ঢাকা, বুধবার 21 June 2017, ০৭ আষাঢ় ১৪২8, ২৫ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রূপসায় জনবসতিতে কার্বন কোম্পানি

* শ্বাসকষ্ট ও গর্ভবতীরা হুমকিতে
* পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান নিয়ে প্রশ্ন!
খুলনা অফিস: খুলনার রূপসা উপজেলা তিলক স্বল্প বাহিরদিয়া (টিএসবি) ইউনিয়নের তিলক গ্রামে প্রায় ১০ একর জমিতে গড়ে উঠেছে মিমকো কার্বন কোম্পানি। কারখানার ২০-২৫ গজের মধ্যে রয়েছে জনবসতিপূর্ণ এলাকা। শুরু থেকেই এই কোম্পানি স্থাপনে স্থানীয় বাসিন্দারা বিরোধিতা করে আসছিলেন। ওই সময় আন্দোলন, প্রতিবাদ ও বিভিন্ন দপ্তরের অভিযোগ দিলেও লাভ হয়নি। ঢাকা থেকে এই কোম্পানির পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনার কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।  স্থানীয় ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, এখানে কারখানা তৈরি হওয়ায় চার গ্রামের প্রায় ১৫-২০ হাজার লোকের স্বাস্থ্য হুমকির মুখে রয়েছে। কোম্পানির উৎপাদন কার্যক্রম থেকে নির্গত ধোঁয়ায় অনেকে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত  হয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উল্লেখিত কারখানার পাশেই উপজেলার তিলক, আমদাবাদ ও মাছুয়াডাঙ্গা গ্রাম। কারখানা থেকে অর্ধকিলোমিটার দূরে অবস্থিত আবদুল ওয়াদুদ মেমোরিয়াল (সিএসএস) হাসপাতাল। এছাড়া রয়েছে স্কুল ও মাদরাসা। উল্লেখিত কয়েকটি গ্রাম মিলে বসবাস রয়েছে ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষের। ২০১৩ সালে ২৬ সেপ্টেম্বর মিমকো কার্বন ফ্যাক্টরি বন্ধের জন্য রূপসা উপজেলা ৩নং নৈহাটি ইউনিয়ন ও ৪নং টিএসবি ইউনিয়ন বাসিন্দারা গণসাক্ষর করে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়, ঢাকা পরিবেশ অধিদপ্তর, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার, খুলনা বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও রূপসা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। ওই সব দপ্তরে পাঠানো আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়, এ ইউনিয়ন ২টি ঘনবসতি এলাকা। এই এলাকার তিলক গ্রামের দশ একর কৃষি জমি যা জনবসতিপূর্ণ। এখানে মিমকো ফ্যাক্টরি নামে একটি কার্বন ফ্যাক্টরি স্থাপন করা হয়েছে। যার মালিক এমডি ইউসুফ মোল্লা, পিতা-মৃত জামাল উদ্দীন মোল্লা, বাড়ি নং-৫৪, ফ্ল্যাট নং-১০, কলাবাগান, ২য় গলি, ধানমন্ডি ঢাকা।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওই সময় ১০৫টি চুল্লির মধ্যে ৪২টি চুল্লি স্থাপন করা হয়েছে। বাকীগুলোর কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। এখানে পাটখড়ি পুড়িয়ে ছাই তৈরি করা হচ্ছে। ওই সময় ৮টি চুল্লি উৎপাদনে ছিল। এলাকায় বয়স্ক লোকদের শ্বাসযন্ত্রের রোগের প্রকোপ বেড়ে গেছে। ওই কোম্পানির পাটখড়ি পোড়ানোর সময় নির্গত কালো ধোঁয়ার প্রভাবে এলাকার গাছ, মাটি, পানি খালসহ সব কিছুর ক্ষতি হচ্ছে। খাল-বিল ও পুকুরের পানি দূষিত, এলাকায় কৃষি জমি অনাবাদী হয়ে পড়বে, ফলের বাগার উৎপাদন ক্ষমতা হারানোসহ ক্ষতির দিকগুলো তুলে ধরে বন্ধের আহবান জানিয়েছিলেন।
ওই সময় উল্লেখিত ফ্যাক্টরির ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার জন্য ১২ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির একজন মাছুয়াডাঙ্গার বাসিন্দা কামরুল হাসান বলেন, ওই কোম্পানি বন্ধের করার জন্য আমরা ওই সময় বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেছি। এছাড়া ওই সময় মসজিদে মসজিদে কালো ধোঁয়ার ক্ষতির দিক মানুষের কাছে উপস্থাপন করা হয়। তখন এলাকাবাসী এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে আন্দোলন মিছিল সমাবেশ করেন। তিনি বলেন, ওই কোম্পানির মধ্যে ৪২ চুল্লি রয়েছে। যখন পাটখড়ি পোড়ানো হয় তখন নির্গত কালো ধোঁয়া বাতাসে এসে মানুষের শরীরের মধ্যে যাচ্ছে। এছাড়া চুল্লির বিষাক্ত লাল পানি রয়েছে সেটাই পুকুরে গিয়ে ফেলানো হচ্ছে। ওই পুকুরের মাছ খেলে  ধোমাধোমা গন্ধ বের হয়। মানুষের শ্বাসকষ্টও আগের চেয়ে বেড়ে গেছে। এতো কিছুর অভিযোগ দেওয়ার পর কোন এক অদৃশ্য কারণে কোম্পানিটি আর বন্ধ হয়নি। ওই সময় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রহমান এই কমিটিতে ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ