ঢাকা, বুধবার 21 June 2017, ০৭ আষাঢ় ১৪২8, ২৫ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ত্যাগ ও কুরবানিই রমযানের মূল শিক্ষা -শিবির সভাপতি

গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী পূর্ব শাখার উদ্যোগে এতিমদের সাথে নিয়ে ইফতার পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. ইয়াছিন আরাফাত -সংগ্রাম

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত বলেন, মাহে রমযান শুধু কোন ইবাদতই নয় বরং তা সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম হাতিয়ার। মাহে রমযান পরস্পর পরস্পরের প্রতি দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। যা সমাজিক ঐক্যকে আরো দৃঢ় করে। ত্যাগ ও কুরবানিই রমযানের মূল শিক্ষা।
তিনি গতকাল মঙ্গলবার ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী পূর্ব শাখার উদ্যোগে এতিমদের সাথে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। শাখা সভাপতি এস এম মিঠুর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক শাহ মাহফুজুল হক।
শিবির সভাপতি বলেন, বিভিন্ন কারনে আমাদের সমাজে ধনী-দরিদ্র বৈষম্য বিদ্ধমান। একটি মুসলীম প্রধান দেশে এমনটি হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামী অনুশাসনের অভাবে এই দুঃখজনক দৃশ্য দেখতে হচ্ছে। রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকসহ সর্ব ক্ষেত্রে ইসলামী অনুশাসন প্রতিষ্ঠা করলেই কেবল মাত্র এই দূর্দশা থেকে পরিত্রান পাওয়া সম্ভব। আর মাহে রমযান হলো সর্বক্ষেত্রে ইসলামকে অনুশীলনের শ্রেষ্ঠ সময়। প্রতি বছরের মত রহমত, বরকত ও মাগফেরাতের মাস পবিত্র রমযান আমাদের মাঝে আসে ত্যাগের শিক্ষা নিয়ে। কিন্তু সমাজে বিত্তবানদের ত্যাগের নজির কমই নজরে পড়ে। রোজার শিক্ষা কিন্তু এটা নয়। রোজার প্রকৃত শিক্ষা হলো অপরের জন্য বেশী বেশী ত্যাগ-কুরবানি করা। যারা আমাদের সমাজের আর্থ-সামাজিক দিক থেকে পিছিয়ে আছে ,যারা দু বেলা ঠিক মত খেতে পায় না তাদের পাশে দাঁড়ানোর এটা উত্তম সময়। পবিত্র রমজানে সমাজের বিত্তবান ও বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনকে হত দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সমাজে মানুষের মধ্যে শ্রেণী বিভেদ রেখে দুনিয়া বা আখেরাত কোন ক্ষেত্রে প্রকৃত সফলতা অর্জন সম্ভব নয়। মাহে রমযান সবাইকে ক্ষুদার্ত মানুষের কষ্ট বুঝার সুযোগ করে দেয়। কিন্তু সে সুযোগ কাজে লাগাছে না। ফলে সমাজের অবস্থারও পরিবর্তন হচ্ছে না। এ অবস্থার উত্তরণে মাহে রমযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মাহে রমযানের প্রতিটি মুহূর্ত অন্য যে কোন সময়ের তুলনায় অনেক বেশি মূল্যবান। সুতরাং আত্ম গঠন ও মানুষের কল্যাণে মাহে রমযানকে কাজে লাগাতে হবে। পবিত্র ঈদ উল ফিতর সমাগত। এই ঈদে যার যার আশে পাশের অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগ করে নেয়ার জন্য আমরা প্রতিটি নেতাকর্মীকে আহ্বান জানাচ্ছি। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ