ঢাকা, বুধবার 5 July 2017, ২১ আষাঢ় ১৪২8, ১০ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ফিলিস্তিন ইস্যুতে ভারতের নীরবতায় ইসরাইলের উল্লাস

সংগ্রাম ডেস্ক : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসরাইল সফরে ফিলিস্তিনের সঙ্গে কোন কর্মসূচি রাখেননি। এছাড়া ২০১৪ সালে গাজা উপত্যকায় সামরিক অভিযানের জন্য ইসরাইল বিশ্বের নিন্দার শিকার হলেও ভারত এই ইস্যুতে নীরবতা বজায় রাখে। এগুলোকে কেন্দ্র করে উল্লাস প্রকাশ করেছে ইসরাইলের গণমাধ্যমগুলো। আমাদের সময় কম।

মোদির সফরের আগে জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘২০১৪ সালের জুলাইতে জাতিসংঘে ইসরাইলের জন্য উত্থাপিত নিন্দা প্রস্তাবে ভারত ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকে। যা ভারতের পররাষ্ট্রনীতির রাজনৈতিক পরিবর্তনে প্রভাব ফেলেছে।’

ইসরাইলের আরেক পত্রিকা ‘হারতেজ’ এর মতামত পাতায় ‘কেন ভারত ফিলিস্তিনকে পাশ কাটিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে’ নিবন্ধতে বলা হয়, ‘ভারত ফিলিস্তিনের সঙ্গে কাগজে-কলমে বন্ধুত্ব বজায় রেখেছে কিন্তু সেটি দৃশ্যমান নয়। নয়াদিল্লী মাহমুদ আব্বাসকে ফিলিস্তিনি কৃর্তপক্ষ না বলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে সম্বোধন করে। কিন্তু মে’তে আব্বাসের ভারত সফর আদৌ কোন ফলপ্রসূ হয় নি এবং তিনি পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের ভবিষ্যত রাজধানী করার জন্য ভারতের সমর্থন পেতে ব্যর্থ হয়েছেন।’

এছাড়া রামাল্লাতে মোদির কোন কর্মসূচি না রাখা ও ফিলিস্তিনের কোন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা না করার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে ইসরাইলের গণমাধ্যমগুলো। এক পত্রিকার সম্পাদকীয়তে বলা হয়, ‘এই সফরে ইসরাইল-ফিলিস্তিনের দ্বন্দ¦ মোদির কাছে কোন গুরুত্ব পায়নি।’

টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘তিন দিনের ইসরাইল সফরকালে মোদি রামাল্লা সফর বা কোন ফিলিস্তিনের নেতার সঙ্গে দেখা করবেন না। যদিও এটি ইসরাইলে সফররত বিশিষ্ট বৈদেশিক অতিথিদের জন্য সাধারণ বিষয়।’

এছাড়া ইসরাইলের অন্যান্য গণমাধ্যমগুলোর সম্পাদকীয় ও কলামে বলা হয়, ‘এই সফরে দুই দেশ ইসলামী চরমপন্থাসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে আলোচনা করবে।’ এতে আরো বলা হয়, ‘ভারতের বামপন্থীরা ইসরাইলকে ভারতের আমেরিকায় নতুন স্রাাজ্যবাদী প্রক্সি বলে মনে করলেও বিজেপি সমর্থক এবং ভারতের সাধারণ হিন্দুরা ইসরাইলকে একটি শক্তিশালী গণতন্ত্রের দেশ হিসেবেই দেখে আসছে।’

পত্রিকার কলামে বলা হয়, ‘বিজেপি এবং লিকুদ সরকারের সঙ্গে অনেক সাদৃশ্য রয়েছে। দুই দেশই ‘প্রকৃত জাতীয় পরিচয়’ এ বিশ্বাস করে। ভারতে হিন্দুত্ব এবং ইসরাইলে ইহুদী, এটি ধারণা গণতন্ত্রকে মজবুত করবে। এই সফরে দুই দেশই ‘জাতীয় পরিচয়’ সম্পর্কে তাদের সাদৃশ্যতা আলোচনা করবে।’

কৌশলগত গবেষণার জন্য ইসরাইলের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘বিগেইন-সাদাত সেন্টার এর সাবেক প্রধান এএফপিকে ইফরাহিম ইনবার বলেন, ‘ইন্দো-ইসরাইল বন্ধন বিশাল সামরিক চুক্তির চাইতেও বেশি কিছু। এটি চীন এবং ইসলামী চরমপন্থার বিরুদ্ধে একটি সাধারণ কৌশলগত এজেন্ডা। যদিও এই সফরে দ্বিপাক্ষিক বিপুল পরিমাণ অর্থনৈতিক লেনদেনকে এড়িয়ে যাওয়া যায় না।’

উল্লেখ্য, ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ২৫ বছর পর মঙ্গলবার ভারতের প্রথম কোন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তেল আবিব সফরে যাচ্ছেন মোদি। সেখানে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানইাহুর সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। নেতানিয়াহু মোদির এই সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে মন্তব্য করছেন। এছাড়া সফরের আগে মোদি ইসরাইলকে ‘বাতিঘর’ বলে উল্লেখ করেছেন।

মোদির ইসরাইল সফরে সাইবার প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, এই তিনটি ইস্যুতে আলোচনা চলবে। মাঝারি পাল্লার ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র, গোয়েন্দা প্রশিক্ষণ, ড্রোন এবং যোগাযোগের প্রযুক্তি সরবরাহ করবে ইসরাইলের সংস্থা। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ