ঢাকা, শুক্রবার 30 June 2017, ১৬ আষাঢ় ১৪২8, ৫ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল আরো ২৫ জনের

সংগ্রাম ডেস্ক : সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। গতকাল বৃহস্পতিবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৫ জন নিহত ও ৭২ জন আহত হয়েছেন। এর আগের দিনও ২৪ জন নিহত হয়েছেন। গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে বাস-মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের পাঁচজনসহ নিহত হয়েছেন ৬ জন এবং আহত হন ২৭ জন। টাঙ্গাইলে সকালে হাঁটতে বেরিয়ে রাস্তায় মাইক্রোর ধাক্কায় দুই নারী নিহত ও এক নারী আহত হন। সিরাজগঞ্জে বাস-মাইক্রোর সংঘর্ষে একই পরিবারের ৩ জনসহ নিহত হন ৪ জন এবং আহত হন আরো ২ জন। ধামরাইলে লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্স নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা খেলে চালকসহ নিহত হন দু’জন এবং শিশুসহ আহত হন ৬ জন। শাহজাদপুরের তালগাছি এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন দু’জন, রাজশাহীতে গত ৭ দিনে প্রাণ গেছে ৭ জনের এবং আহত হয়েছেন ৮ জন, বগুড়ার আদমদীঘিতে ট্রাক-ইজিবাইক সংঘর্ষে আহত হন ১০ জন। এছাড়াও চট্টগ্রামের সীতাকু-ে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষে ডিজে পার্টির ১৪ জন আহত হন। ভেড়ামারায় গত মঙ্গলবার দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত ও ৪ জন আহত হয়েছেন বলে আমাদের সংবাদাতারা জানান।

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় বাস-মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের পাঁচজনসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৭ জন। 

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহসড়কের পঞ্চবটি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

কাশিয়ানী থানার ওসি একেএম আলী নূর হোসেন জানান, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। এঘটনায় আহত হন প্রায় ৩০ জন। আহতদের মধ্যে ১০ জনকে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।

নিহতদের মধ্যে পাঁচজন একই পরিবারের সদস্য বলেও জানান তিনি। অপরজন মাইক্রোবাসের চালক বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হতাহতদের বিস্তারিত নাম পরিচয় জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের সবার বাড়ি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে।

ওসি বলেন, সেবা গ্রীনলাইন পরিবহনের বাসটি গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকার দিকে আসছিল। মাইক্রোবাসটি ঢাকা থেকে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। পথে দুটির মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার পর মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার পাশে একটি খাদে পড়ে যায়। নিহতদের শরীর ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে যায়। তাদের কারো কারো মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে শরীরের বিভিন্ন অংশ পড়ে আছে। 

নিহতদের একজনের পকেটে একটি মোবাইল পায় পুলিশ। সেখান থেকে একটি নাম্বারে ফোন দিয়ে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহতদের বাড়ি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে।

কাশিয়ানী থানার ওসি এ কে এম আলীনূর হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে কাশিয়ানী উপজেলার গেড়াখোলায় হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন বাগেরহাটের হালিম আকন (৪০), তার স্ত্রী আসমা বেগম (৩৫), ছেলে সুজন (১৭) ও শিহাব (৮), শ্যালক বাদশা ফরাজি (৩৭) ও অজ্ঞাতপরিচয় চালক।

সৌদি প্রবাসী হালিম দেশে ফেরার সময় ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে তাকে আনতে গিয়েছিল পরিবারের সদস্যরা। হালিম বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালি ইউনিয়নের খুড়িয়াখালি গ্রামের বাসিন্দা।

ওসি হোসেন বলেন, সেবা গ্রিনলাইনের একটি বাস গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে মাইক্রোবাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনায় আহত অন্তত ১০ জনকে মকছেদপুর ও কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ আশপাশের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

হাঁটতে বেরিয়ে মাইক্রোর ধাক্কায় টাঙ্গাইলে নিহত ২ নারী

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে সকালে হাঁটতে বেরিয়ে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে; এ দুর্ঘটনায় আহত হন আরও এক নারী।

ধনবাড়ীর নিজবর্ণী এলাকার টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়কে সকাল ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে ধনবাড়ী থানার ওসি মজিবর রহমান জানান।

নিহতরা হলেন - নিজবর্ণী এলাকার বাবুল বকলের স্ত্রী রেবা বেগম (৩২) ও বেলুটিয়া এলাকার মজিদের স্ত্রী সাহাতন (৫০)।

আর আহত ওবায়দা বেগমকে (৪০) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি একই উপজেলার বউলা এলাকার আব্দুল্লাহ আল মামুন জুয়েলের স্ত্রী।

মজিবর বলেন, “সকালে তিন নারী টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়কে ফুটপাত দিয়ে হাঁটছিলেন। এ সময় নিজবর্ণী এলাকায় জামালপুরাগামী একটি মাইক্রোবাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে মাইক্রোবাসটি ফুটপাতে উঠে পড়ে। মাইক্রোবাসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই এক নারীর মৃত্যু হয়।”

পরে আহত অবস্থায় বাকি দুইজনকে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে আরেকজনকে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন বলে জানান তিনি।

সিরাজগঞ্জে বাস-মাইক্রো সংঘর্ষে নিহত ৪

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ চারজনের মৃত্যু হয়।

বুধবার রাত ২টার দিকে হাটিকুমরুল-বগুড়া মহাসড়কের রয়হাটি এলাকায় এ দুর্ঘটনায় আরও দুইজন আহত হন বলে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল কাদের জিলানি জানান।

নিহতরা হলেন - বগুড়ার কাহালু উপজেলার দামগাড়া গ্রামের বাসিন্দা মালয়েশিয়া প্রবাসী হারুনুর রশিদের বাবা সোলায়মান হোসেন (৬৫), হারুনের স্ত্রী লিলি আক্তার (৩৫), ছেলে সাগর (১২) ও মাইক্রোবাসের চালক পাবনা বেড়ার আক্কাস আলীর ছেলে আব্দুল খালেক (৩২)।

হারুনের আরেক ছেলে সবুজ (১৮) ও ভাগ্নে মনসুর রহমান এ দুর্ঘটনায় আহত হন।

ওসি জানান, হারুন ছুটিতে মালয়েশিয়া থেকে দেশে আসায় পরিবারের সদস্যরা তাকে আনতে বগুড়া থেকে মাইক্রোবাস নিয়ে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে যাচ্ছিলেন।

রাত ২টার দিকে তাদের মাইক্রোবাস রায়গঞ্জ উপজেলার রয়হাটিতে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও তিনজন। তাদের সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মাইক্রোবাসের চালকেরও মৃত্যু হয় বলে জানান ওসি।

মানিকগঞ্জ সংবাদদাতা : ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাই উপজেলার বাথলী এলাকায় লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্স নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে চালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন।  এঘটনায় শিশুসহ কমপক্ষে ৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গোলড়া হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, গত বুধবার সকাল ১০ টার দিকে মহাসড়কের বাথলী এলাকায় ফরিদপুরগামী লাশবাহী ওই এ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে একটি বড় গাছের সাথে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলেই ওই এ্যাম্বুলেন্সের চালক নিহত হন। চালকের নাম পরিচয় জানা যায়নি। আহতদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থান সেলিনা নামের এক যাত্রী নিহত হয়।

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : শাহজাদপুর উপজেলার তালগাছী নামক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- আনোয়ার হোসেন (২৭) ও শরিফুল ইসলাম (২৯)। ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার সকাল ৮ টায়। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কে তালগাছী নামক ওই স্থানে পাবনা থেকে ঢাকাগামী ‘পাবনা এক্সপ্রেস’ নামের একটি কোচ ওই ২ জন মটর সাইকেল আরোহীকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। পরে শাহজাদপুর থানা ও হাইওয়ে পুলিশ নিহতদের লাশ উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। কোচটিকে পুলিশ আটক করেছে। কোচের ড্রাইভার ও হেলপার পলাতক রয়েছে। নিহত আনোয়ার হোসেন বালসাবাড়ি (দাদপুর) এলাকার সরোফ আলীর পুত্র এবং শরিফুল ইসলাম একই এলাকার সাহেব আলীর পুত্র বলে জানা গেছে। 

রাজশাহী অফিস : রাজশাহী অঞ্চলে ঈদের আগে ও পরে সাত দিনে বিভিন্নস্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় আরো ৭/৮ জন আহত হন। 

সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে পুঠিয়ার বানশ্বরের পোল্লাপুকুর এলাকায় ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই চাচা-ভাতিজা জন নিহত হন। পুলিশ জানায়, একটি মাছবাহী ট্রাক ঢাকার দিকে আর মোটরসাইকেলটি রাজশাহীর দিকে আসছিলো। পথে বানেশ্বরে এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, রাজশাহী নগরের বোয়ালিয়া থানার রামচন্দ্রপুর এলাকায় আবদুল লতিফের ছেলে তুষার ও একই এলাকার নাজমুলের ছেলে শাহীন। ট্রাকটি (ঢাকা মেট্রো-ট-১৩-৩৮৬৩) জব্দ করা হলেও ড্রাইভার ও হেলপার পালিয়ে যায়। এর আগে গত শুক্রবার (২৩ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মোহনপুর উপজেলার বিদ্যাধরপুরের তালিতলা ব্রিজ এলাকায় রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে দুর্ঘটনায় রাজশাহীর সায়েন্স ল্যাবরেটরীর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুনসুর রহমান নিহত হন। আহত হন ড্রাইভার শরিয়ত হোসেন। বুধবার রাজশাহী নগরীর ভদ্রা মোড়ে যাত্রীবাহী বাস ও অটোরিক্সার সঙ্গে সংঘর্ষে ঢাকার সাভারের কলমা এলাকার বাসিন্দা গার্মেন্টস কর্মী শরিয়তুল্লাহ (৪২) নিহত হন। এতে আরো তিনজন অটোরিক্সার আরোহী আহত হয়। মঙ্গলবার সকালে রাজশাহীর মোহনপুরে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বাসের ধাক্কায় হোটেল ব্যবসায়ী মুকুল হোসেন (৩৮) নিহত হয়। তিনি বাকশিমইল এলাকার লোকমান আলীর ছেলে। এসময় মুকুলের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশের এসআই আব্দুর রব গুরুতর আহত হন। তার দুই দিন আগে শনিবার ভোর ৬টার দিকে রাজশাহীর পুঠিয়ায় বিড়ালদহ মাইপাড়া বাজার সংলগ্ন লোহার ব্রিজের কাছে বালু বোঝাই ট্রাক ও আম বোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষে একজন শ্রমিক নিহত হয়। নিহত শ্রমিক হলেন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার জয়পুর গ্রামের ইনছার আলীর ছেলে ফিরোজ আহম্মেদ। এ দুর্ঘটনায় দুই ট্রাকের তিন জন আহত হয়।  

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা : কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বারো মাইলে বাস-পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন আমজাদ হোসেন (২৭) ও মাসুদ আলী (১৮)। আহত হয়েছেন অন্তত আরো ৪ জন। মঙ্গলবার (২৭ জুন) বিকেল ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, শিলাইদহ থেকে পিকনিক শেষে পিকআপযোগে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর যাওয়ার পথে কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কের ভেড়ামারা বারো মাইলে পৌঁছলে বিপরীতমুখী কুষ্টিয়াগামী একটি বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই পিকআপের ২ জন যাত্রী নিহত হয়। গুরুতর আহত হয় অন্তত ৪ জন। আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন খন্দকার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, নিহত আমজাদ ও মাসুদের লাশ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত ২ জনের বাড়িই কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়া গ্রামে।

আদমদীঘি (বগুড়া) সংবাদদাতা : বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের আদমদীঘি খাদ্য গুদামের নিকট ট্রাক ও ইজিবাইকের সংঘর্ষে মা-ছেলেসহ ১০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে উপজেলার কেশরতা গ্রামের আলহাজ্ব আব্দুস ছাত্তার (৬৪) তার পুত্রবধু আনজুয়ারা বেগম (২৯) নাতি সাদিক (৯) ও ডুমুরীগ্রামের মজনু মিয়া (৫২) কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তর করা হয়েছে। অপর আহতদের আদমদীঘি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পুলিশ ট্রাক ও ইজিবাইক আটক করলেও চালক পলাতক রয়েছে। 

জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঘটনাস্থলে বগুড়া থেকে সান্তাহার গামী ঢাকা মেট্রো-ট-১৮-১৮৩৪ নম্বর ট্রাকটির সাথে মুরইল গামী যাত্রী বোঝাই ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে স্বশুর পুত্রবধুসহ ১০ জন ইজিবাইকের যাত্রী আহত হয়। 

প্রত্যক্ষদর্শিরা জানান, ওই স্থানে একটি শ্রমিক সংগঠন ব্যারিকেট দিয়ে পিক-আপ, মিনি ট্রাক ও ভটভটি থেকে চাঁদা আদায়ের জন্য মিনিট্রাক আটকালে সান্তাহারগামী ট্রাকটি ওভার টেক করতে গেলে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রাজধানী : গুলিস্তান জিরো পয়েন্টে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে অটোরিকশার সংঘর্ষে একজন নিহত ও চারজন আহত হন। নিহত জামাল হোসেন (৪০) ওই অটোরিকশার চালক ছিলেন।

আহত মুফতী হাবিব উল্লাহ (৪৫), মো জাহাঙ্গীর (৩০), মো জামাল (৪২) ও উসমান (৩৫) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঢাকা মেডিকেল ফাঁড়ি পুলিশের এসআই বাচ্চু মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে কচুক্ষেত থেকে যাত্রাবাড়ী যাচ্ছিল অটোরিকশাটি। পথে গুলিস্তান জিরো পয়েন্টের সামনে একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে চালক ও চার যাত্রী আহত হন।

ট্রাফিক পুলিশ তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক জামালকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহত জাহাঙ্গীরের ভগ্নিপতি সুলতান জানান, মুফতি হাবিব উল্লাহ কচুক্ষেত আল-আমিন মসজিদের ইমাম। তার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে যাচ্ছিলেন জাহাঙ্গীর। আর জামাল ও উসমান মাছ বিক্রেতা।

সীতাকুন্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মিনি ট্রাকে বাদ্যযন্ত্র লাগিয়ে নেচে গেয়ে উল্লাস করার সময় সীতাকুন্ডে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে চালকসহ ১৪ কিশোর (ডিজে পার্টির সদস্য) গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বার আউলিয়া মাজারের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। আহতদের মধ্যে ৫ জনকে স্থানীয় ভাটিয়ারী বিএসবিএ হাসপাতালে এবং ৯ জনকে গুরুত্বর অবস্হায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতারে ভর্তি করা হয়েছে। আহত ১৪ জনের বাড়ি ফেনী বলে জানা গেছে।বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি সালেহ আহম্মেদ পাঠান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির কনেস্টেবল আমীর জানান, সীতাকুন্ডে মিনি ট্রাকের সাথে কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে আহত ৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন-মনছুর আলম শামীম (২৫), শাহেদ হোসেন (২৪) রেজাউল হক (২১), ক্ইায়ূম (১৫), নাজমুল হক (১৬), হায়দার (২০), রুমন (১৭), রাসেল (২০), নজরুল (১৫)।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফেনী থেকে ১৩ কিশোরের দল একটি মিনি ট্রাকে বড় বড় সাইন্ডবক্সে হাই ভলিয়মে গান বাজিয়ে ফেনী থেকে চট্টগ্রামে ভ্রমন করতে থাকে। ঈদ উপলক্ষে তারা এ ভ্রাম্যমাণ আনন্দ উৎসব করতে থাকে গত কয়েকদিন ধরে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা চট্টগ্রাম থেকে ফেনীর দিকে যাবার সময় বেলা তিনটার বার আউলিয়া এলাকা অতিক্রমকালে সোনাইছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে মহাসড়কের পাশে দাড়িয়ে থাকা একটি কার্ভাডভ্যান (ঢাকা-মেট্রো ১৩-৩২৬৩) কে মিনি ট্রাকটি (ফেনী ন ১১-০৭৮০) টি সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মিনি ট্রাকে থাকা ১৩ জন কিশোর ও চালকসহ ১৪ জন আহত হয়।বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার এসআই সবুর বলেন, দুপুর তিনটার দিকে দূর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করি। তাদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা আশংঙ্কাজনক বলে জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ