ঢাকা, মঙ্গলবার 20 June 2017, ০৬ আষাঢ় ১৪২8, ২৪ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চুয়াডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী গড়াইটুপির মেলা বন্ধ হবার উপক্রম

মোঃ মাহতাব উদ্দিন-চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী গড়াইটুপির মেলা বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের গড়াইটুপি নামকস্থানে একটি বটগাছেরতলায় প্রতিবছর ৭ আষাঢ় হতে শুরু হয়ে সাতদিন চলার কথা থাকলেও তা কোন কোন বছর ১৫ দিন হতে একমাস পর্যন্তও চলে থাকে এ মেলা।
কথিত আছে, ৫ শত বছর পূর্বে মেহমান শাহ নামে এক দরবেশ এখানে এসে ইসলাম ধর্ম প্রচার করার জন্য আস্তানা গাড়েন। ইসলাম ধর্ম মানুষের প্রতি উদার মনোভাবের কথা জানতে পেরে দলে দলে লোক মুসলমান হতে শুরু করে। ফলে কালুপোলের গন্ধর্প রাজার সাথে তার বিরোধ বাঁধে। বিরোধে মেহমান শাহ জয়লাভ করেন। তাঁর মুত্যুর পর এখানে তার কবর দেয়া হয়। সেই সাথে মিলাদ মাহফিল ও ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে বিরাট ধর্মীয় সভা শুরু হয়।
আস্তে আস্তে এখানে মেলার প্রচলন শুরু হয়। গত কয়েক বছর ধরে মেলার নামে শুরু হয় জুয়াখেলা এবং সার্কাস ও যাত্রার নামে নগ্ননৃত্য। এরফলে ক্ষমতাসীন সরকারের লোকজন ফায়দা লুটতে থাকে। গতবছর পুলিশের নজরদারীতে মেলায় জুয়া ও নগ্ননৃত্য বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফলে মেলায় অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ হয়ে যায়।
গত বছর ৪০ লাখ টাকা মেলার ডাক ওঠে। এবছর ১৫ জুন পর্যন্ত কোন ইজারাদার অংশ নেয়নি লোকসানের ভয়ে। আগামী ১৯ জুন পর্যন্ত মেলার ইজারা নেবার সময় বাড়ানো হয়েছে। তিতুদহ ইউপি চেয়ারম্যান জনাব আকতার হোসেন বলে, ঐতিহ্যবাহী মেলাটি বন্ধ হয়ে গেলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে। তদুপরি মেলাকে ঘিরে এলাকায় যে উৎসব দেখা যায় তা বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি ঐতিহ্যবাহী এ মেলাটি চালু রাখার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
“প্রাণের স্পন্দনে, প্রকৃতির বন্ধনে” এবং “আমি প্রকৃতির, প্রকৃতি আমার” এ স্লোগানকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়েছে। এ দিবসকে কেন্দ্র করে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়। র‌্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, ‘প্রকৃতি বাঁচাতে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে। গাছ শুধু প্রকৃতিগত উপকারই করেনা, আর্থিকভাবেও সহযোগিতা করে। বজ্রপাত এখন একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ। বজ্রপাত হতে রক্ষা পেতে হলে বেশি বেশি তালগাছ লাগাতে প্রয়োজন’। এছাড়াও তিনি পরিবেশের ভৌত অবস্থা, জলবায়ু ও প্রভাব বিস্তারকারী অন্যান্য জীব ও জৈব উপাদান ইত্যাদির সামষ্টিক বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন।
জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন, জেলা পরিষদ সচিব ড. লুৎফর রহমান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আনজুমান আরা। এছাড়াও অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, রাজনীতিবীদ, ছাত্র-ছাত্রী ও স্কাউটস-রোভার স্কাউটস সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ