ঢাকা, বুধবার 5 July 2017, ২১ আষাঢ় ১৪২8, ১০ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মরিচা পড়ে নষ্ট হচ্ছে ১৪৭ কোটি টাকার পাইপ

খুলনা : মরিচা পড়ে গ্যাস সঞ্চালন প্রকল্পের ১৪৭ কোটি টাকার গ্যাসের পাইপ নষ্ট হওয়ার উপক্রম -সংগ্রাম

খুলনা অফিস : খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আবাসিকে গ্যাস সংযোগ প্রদানের পরিকল্পনা থেকে সরকার সরে আসায় ২০১৬ সালের ৩০ জুন খুলনায় গ্যাস বিতরণ প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয় জ্বালানি মন্ত্রণালয়। এরপর থেকে প্রকল্পের সব কাজ বন্ধ রয়েছে। গত চার বছর ধরে একইস্থানে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে ১৪ কোটি টাকার পাইপ। এ অঞ্চলে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহের জন্য ৫৮৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প ২০০৯ সালের ২২ ডিসেম্বর একনেকে অনুমোদন পায়। প্রকল্পের আওতায় খুলনাসহ ৫টি শহরে গ্যাস বিতরণ নেটওয়ার্ক স্থাপনের জন্য ৮৪৫ কিলোমিটার পাইপ কেনা হয়েছিলো। এতে ব্যয় হয় ১৪৭ কোটি টাকা। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে খুলনায় এসে পৌঁছায়। কিন্তু প্রকল্পে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে পাইপগুলো স্থাপন করা হয়নি।

সরেজমিন নগরীর শিরোমনি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় এক একর জায়গা জুড়ে স্তুপ করে রাখা হয়েছে পাইপগুলো। সেখানে দুই ইঞ্চি থেকে ২০ ইঞ্চি পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাসের পাইপ আছে। রোদ-বৃষ্টিতে মরচে পড়ে পাইপগুলো রঙ হারিয়েছে অনেকদিন আগে। পাইপের গায়ে মরিচার পুরো স্তর জমেছে। একটু হালকা টান দিলেই মোটা স্তর ধরে মরচে হাতের টানে উঠে আসে। এভাবে নষ্ট হচ্ছে পাইপগুলো।

প্রকল্প অফিস থেকে জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের গ্যাস বিতরণের জন্য গঠন করা হয়েছিলো সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড। প্রকল্প শেষ হওয়ার পরে পাইপগুলো কোম্পানির অধীনে ন্যস্ত করা হয়েছে।

সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি থেকে জানা গেছে, গ্যাস বিতরণ প্রকল্পে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে পাইপগুলো কেনা হয়েছিলো। এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এই প্রকল্পে অর্থায়ন করেছিলো। তখন এডিবির পরামর্শে দুই দফা দরপত্র সংশোধন করা হয়। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে কাজ পায় চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লিওরিন নর্দান। তারা চীনেই পাইপগুলো তৈরি করে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে খুলনায় নিয়ে আসে। এতে মোট ব্যয় হয় ১৪৭ কোটি টাকা।

সূত্রটি জানায়, আফিল গেট এলাকার আফিল আহমেদের পরিত্যক্ত জমি ভাড়া নিয়ে পাইপগুলো রাখা হয়েছে। প্রায় এক একর জমিতে পাইপগুলো রাখা হয়েছে। এজন্য প্রতি মাসে ৫৫ হাজার হিসেবে বছরে যা ৭ লাখ টাকা ভাড়া দেয়া হয়। বর্তমানে সেখানে দুই ও চার ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ রয়েছে প্রায় ৫৫৮ কিলোমিটার। এছাড়া ২০ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ ৩০ কিলোমিটার, ১০ ইঞ্চি ব্যাসের ১০০ কিলোমিটার এবং ৮ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ রয়েছে ১৫০ কিলোমিটার।

সদ্য শেষ হওয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস নেটওয়ার্ক স্থাপন প্রকল্পের পরিচালক ও পিডিবির সিনিয়র জেনালে ম্যানেজার এস এম রেজাউল ইসলাম বলেন, আবাসিকে সংযোগ দেয়ার জন্যই পাইপগুলো কেনা হয়েছিলো। কিন্তু এখন আবাসিকে গ্যাস দেয়ার পরিকল্পনা নেই বলেই পাইপগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তারপরও পিডিবির বিভিন্ন কোম্পানিকে বলা হয়েছে-তারা তাদের গ্যাস নেটওয়ার্ক সংস্কার বা মেরামত কাজের সময় বাইরে থেকে পাইপ না কিনে এখান থেকে পাইপ নিতে পারবে।

তিনি বলেন, ১০ বছর পরও এই পাইপ ব্যবহার করা যাবে। খোলা আকাশের নিচে থাকায় মরচে পড়বে কিন্তু পাইপের গুনাগুণ নষ্ট হবে না। এরপরও পাইপগুলো স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান বলেন, কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানি কিছু পাইপ নিচ্ছে। আমরাও ৭৫ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপনের একটি ডিপিপি তৈরি করেছি। বাকি পাইপগুলো বিক্রির চেষ্টা চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ