ঢাকা, মঙ্গলবার 20 June 2017, ০৬ আষাঢ় ১৪২8, ২৪ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রূপগঞ্জে শিশু হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার নরাবো এলাকার শিশু জুনায়েত হোসেন হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসুচী পালন করেছে এলাকাবাসী। শনিবার বিকেলে এ মানববন্ধন কর্মসুচী পালন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তব্যে রাখেন শফিকুল ইসলাম শফিক, জহিরুল ইসলাম, নাছির, সোহাগ, মোশারফ, সাইফুল প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, বাবা আবু বক্কর, দাদী মনোয়ারা বেগম, চাচী খালেদা পরিকল্পিত ভাবে শিশু জুনায়েত হোসেনকে শ^াসরোধের পর পানিতে ফেলে নির্মম ভাবে হত্যা করে। নিহত শিশুর মা মৌসুমী বেগম বাদী হয়ে অভিযুক্ত আবু বক্কর ও মনোয়ারা বেগমকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযুক্ত দু’জনকে গ্রেফতার করেন। শিশু জুনায়েত হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানান এলাকাবাসী।
নিহত জুনায়েতের মা মৌসুমী বেগম জানান, তিনি নরাবো এলাকার বাউল শিল্পী আর হকের মেয়ে। একই এলাকার মৃত ইব্রাহীম মিয়ার ছেলে আবু বক্করের সাথে তার প্রেম ছিল। উভয়ের প্রেমের সূত্রধরেই গত ২ বছর আগে আবু বক্করের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের প্রথম দিকে ভালই চলছিল তার সংসার। কিন্তু এতে বাধঁ সাধে তার শাশুড়ী। শাশুড়ী মনোয়ারা বেগম তাকে পছন্দ করতেন না। তাই বিয়ের কিছু দিন গড়াতে না গড়াতেই স্বামী আবু বক্কর নানা অজুহাতে মৌসুমী বেগমকে মারধর করতো। এ নিয়ে বেশ কয়েকবারই অভিমান করে তাকে বাপের বাড়ি চলে আসতে হয়েছিলো। বিয়ের দুই বছরের মাথায় আবু বক্কর ও মৌসুমীর ঘরে জুনায়েত নামের এক ছেলের জন্ম হয়। জুনায়েতের জন্মের পর থেকেই শাশুড়ী মনোয়ারা বেগম ও স্বামী আবু বক্কর যৌতুকের টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করতো মৌসুমীকে। যৌতুকের টাকা এনে দিতে না পারলেই শারীরিক নির্যাতন করা হতো। এসব বিষয় নিয়ে স্থানীয়রা বেশ কয়েক বার সামাজিক ভাবে ঝগড়া বিবাদ মিটিয়ে দেয়। ১৩ই জুন মঙ্গলবার মধ্যে রাতে মৌসুমী ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামী আবু বক্কর ও শাশুড়ী মনোয়ারা পরিকল্পিত ভাবে শিশু সন্তান জুনায়েতকে শ্বাসরোধের পর পানিতে ফেলে নির্মম ভাবে হত্যা করা করে। রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে যতটুকু বোঝা গেছে, তাতে মনে হচ্ছে গ্রেফতারকৃত আবু বক্কর ও মনোয়ারা হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত। তারপরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ