যন্ত্রপাতি ও উপকরণ ব্যবহার করায় এ মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে কোনাবাড়ি, সফিপুর, চন্দ্রা ও কালিয়াকৈরসহ টাঙ্গাইল অংশে ঘন্টার পর ঘন্টা যানবাহনে আটকে থেকে নাকাল হতে হচ্ছে যাত্রীদের। বৃষ্টি হলে যানজট বাড়ে আরও বেশি।

এই মহাসড়ক ব্যবহারকারী যাত্রীরা বলছেন, মহাসড়কের উন্নয়নকাজের জন্য ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। আসন্ন ঈদে সড়কের প্রশস্ত করণের কাজ চলার পাশাপাশি লক্কর ঝক্কর মার্কা ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল করলে যানজটের তীব্রতা আরো বাড়বে। এজন্য ট্রাফিক বিভাগকে ঢেলে সাজানো ও চালকদের নিয়ম মানার কথা বলছেন তারা।

আর চালকরা বলছেন, প্রতিবছর ঈদে ঢাকা টাঙ্গাইল মহসড়কের চন্দ্রা ও আশেপাশের এলাকায় তীব্র যানজটে সৃষ্টি হয়। এবার মহাসড়কের প্রশস্তকরণের কাজ চলার পাশাপাশি বৃষ্টিপাত হলে এমনিতেই যানজটে তাদের নাকাল হতে হচ্ছে। এ অবস্থায় এক ঘন্টার রাস্তা তিন/চার ঘন্টায় অতিক্রম করায় জ্বালানি খরচ বাড়ার পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে ভ্রমণের সময়। ঈদের আগে মহাসড়কে মেরামত কাজ বন্ধ এবং ট্রাফিক পুলিশ ঠিকভাবে কাজ করলে যাত্রীরা তাদের গন্তব্যে পৌছতে পারবে বলে মনে করছেন চালকরা।

ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত মহাসড়কটি বিআরটিএ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে জানিয়ে গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ডি এ কে এম নাহীন রেজা বলছেন, মেগা প্রকল্প চলমান থাকায় সড়কে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।  তবে সড়ক বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে রাস্তা তাৎক্ষণিকভাবে মেরামত করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া মহাসড়কে অবৈধ ফুটপাত উচ্ছেদে জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং সড়ক বিভাগ একযোগে কাজ করবে বলে জানান নাহীন রেজা।

যানজট ও যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে পুলিশ প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান গাজীপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। তিনি বলেন, ‘এবার রমজানের ঈদে প্রায় ৩০ লাখ শ্রমিক গাজীপুর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঈদ করতে বাড়ি ফিরবে। তাদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে জেলা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ এবং আনসার সদস্য ও এক হাজার কমিউনিটি পুলিশ সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে যানজট নিরসনে কাজ করছে।’

যাত্রীদের নিরাপত্তায় ৫২টি টহল দল, চেকপোস্ট বসানো ছাড়াও বিভিন্ন পয়েন্টে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে। ঈদের আগে ঘরমুখো মানুষ যাতে নির্বিঘেœ বাড়ি ফিরতে পারে সেজন্য যা যা করা দরকার তা-ই করা হবে বলে জানান পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, ‘এজন্য ঈদের দিন পর্যন্ত পুলিশ মহাসড়কে অবস্থান করবে। আশা করছি এবারের ঈদে মানুষ স্বাচ্ছন্দে বাড়ি ফিরতে পারবে।’-ঢাকা টাইমস

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ