ঢাকা, বুধবার 21 June 2017, ০৭ আষাঢ় ১৪২8, ২৫ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শিশু সাকিবকে পিতার কাছে হস্তান্তর

মোঃ আতিকুর রহমান, ঝালকাঠি : ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার কলাপাড়া এলাকা থেকে অপহৃত শিশু সাকিব (৬) কে উদ্ধারের পর পিতার কাছে হস্তান্তর করেছে ঝালকাঠি জেলা পুলিশ। সোমবার দুপুর ১২ টার দিকে উদ্ধার করে মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় শিশুটির পিতা ফায়ারসার্ভিস কর্মী জসিম উদ্দিনের কাছে হস্তান্তর করেন ঝালকাঠি পুলিশ সুপার মোঃ জোবায়েদুর রহমান। এসময় সাকিবের পিতা আবেগাপ্লুত হয়ে শিশুটিতে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন ও আদর করতে থাকেন। এসময় তিনি পুলিশকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে ঝালকাঠি পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে চির ঋণি বলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আঃ রকিব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এমএম মাহমুদ হাসান, আশুগঞ্জ থানার এসআই মোঃ সাইফুল। পুলিশ সুপার মোঃ জোবায়েদুর রহমান জানান, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে জেলার নলছিটি উপজেলার রায়াপুর বটতলা এলাকার মমতাজ বেগম নামের এক মহিলা আমাকে মোবাইলে জানান এখানে একটি শিশুকে কান্না করা অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা শিশুটির সাথে থাকা হাসান ওরফে হোসেন (২৫) নামের একজনকে আটক করে। আমি ঘটনাটি শুনে সাথে সাথে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদ হাসানকে তাৎক্ষণিক জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। তিনি নলছিটি থানা পুলিশকে সাথে নিয়ে শিশু সাকিবকে উদ্ধার ও অপহরণকারী হাসান ওরফে হোসেনকে আটক করেন। পরে সাকিবের পিতাকে সংবাদ দেয়া হলে তিনি ঝালকাঠির উদ্যেশ্যে রওয়ানা করেন। রাতে সাকিব অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহমুদ হাসানের তত্বাবধানে ছিলো। তিনি শিশুকে নিজ হাতে গোসল করিয়ে, খাইয়ে, নতুন গেঞ্জি, প্যান্ট, জুতা পরিয়ে রাতে নিজের কাছেই রাখেন। সকালে বাবা আসলে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে তার কাছেই হস্তান্তর করেছি। তিনি আরো জানান, অপহরণকারী দেখলে মনে হয় দিনমজুর। কিন্তু আশুগঞ্জ থেকে একটি ছেলেকে নিয়ে বাস, লঞ্চ ও মোটর সাইকেলে চড়ে অনেক খরচ করেছে। এরপিছনে অর্থ যোগানদাতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ১৮ তারিখে শিশু সাকিবকে খুঁজে না পেয়ে আশুগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নং- ৭৮৭) করেন সাকিবের পিতা জসিম উদ্দিন। এখন সাকিবকে সেখানে নিয়ে জিডির বরাদ দিয়ে একটি মামলা হবে। আটককৃত হাসান ওরফে হোসেনকে ঝালকাঠি থেকে সেখানে নেয়া হবে। শিশু সাকিবের পিতা ফায়ারসার্ভিস কর্মী মোঃ জসিম উদ্দিন জানান, রোববার দুপুর ১ টার দিকে সাকিব ওর মা’র কাছে বলে বাড়ির কাছের দোকানে যায়। সেখানে হাসান তাকে বাবা’র কাছে নেয়ার কথা বলে অপহরণ করে। আধাঘণ্টার মধ্যে সাকিবকে খুঁজে না পেয়ে দোকানের পার্শ¦বর্তি পুকুরে ছেলে ডুবে গেছে ভেবে অসংখ্য লোক খুঁজতে থাকে। এলাকায় রিক্সায় করে মাইকিং এবং মসজিদে মসজিদে সন্ধান চেয়ে মাইকিং করা হয়েছে। কিন্তু কোথাও থেকে কোন সন্ধান আসে নি। সোমবার দুপুরে ঝালকাঠি পুলিশ সুপার আমাকে ফোন দিয়ে ঘটনাটি জানান। ঝালকাঠি পুলিশ সুপারসহ জেলা পুলিশের এ সময়োচিত তৎপরতার কারণে উদ্ধার করা আমার বাবাকে ফিরে পেতে সক্ষম হয়েছি। পুলিশকে ধন্যবাদ বা কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার নেই। আমি তাঁদের কাছে চির ঋণী হয়ে রইলাম। 

আশুগঞ্জ থানার সাধারণ ডায়েরির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, রোববার (১৮ জুন) দুপুরের দিকে শিশু নিখোঁজের জন্য ডায়েরি করতে আসে সাকিবের বাবা মোঃ জসিম উদ্দিন। আমরা জিডি নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করি। ঝালকাঠিতে উদ্ধারের খবর পেয়ে সাকিবের বাবা’র সাথে আমিও চলে আসি। আমরা সাকিবকে ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ায় নিয়েও পুলিশ সুপার মহোদয়ের সাথে স্বাক্ষাৎ করাবো। এব্যাপারে তার সাথে কথাও হয়েছে। আটককৃত হাসান মৃধা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার কচুয়া গ্রামের খালেক মৃধার ছেলে। পুলিশের অনুসন্ধান ও নলছিটির রায়াপুর বটতলা এলাকার লোকজন সূত্রে জানাগেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে শিশুটিকে গাড়িতে করে ঢাকায় নিয়ে আসে। সদর ঘাট থেকে বিকেলে সুরভী লঞ্চে বরিশালের উদ্দেশে রওনা দেয়। সোমবার সকালে লঞ্চ থেকে নেমে সাকিবকে নিয়ে একটি ভাড়ার মোটরসাইকেলে ঝালকাঠি হয়ে সাতক্ষীরার দিকে যাচ্ছিল অপহরণকারী। মোটরসাইকেলটি নলছিটির রায়াপুর গ্রামে এসে থামে। সাকিবের জন্য রাস্তার পাশের দোকান থেকে চিপস কিনতে যায় অপহরণকারী। শিশুটির কান্নাকাটি দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। এ সময় শিশুটির সঙ্গে কথা বলে অপহরণের বিষয়টি জানতে পারে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) এম এম মাহমুদ হাসান ও নলছিটি থানার ওসি এ কে এম সুলতান মাহমুদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তারা শিশুটিকে উদ্ধার এবং অভিযুক্তকে আটক করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ