ঢাকা, বুধবার 21 June 2017, ০৭ আষাঢ় ১৪২8, ২৫ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে রোযার ভূমিকা

ড. মোহা: এমরান হোসেন : রোযা ফরযের একটি উদ্দেশ্য হল মানুষ যাতে সকল প্রকার অপরাধ থেকে মুক্ত হয়ে অপরাধমুক্ত ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবন গঠন করতে পারে। একজন প্রকৃত রোযাদারের দ্বারা কখনো অপরাধ সংঘটিত হতে পারে না। একজন মানুষকে সকল প্রকার অপরাধ থেকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যেই রমযাননের রোযাব্রত ফরজ করা হয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন-“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরজ করা হয়েছে যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মাতের উপর ফরয করা হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার”। (সূরাতুল বাকারাহ : ১৮৩)। ‘যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার’ এ বাক্যের অর্থ হল যাতে তোমরা অপরাধ থেকে বেঁচে থাকতে পার। কাজেই রোযার সংজ্ঞাগত অর্থ হল- সুবেহ সাদিক থেকে পানাহার ও যৌন সম্ভোগ থেকে বিরত থাকা। কিন্তু রোযার তাৎপর্যগত অর্থ হল- সকল প্রকার অন্যায় ও অপকর্ম থেকে বিরত থাকা। একজন মুমিনের সব অঙ্গই রোযা রাখবে তথা পাপ থেকে বিরত থাকবে।
জবানের রোযা : রোযাদারের উচিত যেন তার জিভও রোযা রাখে। তার জবানকে অন্যায় ও বাজে কথা বলা থেকে সংযত রাখতে হবে। তার জবান দ্বারা যেন মিথ্যা কথা, চোগলখুরি, গিবত, কটূ কথা, অশ্লীল কথা ইত্যাদি অনৈতিক কথা-বার্তা সংঘটিত না হয়। মিথ্যাকে সকল পাপের মূল বলা হয়েছে। রোযাদারকে অবশ্যই মিথ্যা কথা পরিহার করার অভ্যাস গড়ে তোলতে হবে। একজন মুসলমান অপর মুসলমানকে কষ্ট দিতে পারে না। হাদিসে আছে সেই প্রকৃত মুসলিম যার জবান ও হাত দ্বারা অপর মুসলিম নিরাপদ থাকে। ঝগড়া করা মুমিনের কাজ নয়। বিশেষত রোযাবস্থায় এটি মোটেও শোভনীয় নয়। হাদিসে আছে রোযা মানুষের জন্য ঢাল স্বরূপ। সুতরাং যখন তোমাদের কারো রোযার দিন আসে তখন সে অশ্লীল কথা-বার্তা বলিবে না এবং গণ্ডগোল করবে না। তাকে যদি কেউ কটু কথা বলে অথবা তার সাথে লড়াই করতে চায় তথন সে যেন তাকে বলে- আমি রোযাদার। এ বলে ঝগড়া থেকে বিরত থাকবে। (সহিহুল বুখারি ও সহিহ মুসলিম)।
গিবত একটি সমাজ বিগর্হিত অনৈতিক কাজ। এতে সমাজের মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ নষ্ট হয়। এটি একে অপরকে বিদ্বেষ ভাবাপন্ন করে তোলে। পরিণতিতে একে অপরে মারামারি-কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়ে। ইসলামী শরিয়তে এটি চরমভাবে নিন্দিত। নবি (স.) এর যুগে দুজন নারী রোযা রেখে ক্ষুধায় কাতর হয়ে পড়ে। তাদের মৃতপ্রায় অবস্থা দেখে সাহাবিরা নবি (স.) এর নিকট তাদের বিষয়টি জানতে চাইলেন। নবি (স.) তাদের নিকট একটি পেয়ালা পাঠিয়ে বললেন- তারা যেন এতে বমি করে। বমি করার পর দেখা গেল তাতে গোশতের টুকরা ও তাজা রক্ত। এর কারণ ব্যাখ্যা করে রাসূলুল্লাহ (স.) বললেন- তারা হালাল রুজি দ্বারা রোযা রেখেছে বটে কিন্তু গিবত করে হারাম ভক্ষণ করেছে। তাই তাদের এ কঠিন অবস্থা। বাস্তবেও তাই দেখা যায় যে, রোযা মুত্তাকিদের জন্য কোন কষ্টের বিষয় নয়, কিন্তু ফাসিকদের জন্য ইহা বড়ই কষ্টের।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন গিবতকে আপন মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সাথে তুলনা করে সূরাতুল হুজুরাতের ১১ নম্বর আয়াতে বলেন- “তোমাদের কেউ যেন অপরের গিীত না করে। তোমাদের কেউ কি অপর মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া পছন্দ করবে? এটা তোমরা ঘৃণা করবে। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। আল্লাহ তাওবা কবুলকারী এবং অতীব দয়াবান”। একদা রাসূল (স.) কয়েকজন লোককে দাঁত খিলাল করতে বললেন। তারা বলল- আমরা তো আজ গোশত খাইনি। নবি (স.) বললেন- অমুকের গোশত তোমাদের দাঁতে বিদ্ধ হয়েছে। জানা গেল, তারা সেই লোকের গিবত করেছিল।
রমযান মাসের রোযার ফযীলত অর্জন করতে হলে একজন মুমিনকে অবশ্যই গিবতসহ উপরোক্ত অনৈতিক কাজগুলো পরিত্যাগ করতে হবে। শুধুমাত্র রমাযান মাসেই পরিত্যাগ করবে তা নয় বরং রমযান মাসে এটি পরিত্যাগের চর্চা করে পরবর্তী ১১টি মাসে তথা সারা জীবনে তা বাস্তবায়ন করবে।
হৃদয়ের রোযা : মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের রাজা হল হৃদয়। এ মূল অঙ্গ রোযা রাখলে অন্যান্যা অঙ্গের রোযা রাখা সহজ হয়ে যাবে। কেননা দেহের রাজা নামক হৃদয়ের নির্দেশ মোতাবেক অন্যান্য অঙ্গ পরিচালিত হয়। এই অঙ্গকেই প্রকৃত রোজাদার হতে হবে। নু‘মান ইবন বাশির বর্ণিত একটি হাদিসে  নবি (স.) বলেন- “জেনে রাখ, দেহের মধ্যে এমন এক মাংস-পিণ্ড আছে যা ভাল হলে সারা দেহ ভাল হয়ে যাবে এবং তা খারাপ হলে সারা দেহ খারাপ হবে। শোন! তা হল হৃদপি- তথা অন্তর”। (সহিহুল বুখারি ও সহিহ মুসলিম)। সুতরাং মুমিনের অন্তর সর্বদা ঈমান বিধ্বংসী শিরক, ভ্রান্ত বিশ্বাস, নোংরা চিন্তা-ভাবনা, হীন পরিকল্পনা ইত্যাদি নিকৃষ্ট উপাদান থেকে মুক্ত থাকবে।
মুমিনের অন্তর অহংকার থেকে মুক্ত থাকবে এবং সর্বদা বিনয়ী থাকবে। কারণ, বিনয়ী মানুষকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে এবং তাকে শ্রদ্ধার পাত্র করে। অহংকার ন্যায়, হক ও সত্য প্রত্যাখ্যান করতে এবং মানুষকে অবজ্ঞা ও ঘৃণা করতে শেখায়। ফলে সে সমাজে ঘৃণার পাত্র হিসেবে পরিগণিত হয়। অহংকারী ব্যক্তি ইহকালেও ঘৃণিত এবং পরকালেও ঘৃণিত। নবি (স.) বলেন- “প্রত্যেক দাম্ভিক অহংকারী জাহান্নামবাসী হবে”। (সহিহুল বুখারি ও সহিহ মুসলিম)। অপর এক হাদিসে  আছে- যে ব্যক্তি মনে মনে গর্বিত হয় এবং চলা-ফেরায় অহংকার প্রদর্শন করে সে ব্যক্তি যখন আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে তখন আল্লাহ তার প্রতি ক্রোধান্বিত থাকবেন।
মুমিনের অন্তর হিংসা থেকে মুক্ত থাকবে। কেন না একজন মুমিনের অন্তরে ঈমান ও হিংসা একত্রিত হতে পারে না। রোযাদারের অন্তরে বিদ্বেষ থাকতে পারে না। হাদিসে আছে- বিদ্বেষ হল মুণ্ডনকারী। তা দ্বীন মুণ্ডন (ধ্বংস) করে ফেলে। মুমিনে অন্তরে কৃপণতার স্থান থাকবে না। কারণ একজন মুমিনের অন্তরে কখনই ঈমান ও কৃপণতা একত্রিত হতে পারে না। মুমিনের অন্তরে অপর মুমিন সম্পর্কে সর্বদাই ভাল ধারণা থাকবে। অপর মুমিন সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ করবে না। কোন মানুষের অনিষ্টের চিন্তা রোযাদারের মনোজগতে কখনো উদিত হতে পারে না।
চোখের রোযা : একজন প্রকৃত রোযাদার তার দৃষ্টিকে সংযত রাখবে। একজন পুরুষ পরনারীর প্রতি খারাপ দৃষ্টিতে তাকাবে না। অনুরপভাবে একজন নারী পরপুরুষের প্রতি খারাপ দৃষ্টিতে তাকাবে না। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পুরুষদের সম্পর্কে বলেন- “হে নবি! পুরুষদেরকে বলুন- তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত করে এবং নিজ নিজ যৌনাঙ্গের হিফাযত করে, এটিই তাদের জন্য উত্তম”। (সূরাতুন নূর : ৩০)। অনুরূপভাবে নারীদের সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন- “হে নবি! আপনি মুমিন নারীদেরকে বলুন- তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং নিজ নিজ যৌনাঙ্গের হিফাযত করে”। (সূরাতুন নূর : ৩১)। চোখের অনিষ্টতা সম্পর্কে নবি (স.) বলেন- দৃষ্টি শয়তানের তীরগুলোর একটি তীর। যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে তাকে হিফাযত করে আল্লাহ তাকে ঈমানের এরূপ নূর দান করেন যার স্বাদ সে অন্তরে অনুভব করে।
একজন রোযাদার বর্তমান সময়ের অশ্লীলতা ও বেহায়াপূর্ণ সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে নিজেকে দূরে রাখবে। অনুপম চরিত্র গঠনের প্রাঙ্গণ মুসলিম সংস্কৃতির সবুজ-শ্যামল ভূ-খণ্ড আজ পাশ্চাত্যের অশ্লীলতা ও বেহায়াপনার কৃষ্ণ সাগরে নিমজ্জিত। মুসলমান নামধারী তথাকথিত সভ্য ও সংস্কৃতিবান ব্যক্তিরা ঐ সমস্ত অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা মুসলমানদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছে। টিভির পর্দায় দেখা যায় একজন পুরুষ তার সর্বশরীর ঢেকে রেখেছে। কিন্তু একজন নারীর স্পর্শকাতর কয়েকটি অঙ্গে মাত্র তিন-চার ইঞ্চি কাপড় রেখেছে, শরীরের অধিকাংশই উলঙ্গ। অর্ধ-উলঙ্গ নারীর অঙ্গ-ভঙ্গি, প্রেম কাহিনী, নাচ-গান সর্বদা আমাদের যুবসমাজের মধ্যে যৌন উম্মাদনা সৃষ্টি করে চলেছে। বর্তমানে সবচেয়ে যেটি ধ্বংসাত্মক এবং চরিত্র বিধ্বংসী হিসেবে সর্বগ্রাসী তা হল পর্নোগ্রাফি। পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে যৌনাচারকে সমাজে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। মুসলমানদেরকে ঈমানের পথ থেকে খারিজ করার এটি প্রধান হাতিয়ার। শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে অশ্লীল পর্নোগ্রাফি উন্মুক্ত থাকবে এটি সত্যিই দুঃখজনক। একজন মুমিন অবশ্যই নোংরা ফিল্ম, অশ্লীল টিভি সিরিজ এবং পর্নোগ্রাফি থেকে নিজ দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এটাই রোযার দাবি।
কানের রোযা : মুমিনের কানও রোযা রাখবে। অর্থাৎ তার কান নোংরা ও অশ্লীল কথা শোনা থেকে বিরত থাকবে। অবৈধ প্রেম ও ব্যাভিচারের দিকে আহবানকারী এবং অশ্লীল বিষয়বস্তু সম্পন্ন গান-বাজনা শোনা থেকে বিরত থাকবে। টিভি অন করলেই অশ্লীল নৃত্যসহ অবৈধ প্রেম ও ব্যাভিচারে দিকে প্রলুব্ধকারী গান শোনা যায়। হাট-বাজার, পাড়া-প্রতিবেশি, প্রতিটি দোকানে সর্বদা টিভি চালু থাকে। পাড়ায় পাড়ায় বরফ বিক্রেতা ও অন্যান্য সওদা বিক্রেতার মাইকে অহরহ একই প্রকৃতির গান শোনতে পাওয়া যায়। এই সমস্ত গান শুনে একজন যুবকের মনে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তখন ইভটিজিং এর দিকে ধাবিত হয়। একজন মুমিনকে এ সমস্ত গান শুনা থেকে বিরত থাকতে হবে। আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামিন কিয়ামতের দিন কানেরও হিসেব নিবেন। আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামিন সূরাতু বানী ইসরাঈলের ৩৫ নম্বর আয়াতে বলেন- “ইন্নাস সাম‘আ ওয়াল বাসারা ওয়াল ফুওয়াদা কুল্লু উলায়িকা কানা মাসউলা” অর্থাৎ নিশ্চয় কান, চোখ ও অন্তর এদের প্রত্যেকটিই জিজ্ঞাসিত হবে। আবূ যুর‘আহ আর রাযি (র.) বাজারে চলা ফেরার সময় যেখানে গান-বাজনার আওয়াজ শুনতে পেতেন তথায় তিনি কানে আঙ্গুল দিয়ে চলতেন। (তারিখু বাগদাদ, ১০ম খণ্ড, পৃ. ৩৩২)। কাজেই একজন মুমিন রোযা অবস্থায় শরিয়াহ পরিপন্থি কথা-বার্তা শুনা থেকে অবশ্যই বিরত থাকবেন।
হাত ও পায়ের রোযা : মুমিনের হাতও রোযা রাখবে অর্থাৎ তার হাত দ্বারা হারাম বস্তু ধারণ করবে না এবং গ্রহণ করবে না। যে নারীকে স্পর্শ করা হারাম তাকে সে হাত দ্বারা স্পর্শ করবে না। তার হাত দ্বারা কাউকে আঘাত করবে না, সুদ, ঘুষ, চুরি, ভেজাল বা অন্য কোন হারাম পন্থায় অর্থ লেনদেন করবে না। অনুরূপভাবে সে তার পা দ্বারা অন্যায় পথে চলবে না। একজন ব্যক্তি তার হাত ও পা দ্বারা যে ধরনের অপকর্মই করুক না কেন কিয়ামতের দিন তার হাত ও পা সবকিছুই স্পষ্ট করে আল্লাহর দরবারে বলে দিবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সূরাতু ইয়াসিন এর ৬৫ নম্বর আয়াতে বলেন-“আল ইয়াওমা নাখতিমু ‘আলা আফওয়াহিহিম ওয়া তুকাল্লিমুনা আয়দিহিম ওয়া তাশহাদু আরজুলুহুম বিমা কানূ ইয়াকসিবূন” অর্থাৎ আজ আমি তাদের মুখে মোহর মেরে দিব, তাদের হাতগুলো আমার সাথে কথা বলবে এবং তাদের পাগুলো তাদের কৃতকর্মের সাক্ষ্য দিবে। অতএব একজন প্রকৃত রোযাদার তার হাত ও পাকে সকল প্রকার অপকর্ম থেকে সংযত রাখবে।
পেটের রোযা : মুমিন ব্যক্তির পেটও রোযা রাখবে অর্থাৎ হারাম খাদ্য আহার থেকে সে বিরত থাকবে। সুদ, ঘুস, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, প্রতারণা, জ্বাল টাকার ব্যবসা ইত্যাদির মাধ্যমে উপার্জিত মাল দ্বারা সাহরি ও ইফতারিসহ সকল প্রকার পানাহার পরিহার করবে। হারাম রুজির মাধ্যমে যে রক্ত-মাংস তৈরী হবে তা দ্বারা কোন ইবাদত কবুল হয় না। (মুসনাদু আবি ইয়ালা)। হযরত আবু হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে নবি (স.) বলেন-“এক ব্যক্তি দীর্ঘ সফরে থাক অবস্থায় এলোমেলো চুল ও ধূলিধূসরিত দেহ নিয়ে আকাশের দিকে দুহাত তুলে হে প্রভু! বলে দোয়া করে, অথচ সে যা খায় তা হারাম, যা পান করে তা হারাম, যা পরিধান করে তা হারাম এবং হারামের দ্বারাই সে পুষ্টি অর্জন করে। তার মুনাজাত কিভাবে কবুল হতে পারে”! (সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ১০১৫)। হযরত সাদ (রা.) রাসূল (স.) এর নিকট আরজ করলেন- হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন আমার দোয়া কবুল হয়। রাসূল (স.) বললেন- হে সাদ! তোমার উপার্জনকে হালাল রাখ, তোমার দোয়া কবুল হবে। মনে রেখ, কেউ যদি হারাম খাদ্যের এক লোকমাও মুখে নেয় তাহলে চল্লিশ দিন যাবত তার দোয়া কবুল হবে না। (আল ইমাম আত তাবারানি, মুজামুল আওসাত)।
অপর এক হাদিসে আছে, “যে ব্যক্তি দশ দিরহাম দিয়ে কোন কাপড় ক্রয় করল এবং তার মধ্যে এক দিরহাম অসৎ উপায়ে অর্জিত সে যতদিন ঐ কাপড় পরিহিত থাকবে ততদিন তার নামায কবুল হবে না”। আল ইমাম ইবনুল ওয়ারদ বলেন- তুমি যদি জিহাদের ময়দানে যোদ্ধা হিসেবে অথবা প্রহরী হিসেবে নিয়োজিত থাক তবুও কোন লাভ হবে না যতক্ষণ না তুমি যা খাচ্ছ তা হালাল না হারাম তা বিবেচনায় রাখ।
সূফিদের মতে হালাল খাদ্য হলেও ইফতারের সময় উদরপূর্তি করে খাওয়া ঠিক নয়। কেননা এতে রোযার উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। রোযার উদ্দেশ্য হল কামভাব ও পশুবৃত্তিকে দমন করা এবং নুরানি শক্তিকে বৃদ্ধি করা। আল ইমাম আল গাযালি (র.) বলেন- রোযার উদ্দেশ্য হল শয়তান এবং নফসকে দমন করা। কিন্তু ইফতারের সময় যদি সে বেশি খায় তবে এর উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়। এতে আমরা শুধু আহারের সময় পবির্তন করলাম মাত্র। আমরা রমযাননের অন্য মাসের চেয়ে বেশি পরিমাণে খাদ্যসামগ্রীর আয়োজন করি এবং দিনভর উপবাস থেকে মজার খানায় ঝাপিয়ে পড়ি। এটা নিঃসন্দেহে কামভাবকে দমন না করে সেটিকে আরো উত্তেজিত করে। নবি (স.) বলেন- শয়তান তোমাদের শিরা-উপশিরায় চলাচল করে। কাজেই ক্ষুধার দ্বারা তার গতিবিধি বন্ধ কর। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তৃপ্ত থাকলে নফসের লালসা বৃদ্ধি পায়, আর নফস অতৃপ্ত থাকলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পরিতৃপ্ত থাকে।
অতএব কেউ যদি যথাযথভাবে রোযা রাখে তবে তার দ্বারা কোন অপরাধ সংঘটিত হতে পারে না। আমরা যেন আমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে সংযত রেখে প্রকৃত রোযাদার হতে পারি আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে সেই তাওফিক দান করেন।
* লেখক : অধ্যক্ষ, শংকরবাটী হেফজুল উলুম এফ. কে. কামিল মাদরাসা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ