ঢাকা, রোববার 25 June 2017, ১১ আষাঢ় ১৪২8, ২৯ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রংপুর ও মৌচাকে সড়ক দুর্ঘটনায় ২০ জন নিহত ॥ আহত ১৬

 

সংগ্রাম ডেস্ক : রংপুর ও গাজীপুরে দুটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ২০ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই পোশাক শ্রমিক এবং লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের অধিবাসী। গতকাল ভোরে প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কলাবাগানে। একটি সিমেন্ট বোঝাই ট্রাকে করে ২০-২৫ জন যাত্রী বাড়ি ফেরার পথে উল্লিখিত স্থানে ট্রাকটি উল্টে গেলে ১৬ জন নিহত ও ৮ জন আহত হন। অপর দুর্ঘটনাটি গাজীপুরের মৌচাকে ঘটে। গতকাল দুপুরে মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ জন আহত হন। আহতদের হাসপাতালে নেয়ার পথে ৪ জন মারা যান বলে আমাদের কালীয়াকৈর সংবাদদাতা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান।

রংপুর অফিস : রংপুরের পীরগঞ্জের কলাবাগানে চালকের ভুলে সিমেন্ট ভর্তি ট্রাক উল্টে শিশু ও দুই নারীসহ নিহত হয়েছেন ১৬ জন। আহত হয়েছেন ৮ জন। এরা সবাই ঈদ উদযাপনের জন্য গাজিপুর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানান, ঘুমন্ত চোখে চালকের বদলে হেলপারের গাড়ি চালানোর কারণেই এই দুর্ঘটনা। 

রংপুর হাইওয়ে পুলিশের এএসপি ধীরেন্দ্র নাথ চন্দ্র জানান, গাজীপুর থেকে রানা এন্টারপ্রাইজের একটি ট্রাক (রংপুর-ট-১১-০৩২৮) ২৯০ সিমেন্ট ব্যাগের ওপর প্রায় ৪০ জন যাত্রী নিয়ে রাতে রওয়ানা দেয়। ভোড় সাড়ে ৫টার দিকে কলাবাগান এলাকায় চালক তন্দ্রাচ্ছন্ন থাকায় গাড়িটি মহাসড়কের পাশে উল্টে যায়। এতে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলে ১১ জন এবং পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৫ জন মারা যান। গুরুতর আহত ৮ জনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি জানান, এরা সবাই পোশাক শ্রমিক। তাদের সবার বাড়ি লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায়। 

তিনি বলেন, স্থানীয়দের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ উদ্ধার তৎপরতা চালায়। এ ঘটনায় ওই মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ২ ঘন্টা পর স্বাভাবিক হয়। তিনি বলেন লাশগুলো এখন বড়দরগা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে আছে। তিনি আরও জানান, হেলপার ও চালক পলাতক আছে। ট্রাকের মালিকদের ট্রেস করার চেষ্টা চলছে। 

হাইওয়ে পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া মৃতদের নাম হচ্ছে লালমনিরহাটের কালিগঞ্জের  চাপারহাটের উত্তর বত্রিশখালী গ্রামের আনছার আলীর পুত্র জমিলা খাতুনের স্বামী ঝন্টু মিয়া (৪২), তার ৯ বছরের কন্যা সুবর্না, আহম্মেদ আলীর পুত্র কোহিনুর ইসলাম বাবু (৩৬), শাহাপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের পুত্র মনজু মিয়া (৪৮), লতাবর এলাকার মফিজ উদ্দিনের আলমগীর (৩৫), চব্বিশ হাজারী গ্রামের আশরাফুল ইসলামের পুত্র শহিদুল ইসলাম (৩২), চাপারহাটের মনোয়ার হোসেনের পুত্র মনির হোসেন(২৩), তাহের উদ্দিনের পুত্র মহসিন আলী (২৮), আইয়ুব আলীর পুত্র সাদ্দাম হোসেন (৩৪), সৈয়দ আলীর পুত্র দেলোয়ার হোসেন (২৪), আদিতমারির মহিশখোচা এলাকার আব্দুল খালেকের পুত্র রবিউল ইসলাম (২২), বড়াইবাড়ির আইয়ুব আলীর পুত্র আজিজুল ইসলাম(৩৪), ঝিনাইদহের শৈলকুপার নিজগ্রামের আনিছুজ্জামান (৪৫) এবং তার সামসুন্নাহার (২৮), ময়মনসিংহের ভালুকার বালুজার এলাকার সিরাজ উদ্দিনের পুত্র জসিম উদ্দিন (৩৫) এবং  কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ির নওয়াব আলীর কন্যা নাসিদা আখতার (২২)। 

বেঁচে যাওয়ারা জানিয়েছেন নিহতরা গাজিপুরের ডিজিটাল স্টাইল ক্যাপসহ বিভিন্ন পোশাক কারখানা ও কৃষি কাজের শ্রমিক। তাদের বাড়ি লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ, আদিতমারী ও কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি এলাকায়। হতাহতদের পরিবারে এখন শুধুই শোকের মাতম।

কালিয়াকৈর সংবাদদাতা : ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক হাইড্রো অক্সাইড লিমিটেড নামক পোশাক কারখানার সামনে শনিবার দুপুরে ট্রাক-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়েছেন। হাসপাতালে নেয়ার পথে ৪ জন নিহত হয়েছে। 

নিহতদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও একজন মহিলা। তাদের মধ্যে একজনের নাম আবু বকর (৩০)। বাকি দুই জন অজ্ঞাত (৪০) ও (৩০)। অপর জন অজ্ঞাত মহিলা (২৫)। তাদের নাম পরিচয় পাওয়া যায় নি।

আহতদের মধ্যে রাসেল (২৩) শহিদুল (৪৫), শুভ (১৫) ইভা (২৫), অভিকে (১২) গাজীপুরের শহীদ তাজ উদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা দেয়া হয়।

কোনাবাড়ি-সালনা হাইওয়ে থানার ওসি কাজী মুহাম্মদ হোসেন সরকার ও স্থানীয়রা জানান, দুপুর ১টার দিকে মৌচাক এলাকায় চন্দ্রাগামী যাত্রীবাহী লেগুনার সঙ্গে গাজীপুরগামী গরু বোঝাই একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এতে কমপক্ষে লেগুনার ১২ জন যাত্রী আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখান থেকে গুরুতর আহত এক নারী ও এক শিশুসহ ৫ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপালে রেফার্ড করা হয়েছে। 

এদিকে আহতদের এ হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এক মহিলা ও অজ্ঞাত দুই পুরুষকে মৃত ঘোষণা করে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় আবু বকর ও ফরিদাকে (৩৫) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপালে রেফার্ড করা হয়েছে। বাকিদের এ হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা দেয়া হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপালের পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ এসআই বাচ্চু মিয়া জানান, আবু বকরকে মৃত অবস্থায় এ হাসপাতালে আনা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ