ঢাকা, বুধবার 21 June 2017, ০৭ আষাঢ় ১৪২8, ২৫ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মুসলিম তরুণীকে পিঁটিয়ে হত্যার পরও মার্কিন পুলিশ বলছে এটি হেইট ক্রাইম নয়

সংগ্রাম ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় মুসলিম কিশোরি নাবরা হোসাইনকে হত্যার ঘটনাকে সড়ক দুর্ঘটনাজনিত অপরাধ বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ। তারা জানায়, ‘এটি ইসলামফোবিয়া বা কোন ঘৃণাজনিত অপরাধ না, যারা এই কথা বলছে তারা আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে’।

এর আগে, রোববার রাতে ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্স নগরের দুলাস এলাকায় মুসলিম সোসাইটির মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর ১৭ বছরের নাবরাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ২৪ ঘণ্টা পর সোমবার সকালে স্থানীয় একটি পুকুর থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করেন। আল জাজিরা।

জানা যায়, মসজিদে যাওয়ার পথে ডারউইন মার্টিনেজ (২২) নামের এক যুবকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন ওই তরুণী। নাবরাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছিল ওই যুবক। তরুণী নিখোঁজ থাকার খবরে তাই প্রথমে ডারউইনের ওপরই সন্দেহ হয় পুলিশের। স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী সোমবার স্থানীয় একটি ক্লাব থেকে ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়। জেরায় নাবরাকে খুনের কথা স্বীকার করেছে সে।

ভার্জিনিয়া পুলিশের মুখপাত্র জুলি পার্কার বলেন, ‘তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে ঘটনা মারাত্মক জায়গায় পৌঁছে যায় এবং হত্যাকাণ্ড ঘটে। এই ঘটনার সঙ্গে ধর্মীয় বিদ্বেষের কোনো সম্পর্ক নেই।’

অন্যদিকে, নাবরার বাবা মোহাম্মদ হাসান আবরাস গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি শুধুমাত্র মুসলিম হওয়ার কারণেই আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমার ১৭ বছরের মেয়েটা মারা গিয়েছে। আমার ব্যথা বোঝানোর জন্য আমার কাউকে প্রয়োজন নেই। তরুণীর পরিবারের আরেক সদস্য বলেন, ‘মসজিদ থেকে ফেরার সময় সে ও তার বন্ধুদের পরনে হেডস্কার্ফ ছিল। এলাকার অনেকেই বিশ্বাস করেন ধর্মের জন্যই তাকে হত্যা করা হয়।’

এছাড়া পুলিশ এই ঘটনাকে একটি দুর্ঘটনা বলে মন্তব্য করায় অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইসলামোফোবিয়া ও মুসলিম মনোভাব তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার লন্ডনের ফিন্সবারি পার্ক মসজিদের বাইরে মুসল্লিদের ওপর গাড়ি হামলা হয়। আক্রমণকারী চিৎকার করে বলছিল, ‘আমি সব মুসলিমকে হত্যা করতে চাই।’

সম্প্রতি ‘কাউন্সিল অব আমেরিকান ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স’-সিএআইআর এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫-১৬ সালে মুসলিম বিদ্বেষী হামলার শিকার হয়েছেন ৫৭ জন নিহত হয়েছেন। এতে আরো বলা হয়, একই সময়ে মুসলিম বিরোধী অপরাধ বেড়েছে ৪৪ শতাংশ।

মে তে পোর্টল্যান্ডে এক মুসলিম নারীর উত্যক্তকারীকে বাধা দিতে গেলে দুইজনকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। সমালোচকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর এই সহিংসতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রেসিডেন্সির দায়িত্ব গ্রহণের আগে ও পরে তিনি একের পর এক মুসলিম বিদ্বেষী মন্তব্যও ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। যা মানুষকে উত্তেজিত ও ক্ষুদ্ধ করে তুলেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ