ঢাকা, বুধবার 21 June 2017, ০৭ আষাঢ় ১৪২8, ২৫ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ঈদ সামনে, পর্যটক ভিসায় ক্রেতা টানছে ভারত

শাহেদ মতিউর রহমান : ঈদ সামনে প্রতি বছরই ক্রেতা টানে ভারত। বিশেষ করে কলকাতা এবং দিল্লী কেন্দ্রিক বাজারে বাংলাদেশী ক্রেতা টানতে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বাড়িয়ে দেয় দেশটি। ফলে বিশাল অংকের এদেশের ঈদ বাজেট নিয়ে যাচ্ছে ভারত। সম্প্রতি ট্যুরিস্ট ভিসায় নানা সুবিধা দিয়ে বাংলাদেশী ক্রেতাদের কাছে টানার কৌশল নিয়েছে তারা। ঈদ সামনে হাজার কোটি টাকার বাজার বাংলাদেশী ক্রেতাদের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতিবেশি দেশ ভারত। ভারতীয় সূত্রই বলছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর শুধু মে মাসেই ভারতে ট্যুরিস্ট ভিসা বেড়েছে ৫৫ শতাংশ দশমিক ৩ শতাংশ। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কলকাতার বাজার এখন সরগরম বাংলাদেশী ক্রেতাদের পদচারণায়। বেলাপোল এবং গেদে সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই বাংলাদেশী ক্রেতারা পর্যটক ভিসায় ভারতে যাচেছ। ফলে বাংলাদেশী বাজার ক্রেতা হারাচ্ছে। 

ঈদ ও বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদে টাকার প্রবাহ সবচেয়ে বেশি বাড়ে- এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এ টাকার ব্যবহার পোশাক, ভোগ্যপণ্য, শৌখিনতা ও ভ্রমণসহ বিনোদনমুখী খাতেই বেশি হচ্ছে। কাজেই এটা একটা বড় ভূমিকা রাখে অর্থনীতিতে। মানুষ এ উৎসবকে ঘিরে প্রচুর পরিমাণ অর্থ খরচ করে। এতে উৎপাদনকারী, আমদানিকারক, ব্যবসায়ী প্রত্যেকে কিছু না কিছু লাভবান হচ্ছেন। সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের হিসেবে দেশের মোট অর্থনীতির আকার হচ্ছে সাড়ে ১৯ লাখ কোটি টাকা। রোযা ও ঈদ উৎসবের অর্থনীতি নিয়ে ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সমীক্ষা অনুসারে, রোযায় অতিরিক্ত ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন যোগ হচ্ছে। সমীক্ষার হিসাব মতে, রোযার মাসে ইফতার ও সেহরিতে যোগ হচ্ছে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা। পোশাকের বাজারে যোগ হচ্ছে ৩৬ হাজার কোটি টাকা। রমযান ও ঈদে অ্যাপায়ন বাবদ অর্থাৎ ভোগ্যপণ্যের বাজারে বাড়তি যোগ হচ্ছে ২৭ হাজার কোটি টাকা। ধনীদের দেয়া যাকাত ও ফিতরা বাবদ আসছে ৬৭ হাজার কোটি টাকা। পরিবহন খাতে অতিরিক্ত যাচ্ছে ৭০০ কোটি টাকা। ঈদকে কেন্দ্র করে ভ্রমণ ও বিনোদন বাবদ ব্যয় হয় ৫ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশের এই ঈদ বাজার এবং ক্রেতাদের কাছে টানতেই ভারত ট্যুরিস্ট ভিসা সহজ করেছে। 

সূত্রমতে, চলতি ২০১৭ সালের প্রথম পাঁচ মাসে ভারতে ভ্রমণ করা বাংলাদেশী পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। আলোচ্য সময়ে এই সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। দেশটির পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসে বাংলাদেশ থেকে মোট ৭ লাখ পর্যটক ভারত ভ্রমণ করেছেন। অথচ আগের বছর একই সময়ে এই সংখ্যা ছিলো ৫ লাখ ৩০ হাজার।

এদিকে চলতি ২০১৭ সালের মে মাসে ২০১৬ সালের মে মাসের তুলনায় ভারতে মোট পর্যটক আসার হারও ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া আলোচ্য মে মাসে ই-ট্যুরিস্ট ভিসা গ্রহণের সংখ্যাও বেড়েছে। ২০১৬ সালের মে মাসের তুলনায় এই হার বেড়েছে ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ।

পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্যে দেখা গেছে, চলতি বছর মে মাসে ভারতে যত পর্যটক যায় তার মধ্যে কেবল বাংলাদেশ থেকেই গিয়েছেন ২৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ পর্যটক। দেশটিতে এর পরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যটক এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা পর্যটকের সংখ্যা ভারতে আসা মোট পর্যটকের সংখ্যার ১৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

এর পরেই এসেছে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ পর্যটক এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে, মালয়েশিয়া থেকে এসেছে ৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ, চীন থেকে থেকে এসেছে ২ দশমিক ৯১ শতাংশ পর্যটক। এছাড়া চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসে ভারতে আসা মোট পর্যটকদের মধ্যে শ্রীলংকা থেকে এসেছে ২ দশমিক ৬৮ শতাংশ, জাপান থেকে ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ, জার্মানি থেকে ২ দশমিক ৩৪ শতাংশ, কানাডা থেকে ২ দশমিক ৩৩ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়া থেকে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

মে মাসে দেশটিতে আশা পর্যটকদের মধ্যে দিল্লি বিমানবন্দর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে ২৪ দশমিক ১৭ শতাংশ, হরিদাসপুর স্থলবন্দর দিয়ে প্রবেশ করেছে ১৭ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ পর্যটক, মুম্বাই এয়ারপোর্ট দিয়ে এসেছে ১৫ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ পর্যটক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ