ঢাকা, বুধবার 21 June 2017, ০৭ আষাঢ় ১৪২8, ২৫ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অপরিকল্পিত জুম চাষ ও শান্তি বাহিনীর সন্ত্রাস এজন্য দায়ী -পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলন

* সাহায্যার্থে এগিয়ে আসার আহ্বান

গত ১৩ জুন রাঙ্গামাটিতে চারজন সেনা অফিসার ও সৈনিক নিহত এবং দেড়শতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলন গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে। অবিরাম বর্ষা এবং পাহাড়ের ভূমি ধসের ঘটনায় হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছে। দুর্গত এলাকার মানবতার ডাকে সাড়া দেবার জন্য সমঅধিকার আন্দোলনের পক্ষ থেকে দেশী-বিদেশী দাতা সংস্থা ও সকল মানবাধিকার সংগঠনের প্রতি আকুল আবেদন জানানো হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে এজন্য পার্বত্য এলাকায় অপরিকল্পিত এবং অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জুম চাষ, পাহাড়ে অগ্নিসংযোগ করে গাছপালা ধ্বংস করা এবং বিগত তিন যুগ যাবত উপজাতীয় রাষ্ট্রদ্রোহী শান্তি বাহিনী সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও লুটপাটকে দায়ী করা হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মনিরুজ্জামান মনির, সমঅধিকার ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি প্রকৌশলী জান্নাতুল ফেরদৌস মানিক এবং সমঅধিকার নারী আন্দোলনের সভানেত্রী শায়েলা জেসমিন হেলেন গতকাল মঙ্গলবার সংবাদ মাধ্যমে দেয়া এক যুক্ত বিবৃতিতে এই দাবি করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রায় ২০০ লোক এই দুর্যোগে মৃত্যুর স্বীকার হয়েছে এবং কোটি কোটি টাকার সম্পদ, ঘর-বাড়ি, গাছপালা ইত্যাদি ধ্বংস হয়েছে। অথচ এত বড় দুর্যোগের পরও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান সন্তুলারমা এবং উপজাতীয় সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার পাহাড়ের দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ায় নাই যা খুবই দুঃখজনক।

বিবৃতিতে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক কর্তৃক তড়িঘড়ি করে পাহাড়ে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করায় তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সমঅধিকার নেতৃবৃন্দ বলেন- “যেখানে সেনাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগের প্রধান মেজর জেনারেল নুরুল আলম বলেছেন, এক মাসের আগে পাহাড়ের রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ইত্যাদি স্বাভাবিক পর্যায়ে আসবে না সেখানে কোন হিসাবে জেলা প্রশাসন উদ্ধার অভিযান বন্ধ ঘোষণা করলেন তা আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না। বিগত তিন যুগ যাবত পাহাড়ে তথাকথিত শান্তি বাহিনী এবং বর্তমানে বাঙালি বিদ্বেষী সংগঠন জেএসএস ও ইউপিডিএফ তিন পার্বত্য জেলায় অবাধে চাঁদাবাজি এবং উন্নয়ন কাজে কোটি কোটি টাকার ভগ্নাংশ লুটে নিচ্ছে। ফলে পাহাড়ে উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। বিগত দুই দশকে যে কোটি কোটি টাকা তিন পার্বত্য জেলায় বরাদ্দ হয়েছে তার বিশ ভাগও যদি বাস্তবায়িত হত তাহলেও পার্বত্যবাসী বাঙালি এবং উপজাতিদের ভাগ্যে এত বড় দুর্যোগ আসতো না।

সমঅধিকার আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ বলেন- সরকার পার্বত্যবাসীদের সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ করছেন। যেখানে এখনও মাটির নিচে লাশ চাপা পড়ে আছে। জনগণ ঘরবাড়ি হারিয়ে স্কুলে, কলেজে এবং ফাঁকা দালানে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন। সেখানে উদ্ধার কাজ পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা মোটেও যুক্তিযুক্ত হয়নি। আমরা দেশবাসী এবং বিশ্ববাসীর কাছে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারে যে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে তার সঠিক চিত্র সরেজমিনে পরিদর্শন করত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা, জাতিসংঘ ইউএনডিপি, মানবাধিকার সংগঠনসহ বিবেকবান সবাইকে উপদ্রুত এলাকার দুর্গত নারী পুরুষের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসার জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ