ঢাকা, বুধবার 21 June 2017, ০৭ আষাঢ় ১৪২8, ২৫ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পঞ্চগড়ে বাইপাস সড়ক নির্র্মাণ কার্যক্রম শুরুতেই হোঁচট করতোয়া সেতুর ঝুঁকি বেড়েই চলেছে

পঞ্চগড়ের করতোয়া সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করছে যাত্রী ও মালবোঝাই ভারি যানবাহন

পঞ্চগড় সংবাদদাতা : পঞ্চগড় জেলা শহরকে যানজটমুক্ত রাখতে সর্বস্তরের মানুষের দীর্ঘ প্রত্যাশিত বাইপাস সড়ক নির্মাণ কার্যক্রম শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দের অভাবে এখনও প্রাথমিক কাজ শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। বাইপাস সড়ক নির্মাণের জন্য নতুন সড়ক তৈরি ও প্রশস্তকরণ দুইটি সেতু ও ১৭ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রায় ৪ বছর আগে ১২৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হয়। এরই মধ্যে সড়ক নির্মাণের জন্য মাটি পরীক্ষা-নিরিক্ষার কাজ করা হলেও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় সেতুর জন্য মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু করতে পারছে না তারা। এদিকে প্রতিদিনই নতুন করে ভারী যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় চলাচলের একমাত্র করতোয়া সেতুর ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। সেতুটি ভেঙ্গে পড়ে যে কোন সময় যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ার আশংকাও করছে সংশ্লিষ্টরা।
জেলা সদরসহ একটি বৃহত্তর অংশে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম করতোয়া সেতু। প্রায় ৩০ বছর আগে নির্মিত এই সেতুর ৭টি জয়েন্টের মধ্যে ৬টির অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন শত শত ট্রাক অনুমোদিত ওজন সীমার দ্বিগুণ পাথর, বালু, বৈদ্যুতিক পোল, রেল স্লিপারসহ বিভিন্ন ভারি পণ্য পরিবহনের কারণে সেতুর এ অবস্থা দেখা দিয়েছে। শুধু সেতু নয় ভারি যানবাহনের চাপে সময়ের অনেক আগেই নষ্ট হযে যাচ্ছে বিভিন্ন সড়ক। ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র করা হলেও রহস্যজনক কারণে উদ্বোধনের পর থেকেই কেন্দ্রটি বন্ধ রয়েছে। অতিরিক্ত ওজনের পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের জন্য ঝুঁকির পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতি বেড়ে চললেও নিয়ন্ত্রণে কারও কোন পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সেতুর ওপর চাপ ও যানজট কমাতে বাইপাস সড়ক নির্মাণ সংক্রান্ত সড়ক বিভাগের একটি প্রকল্পের ফাইল ৪ বছর ধরে সংশি¬¬ষ্ট অধিদপ্তরে ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে রয়েছে। জনগুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রকল্পটির অনুমোদন ও বাইপাস সড়ক দ্রুত নির্মাণের ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। বাইপাস সড়ক না থাকায় প্রতিদিন অতিরিক্ত পাথর, বালু সহ বিভিন্ন মালামাল বোঝাই শত শত ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করার কারণে করতোয়া নদীর ওপর নির্মিত সেতুটির ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি যানজটে জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২০১৪ সালের ২৫শে ডিসেম্বর সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা মহাসড়কের শিংপাড়া এলাকায় নির্মিত এক্সেল ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। কিন্তু অতিরিক্ত ওজনের পণ্য পরিবহনের জন্য শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রটির যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে যায়। কেউ কেউ বলছে নিম্নমানের যন্ত্রাংশ বসানোর কারণে বিকল হয়ে পড়ে। বিকল হয়ে যাওয়া কেন্দ্রটি এখনও সচল করা হয়নি। কেন্দ্রটির যান্ত্রিক ক্রটির কারণে যানবাহনে কি পরিমান মালামাল নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তা মাপা সম্ভব হচ্ছে না। ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত ওজনের পণ্যবাহী ট্রাকগুলো অবাধে চলাচল করছে। দৈনিক ৫ শতাধিক অতিরিক্ত মালবাহী ট্রাক ওই সেতু দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। এছাড়া বিভিন্ন স্থান থেকে অতিরিক্ত বিভিন্ন মালামাল বোঝাই ট্রাক আসে। এছাড়া সেতুটি দিয়ে দিনে- রাতে আরও কয়েকশ’ বাস, ট্রাক, ট্রাক্টর, মাইক্রোবাস, মোটর সাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন ও রিকশা-ভ্যান চলাচল করে। যে দিন বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে মালামাল লোড আনলোড হয় সেদিন যানবাহনের সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। অনেক সময় সেতুর এপার থেকে ওপার পর্যন্ত যানবাহন আটকা পড়ে। এতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজটের কারণে সেতু ও রাস্ত দিয়ে ঠিকভাবে চলাচল করা যায়না। অতিরিক্ত মালামাল পরিবহনের কারণে শুধু সেতু নয় সড়কও দুর্বল হয়ে পড়ছে। কিছুদিন পর পর সেতুর বিভিন্ন স্থানে মেরামত করতে দেখা যায়। বেশি মালামাল পরিবহনের জন্য ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে কারও কোন ভূমিকা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।  সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানান, বাইপাস সড়ক নির্মাণ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প তৈরি করে অনুমোদনের জন্য প্রায় ৪ বছর আগে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হয়। বাইপাস সড়ক নির্মাণ করতে হলে সদর উপজেলার মীরগড় সড়ক দিয়ে ৩ কিলোমিটার রাস্তা চওড়া ও সাড়ে ৪ কিলোমিটার নতুন রাস্তা নির্মাণসহ আমতলা করতোয়া নদীর উপর ৩০০ মিটার ও চাওয়ায় নদীর উপর ১৩০ মিটারের দু’টি সেতু করতে হবে। এছাড়াও অধিগ্রহণ করতে হবে ১৭ হেক্টর জমি। সব মিলিয়ে খরচ হবে ১২৭ কোটি টাকা। এদিকে, পঞ্চগড় সড়ক ও জনপথ কার্যালয়ে দেড় বছর ধরে নিয়মিত নির্বাহী প্রকৌশলী নেই। বর্তমানে নীলফামারীর নির্বাহী প্রকৌশলী অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ৪ জন সহকারী প্রকৌশলীর মধ্যে ২টি পদ শূন্য রয়েছে। কার্যসহকারীর ৫টি পদের মধ্যে ৫ জনই নেই। এ অবস্থায় সার্বিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পঞ্চগড় সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী তানভির আলম বলেন, করতোয়া সেতুর বিভিন্ন সময় মেরামত কাজ করা হয়েছে। সেতুর ৬টি জয়েন্টের কাজ করা প্রয়োজন। বাইপাস সড়ক নির্মাণের জন্য আমতলা করতোয়া ও চাওয়ায় নদীর উপর সেতু করার জন্য বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য এখনও বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে ঊর্র্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে ২৫ মেট্রিক টন পর্যন্ত মালামাল মাপার যন্ত্রাংশ বসানো হয়। কিন্তু ৬ চাকার ট্রাকে সর্বোচ্চ ওজন সীমা ১৫ মেট্রিক টনের স্থলে ২৫ থেকে ৩০ টন এবং ১০ চাকার ট্রাকে ২২ মেট্রিক টনের স্থলে ৪০ থেকে ৪৫ টন পর্যন্ত পাথর ও বালু অবাধে পরিবহন করা হচ্ছে। ট্রাকের আলাদা ওজন তো রয়েছেই। ১০ চাকার ট্রাকের ওজন ও বহনকৃত মালামালসহ মোট ওজন দাঁড়ায় প্রায় ৭০ টন। ফলে নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের মেশিন কাজ করছে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ