ঢাকা, মঙ্গলবার 20 June 2017, ০৬ আষাঢ় ১৪২8, ২৪ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পার্বতীপুরে এক ট্রাক ধান আত্মসাৎ অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরছে

আমজাদ হোসেন পার্বতীপুর থেকে : পার্বতীপুরে এক ট্রাক ধান লুটের ঘটনা ঘটেছে। ধানের মালিক এ ব্যাপারে অভিযোগ করলেও প্রশাসনের সাথে গোপন চুক্তি করায় দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
জানা যায়, গত ১ জুন নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বসুনিয়া ট্রেডার্স থেকে ২০০ বস্তা ধান একটি ট্রাকে লোড দেয়া হয়। ট্রাক নম্বর পাবনা-ট-০২-০০৮৪। ট্রাক ভর্তি ধান নিয়ে নঁওগার ঘোষ অটো রাইস মিলে যাবার কথা। কিন্তু পরদিন সকালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ধান ভর্তি ট্রাক নঁওগায় পৌঁছেনি। ধানের মালিক ট্রাক ড্রাইভার বাবুল হোসেন ও ওরফে বাবুল্যার ০১৭৭৩৪২৩৫২৮ নম্বর মোবাইলে যোগাযোগ করলে সে জানায়, ট্রাকটি বিরামপুরে খারাপ হয়েছে। জাহিদ নামে ড্রাইভারের ট্রাকে (যশোর-ট-১১-০০৩৬) ধানগুলো নঁওগা পাঠায়েছি। তিনি জাহিদ ড্রাইভারের ০১৯৩৩১৫৯৫১০ নম্বর মোবাইলে ফোন করলে বন্ধ পায়। এরপর বাবুল ড্রাইভারের নম্বরে কল করলে সন্তোষজনক জবাব না দিয়ে সে টালবাহানা শুরু করে। এ ব্যাপারে ধানের মালিক আমিনুর রহমান বিষয়টি জলঢাকা থানায় অবহিত করে একটি জিডি করেন। পরে খোঁজ নিয়ে এসে পার্বতীপুর মডেল থানায় ধান আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দেন। প্রতি বস্তায় ৭৫ কেজি হিসেবে ২০০ বস্তায় ২৮ ও হাইব্রীড ধান ছিল, যার মূল্য ৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাবুল হোসেন ও ওরফে বাবুল্যা ড্রাইভারের বাড়ী দিনাজপুরের বটতলী এলাকায়। পার্বতীপুরে তার ভায়রার বাড়ী হওয়ায় সে দিনাজপুর থেকে পার্বতীপুরে এসে প্রথমে ভাড়া বাসা ও পরে নিজে জায়গা নিয়ে বাড়ী করে পরিবারসহ বসবাস করে এবং তার ট্রাকটি (পাবনা-ট-০২-০০৮৪) সে নিজে চালায়। ধান আত্মসাতের ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য পার্বতীপুরে ট্যাংলরী সভাপতি সিদ্দিক থানা পুলিশ ও ধানের মালিকের সাথে জোর তদবীর চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এজন্য পুলিশ এখনো রহস্যজনক ভাবে নীরবতা পালন করছে। উক্ত ট্রাকটি পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাসার পিছনে রাস্তার ধারে ও বাসটার্মিনালে  দেখা গেছে। ধান মালিক আমিনুর রহমান জানান, একটি আপোষের কথা চলছে দেখি কি হয়। না হলে পদক্ষেপ নিব। পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি মোস্তাক আহম্মেদ জানান, অভিযোগ তদন্তের দায়িত্বভার এসআই আঙ্গুরকে দেওয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ