ঢাকা, বুধবার 26 September 2018, ১১ আশ্বিন ১৪২৫, ১৫ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ঝালকাঠিতে মাছ ধরার ফাঁদ 'চাই-বুচনা' তৈরির ধুম

অনলাইন ডেস্ক: বর্ষা মৌসুমকে কেন্দ্র করে ঝালকাঠির গ্রামে গ্রামে মাছ ধরার ফাঁদ 'চাই-বুচনা' তৈরির ধুম পড়েছে। চাহিদা বাড়তে থাকায় দিনরাত ব্যস্ত, জেলার তিন শতাধিক পরিবারের নারী-পুরুষ। নিপুণ হাতে তৈরি এসব ফাঁদ বিক্রি হচ্ছে জেলার ৩০টি হাটে। প্রতিবছরের মতো এবারো ভালো বিক্রির আশা করছেন কারিগরসহ সংশ্লিষ্টরা।

আর ক'দিন পরই নদী, নালা, খাল, বিলে নানা প্রজাতির দেশীয় মাছের উপস্থিতি বাড়বে। এই মাছ শিকারের জন্য জেলার গ্রামে গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে তৈরি হচ্ছে মাছ ধরার ফাঁদ। পরিবারের নারী পুরুষ থেকে শুরু করে শিশুরাও এ কাজে ব্যস্ত।

নানা আকার ও আঙ্গিকে তৈরি এ ফাঁদগুলোর রয়েছে বিভিন্ন নাম। কোনো টিকে বলা হয় চাই, কোনো টি বুচনা, কোনো টিকে গড়া কিংবা চরগড়া, আবার কোনো টির নাম খুচইন।

স্থানীয়রা বলেন, ১০০ টাকায় বাঁশ কিনে এনে দুই থেকে তিনটা করে বানানো সম্ভব হয়। জ্যৈষ্ঠ আষাঢ় শ্রাবণ ভাদ্র এই চার মাস বেচা বিক্রি হয়।

তারা আরও বলেন, এইগুলো দিয়ে চিংড়ী শিং বাইম মাছ সহ আরও বিভিন্ন প্রকারের মাছ ধরা সম্ভব হয়।

জ্যৈষ্ঠের মাঝামাঝি থেকেই সপ্তাহে অন্তত দু'দিন এসব ফাঁদ বিক্রি হচ্ছে শহরের টাউনহল সংলগ্ন সবচে বড় হাটে। একইসাথে, নলছিটি, ষাটপাকিয়া, নাচনমহলসহ জেলার ত্রিশটি হাটে উঠতে শুরু করেছে 'চাই-বুচনা'।

স্থানীয়রা বলেন, বৃষ্টি শুরু হওয়ার কারণে এইগুলো বিক্রি হবে। ২০০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হয়। যদি লোণ দেওয়া হত তাহলে এই চার মাসে এই ব্যবসা আরও ভালোভাবে করা সম্ভব হতো।

এদিকে, মৌসুমি এ পেশাকে কুটির শিল্পে সমৃদ্ধ করতে সবধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন বিসিক কর্মকর্তা।

 ঝালকাঠি বিসিকের  উপ-ব্যবস্থাপক বলেন, এই পেশায় যারা নিয়োজিত তাদের জন্যে আমাদের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের জন্যে আমরা স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করে থাকি।

প্রতিবছর বর্ষা থেকে শীত পর্যন্ত এসব ফাঁদ বিক্রি হয় বিভিন্ন হাট-বাজারে। সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও, জেলার সহস্রাধিক মানুষ এ মৌসুমি পেশায় জড়িত থেকে বছরের চারমাস জীবিকা নির্বাহ করে।-সময় টিভি

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ