ঢাকা, রোববার 25 June 2017, ১১ আষাঢ় ১৪২8, ২৯ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অনলাইন নিবন্ধন নীতিমালায় কী থাকছে?

অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা-২০১৭’র খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।

দেশের সব অনলাইন গণমাধ্যমকে নিবন্ধিত হতে হবে। এছাড়াও বেতার, টেলিভিশনের মতো অনলাইন গণমাধ্যমও দেখভাল করবে সম্প্রচার কমিশন।

সম্প্রচার কমিশন থেকেই অনলাইন গণমাধ্যমকে নিবন্ধন নিতে হবে। তবে পত্রিকার অনলাইন ভার্সনের জন্য আলাদাভাবে নিবন্ধন করতে হবে না। নিবন্ধন ফি কত হবে তা কমিশন নির্ধারণ করবে।

অনলাইন গণমাধ্যমের খসড়া নীতিমালার তথ্য-উপাত্ত প্রচার, প্রকাশ ও সম্প্রচার সংক্রান্ত বিষয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধর ইতিহাস সংরক্ষণ করার কথা বলা হয়েছে। সব ধর্মের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই সংবাদ পরিবেশনের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার প্রসঙ্গে জানানো হয়েছে, আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করা যাবে। তবে কৌতুক বা পরিহাস করার জন্য আঞ্চলিকতা রাখা যাবে না। পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ধারাকে তুলে ধরার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতিকেও তুলে ধরতে হবে সংবাদে।

অনলাইন গণমাধ্যমে প্রচারিত, প্রকাশিত বা সম্প্রচারে কোনও প্রকার অসঙ্গতিপূর্ণ, বিভ্রান্তিমূলক ও অসত্য তথ্য বা উপাত্ত দেয়া যাবে না। সব তথ্য-উপাত্তে উভয় পক্ষের যুক্তি যথাযথভাবে উপস্থাপনের সুযোগ থাকতে হবে।

সরকার অনুমোদিত জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান, তথ্য-উপাত্ত স্বেচ্ছাপ্রণোদিতভাবে প্রচার বা প্রকাশ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে সরকার প্রধানের ভাষণ, জরুরি আবহাওয়া বার্তা, স্বাস্থ্য বার্তা, গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা, সরকারের জারিকৃত প্রেসনোট, সরকার অনুমোদিত জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান। রাষ্ট্রভাষাকে যোগ্য মর্যাদায় সুপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে তথ্য পাঠ, প্রচার, প্রকাশ ও সম্প্রচারের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই বাংলা প্রমিত বানান বা উচ্চারণের মান শিথিল করা যাবে না।

অনলাইন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ওয়েজ বোর্ডের নিয়ম-কানুন অনুসরণ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের সব কর্মীর বেতন-ভাতা দিতে হবে ব্যাংকের মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠানের কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) থাকা আবশ্যকীয়।

বিজ্ঞাপন প্রকাশের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে— রাজনৈতিক ব্যক্তি, বিদেশি কূটনীতিক ও জাতীয় বীরদের অনলাইন গণমাধ্যমে প্রচারিত, প্রকাশিত পণ্য বা সেবার বিজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। তবে গণসচেতনতা ও সমাজসংস্কারমূলক বিজ্ঞাপনে দেশের স্বনামধন্য নাগরিকদের সম্মতি নিয়ে বিজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।

অনলাইন গণমাধ্যমে প্রচারিত, প্রকাশিত বা সম্প্রচারিত বিজ্ঞাপনের ভাষা, দৃশ্য কিংবা নির্দেশনা কোনও ধর্মীয় বা রাজনৈতিক অনুভূতির প্রতি পীড়াদায়ক হতে পারবে না। তবে ধর্মীয় অনুভূতিকে আহত করে না, এমন ধর্মীয় চিত্র প্রকাশ বা প্রদর্শন করা যেতে পারে।

সব তথ্য-উপাত্ত প্রচার, প্রকাশ ও সম্প্রচার করার ক্ষেত্রে দ্য সেন্সরশিপ অব ফিল্মস অ্যাক্ট-১৯৬৩, তথ্যপ্রযুক্তি আইন ২০০৬, কপিরাইট, ট্রেডমার্কস, প্যাটেন্টস-ডিজাইন ও জিআই আইনসহ অন্যান্য মেধাসম্পদ আইন বা দেশের প্রচলিত আইন ও তার অধীন বিধি-বিধান লঙ্ঘন করে বা জাতীয় নীতিমালার পরিপন্থী কোনও তথ্য উপাত্ত প্রচার, প্রকাশ ও সম্প্রচার করা যাবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ