ঢাকা, মঙ্গলবার 20 June 2017, ০৬ আষাঢ় ১৪২8, ২৪ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

প্রশাসন রাঘব বোয়াল না ধরে ধরছে মাদকসেবীদের

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) সংবাদদাতা: দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকের রমরমা ব্যবসা চলছে। পুলিশ প্রশাসন মাদক ব্যবসায়ীদেরকে আটক না করে মাদক সেবীদের আটক করছে।
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে মাদকের ব্যবসা ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে সীমান্ত ঘেষা বেতদিঘী ইউনিয়ন, কাজিহাল ইউনিয়ন ও এলুয়াড়ী ইউনিয়নে চলছে মাদকের এই ব্যবসা। চোরাকারবারীরা সুকৌশলে সীমান্তের উপার থেকে চোরাপথে মাদক আনছে। এর মধ্যে রয়েছে প্যাথেডিন ইনজেকশন, ফেন্সিডিল, ইয়াবা, গাঁজাসহ নানা প্রকার নিত্যনতুন মাদক। মাদক ব্যবসায়ীরা অতি কৌশলে ফেন্সিডিল চোরাপথে ওই এলাকা থেকে বিভিন্ন যানবাহনে করে নিয়ে আসছে। এরপর এই মাদক ফুলবাড়ী রুটকে ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এছাড়াও বিরামপুরের কাটলা, ঘাসুড়িয়া, দেশমা, টেগরা, বিনাইল এলাকা থেকেও ফেন্সিডিল ও ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদক দেদারছে আসছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে যত সামান্য ধরা পড়লেও মূল চালান ধরা-ছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে। এরই মধ্যে কিছু কিছু মাদক ফুলবাড়ী শহর হয়ে সৈয়দপুর, রংপুরের বিভিন্ন উপজেলায় চলে যাচ্ছে। যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেল, কার, মাইক্রোবাস, পিকআপ ব্যবহার করা হচ্ছে। হাইওয়ে রাস্তাগুলোতে পুলিশ প্রশাসনের কোন টহল নেই। প্রত্যেকটি থানায় ও ফাঁড়িতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পুলিশ থাকলেও তাদেরকে টহলের তেমন কোন কাজে দেখা যাচ্ছে না। এ কারণে মাদক ব্যবসায়ীরা নির্বিঘেœ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। গ্রামগুলোতে আদিবাসীরা দেশীয় চোলাই মদ তৈরি করে সেই মদ শহরের কিছু কিছু ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রি করছে। এদের বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে ফিরে এসে আবারও এই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। তারা অন্যকোন কাজ না করে সহজ পদ্ধতির ব্যবসা করছে। ফুলবাড়ী শহরে ৫০ থেকে ৬০ জন নারী মাদক ব্যবসা করছে। তাদের ব্যবসার কৌশল পরিবর্তন করে ভ্রাম্যমাণভাবে বিক্রি করছে। তাদের কাছে থাকা মোবাইলের মাধ্যমে ক্রেতারা এই মাদক ক্রয় করছে। ফুলবাড়ী শহরের কাজিপাড়া রোড, কাঁটাবাড়ী নয়াপাড়া, হাসপাতাল রোড ও হাসপাতালের পিছনে মাদ্রাসা রোড, টিটি মোড়, উত্তর কৃষ্ণপুর কাউছালির মোড়, রেলস্টেশন এলাকা, বুন্দিপাড়াসহ, শিবনগর ইউনিয়নের মহেশপুর গাদাপাড়া, শিবনগর আদিবাসীপাড়া, পুরাতন বন্দর, ঘাটপাড়ায় এই মাদকের ব্যবসা চলছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কতিপয় ব্যক্তির সাথে মাদক ব্যবসায়ীদের গোপন আতাত রয়েছে। মাস গেলে বিকাশের মাধ্যমে টাকা নেয়া হচ্ছে। ফুলবাড়ী থানার আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনদেরকে বেশির ভাগ মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে গোপন আতাত করতে দেখা যায়। মাঝে মধ্যে লোক দেখানোর জন্য অভিযান চালিয়ে মাদক সেবীদেরকে আটক করে মাদক দিয়ে ব্যবসায়ী বানিয়ে মামলা দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। টাকা দিলে মাদক সেবী বানিয়ে ভ্রাম্যমাণ করে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। আর এই মাদক ক্রয় করছে উঠতি বয়সের যুবক, কুলি, রিক্সা শ্রমিক, বাস শ্রমিক, টেম্পু শ্রমিক ও আলালের ঘরের দুলালেরা। ফেন্সিডিল প্রতি বোতল ৬৫০ টাকা, ইয়াবা ৮০ থেকে ১২০, গাজা প্রতি পুরিয়া ২০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি ওষুধের দোকানগুলোতে গোপনে এই মাদকের ব্যবসা চালানো হচ্ছে। এই মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে হলে এখনেই মাদক ব্যবসায়ীদের হোতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে যুব সমাজ মাদকের বিষাক্ত ছোবলে ধ্বংস হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে ফুলবাড়ীর সচেতন মহল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ